উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
মিছবাহ উদ্দীন , লেখক ||
সংরক্ষিত বনাঞ্চল, নয়নাভিরাম কাপ্তাই লেক ও উঁচুনিচু সবুজ পাহাড়ে আচ্ছাদিত বাংলাদেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ পার্বত্য চট্টগ্রাম। সেই পার্বত্য চট্টগ্রামকে দেশের ভূখণ্ড থেকে বি'চ্ছিন্ন করার লক্ষ্যে বাঙালিদের উচ্ছেদ করার মহোৎসবে মেতে উঠেছিলো সন্ত্রা'সী সংগঠন জেএসএস এর প্রধান খু'নী সন্তু লারমা। তার নেতৃত্বাধীন সশ'স্ত্র শান্তিবাহিনী পার্বত্য চট্টগ্রামে চালিয়েছে নজিরবিহীন গণহ'ত্যা। সেই গণহ'ত্যাগুলোয় অন্তত পঁয়ত্রিশ হাজার নিরীহ বাঙালিকে হ'ত্যা করেছিলো খু'নী সন্তু লারমার শান্তিবাহিনী, যার কোনোও বিচার আজও হয়নি।বিচারহীনতার সেই সংস্কৃতি পাহাড়ে উপজাতীয় সন্ত্রা'সীদের আস্ফালন দিনদিন বাড়িয়ে তুলেছিলো। যার ধারাবাহিকতা আজও চলমান। পার্বত্য চট্টগ্রামে সন্ত্রা'সীরা গুম, খু'ন, অপ'হরণ, ধ'র্ষণ ও চাঁদাবাজির অভ'য়ারণ্য গড়ে তুলেছে। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মহলেও প্রতিনিয়ত লবিং করে যাচ্ছে পাহাড়কে অস্থিতিশীল করে বিচ্ছি'ন্নতার পথ সুগম করার জন্য। খু'নী সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন শান্তিবাহিনীর এমনই একটি নি'র্মম ও রক্তাক্ত অধ্যায়ের দলিল হলো খাগড়াছড়ির 'পানছড়ি গণহ'ত্যা'। যে গণহ'ত্যায় রক্তে রঞ্জিত হয়েছিলো বাঙালি গ্রাম গুলো।১৯৮৬ সালে ২৯ এপ্রিল দিবাগত রাত আনুমানিক ৯টা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত সময়ে খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ি উপজেলার লোগাং, চেঙ্গী, পানছড়ি, লতিবান, উল্টাছড়ি ৫টি ইউনিয়নের ২৪৫টি গ্রামের প্রত্যেকটি বাঙ্গালি গ্রামে অগ্নি সংযোগ সহ লুটতরাজ, সামনে বাঙ্গালী যাকে পেয়েছে তাকেই হ'ত্যা করেছে, বাঙ্গালী নারীদের গণধর্ষ'ণ ও পরে হ'ত্যা, নর'কীয়তা সৃষ্টি করেছিলো পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) এর সশ'স্ত্র সংগঠন শান্তি বাহিনীর সন্ত্রাসীরা।মাত্র কয়েক ঘন্টা সময়ে ৮৫৩ জনের অধিক নারী, শিশু, আবাল-বৃদ্ধ বনিতা নির'স্ত্র নিরীহ বাঙ্গালীকে হ'ত্যা করা হয়েছে, বাঙ্গালী নারীদের গণধ'র্ষণ ও পরে হ'ত্যা, আহত করা হয়েছে আরও ৫০০ জনের অধিক, অপ'হরণ ও গু'ম করা হয়েছে আরো কয়েক হাজার বাঙ্গালীকে। ৬২৪০টি বাড়ি লুটতরাজ করে সম্পূর্ন ভাবে পুড়িয়ে দেয়া হয়। গৃহহীন হয়েছেন হাজার হাজার পরিবার। খু'নি সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন শান্তি বাহিনীর গেরিলা যোদ্ধারা ও উপজাতি সন্ত্রা'সী হায়নারা সেদিন এতগুলো মানুষকে হত্যা করতে একটি বু'লেটও ব্যবহার করেনি।হাত-পা বেঁধে লাঠি দিয়ে পি'টিয়ে, দা-দিয়ে নি'র্মমভাবে কুপিয়ে জবাই করে, আ'গুন দিয়ে পুড়িয়ে, বেয়'নেট ও অন্যান্য দেশি অ'স্ত্র দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে নানা ভাবে কষ্ট দিয়ে হত্যা করেছিল এই অসহায় মানুষ গুলোকে। প্রতিটি লা'শকেই বি'কৃত করে সেদিন চরম অমা'নবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিল তারা। ঘটনাটি স্বচক্ষে দেখা এবং বেচে যাওয়া কিছু কিছু সাক্ষী আজো আছে কিন্তু ঘটনার কথা মনে পড়লে আজও তাদের গায়ের পশম খাড়া হয়ে যায়।পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) এর সশ'স্ত্র সংগঠন শান্তি বাহিনীর গেরিলা যোদ্ধা ও উপজাতীয় সন্ত্রা'সী হায়নার এ প্রক্রিয়া রোধ করতেই তৎকালীন সরকার বাধ্য হয় বাঙ্গালীদেকে স্ব-স্ব বসতভিটা, বাগান বাগিচা থেকে তুলে এনে গুচ্ছগ্রাম নামক বন্দী শিবিরে আটক করতে। এ প্রক্রিয়ায় তৎকালীন ১০৯ টি বাঙ্গালী গুচ্ছগ্রামে ৩১ হাজার ৬২০ পরিবারের ১ লাখ ৩৬ হাজার ২৫৭ জন বাঙ্গালীকে (বর্তমানে ৬,৫০,০০০ এরও বেশি)।সেখানেও হামলা থামেনি। চুতর্দিকে নিরাপত্তা বেষ্টনী সৃষ্টি করে ছোট্ট গুচ্ছগ্রামে সরকার পরিবার প্রতি একটি ২০ ফুট বাই ২০ ফুট বন্দী কুটিরের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে শুরু হয় গুচ্ছগ্রাম বাসীদের জীবন-জীবিকা। এতে বাঙ্গালীরা নিরাপত্তা পেলেও তাদের বসত ভিটা ও চাষের জমি হারাতে হয়। সেই আশির দশকের শেষভাগ থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত বাঙ্গালীরা আর তাদের সেই বসত ভিটা, বাগান বাগিচা ও আবাদী জমি ফেরত পায়নি।শান্তি বাহিনীর অব্যাহত হুমকির মুখে সেসব গ্রামের উপজাতীয় বাসিন্দাদের একটি বড় অংশ শরণার্থী হয়ে ভারতে যেতে বাধ্য হয়। যারা ভারতে যেতে রাজি হয়নি তাদের পার্শবর্তী বাঙ্গালী গ্রামগুলোতে শান্তি বাহিনী এমনভাবে হামলা করে যাতে বাঙ্গালীরা পাল্টা আঘাত দিয়ে পাহাড়ি গ্রামগুলোতে হা'মলা চালাতে বাধ্য হয়। এভাবেই শান্তি বাহিনী নিরীহ পাহাড়িদের ভারতে শরণার্থী হতে বাধ্য করে।পাহাড়ে এমন এক দুর্বিষহ নির্যা'তন, নিপীড়ন ও বঞ্চনার জীবন কাটাচ্ছে বাঙালিরা। এমন কোনো জুলুম, নির্যা'তন ও বৈষম্য নাই যা বাঙালিদের উপর করা হয়নি। বিশেষ করে বাঙালিদের উপর উপজাতীয় সশ'স্ত্র সন্ত্রা'সীদের পরিচালিত গণহ'ত্যাগুলো ইতিহাসের জঘ'ন্যতম অপ'রাধ ও লোমহ'র্ষক অধ্যায়। এই গণহত্যা গুলোর কোনোটির বিচার না হওয়ায় পরবর্তী গণহত্যাকে আরো উসকে দিয়েছে। ঘা'তক সন্ত্রা'সীরা দিবালোকের মতো চিহ্নিত ও প্রকাশ্য হলেও তাদের বিচারের পরিবর্তে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন করা হয়েছে। খু'নীদের বিচারের পরিবর্তে পুরষ্কৃত করার এই নির্মমতা গণহ'ত্যায় শহিদদের আত্মার সাথে গাদ্দারি ও বেইমানির শামিল। গণহ'ত্যায় ভাই হারানো বোন, মা হারানো সন্তান, স্বামী হারানো স্ত্রী ও সন্তান হারানো পিতা ন্যায় বিচারের প্রহর গুণছে আজও। বিচারের বাণী পাহাড়ে নিভৃতে কাঁদছে, কিন্তু বিচার পাওয়ার কোনো আশাটুকুও আর বেঁচে নেই। দীর্ঘ ৩ যুগ পরে এসে এই খুনীদের বিচার চাওয়াটা সময়ের দাবি। চিহ্নিত খু'নী সন্ত্রা'সী সন্তু লারমা ও তার সশ'স্ত্র বাহিনীকে বিচারের আওতায় এনে ফাঁ'সির কাষ্ঠে না ঝুলালে শহিদদের প্রতি অবিচার হবে। বর্তমান সরকারের প্রতি পাহাড়ের এই গণহত্যাগুলোর সুষ্ঠ বিচার দাবি করছে স্থানীয় বাঙালি ও ভুক্তভোগী পরিবারগুলো। লেখক: মিছবাহ উদ্দীনপার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক লেখক ও সংগঠক।