উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
নিউজ ডেস্ক ||
পবিত্র ঈদুল আজহার টানা ছুটিকে ঘিরে পর্যটকে মুখর হয়ে উঠতে যাচ্ছে পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি ও দেশের জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র সাজেক ভ্যালি। পাহাড়, মেঘ আর সবুজ প্রকৃতির টানে ঈদের ছুটিতে হাজারো ভ্রমণপিপাসু মানুষের আগমনের প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও ট্যুরিস্ট পুলিশ ইতোমধ্যে তিন স্তরের বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ঈদের পরবর্তী এক সপ্তাহে খাগড়াছড়ি ও সাজেক ভ্যালিতে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার পর্যটকের আগমন ঘটতে পারে। এ উপলক্ষে জেলার বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে সংস্কার, সৌন্দর্যবর্ধন ও অবকাঠামোগত উন্নয়নকাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।পর্যটকদের আকর্ষণের অন্যতম কেন্দ্র আলুটিলা গুহা, জেলা পরিষদ পার্কের ঝুলন্ত ব্রিজ, মায়াবিনী লেক, তারেং ঝরনা ও রিছাং ঝরনাসহ জনপ্রিয় স্পটগুলোতে মেরামত ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালানো হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পর্যটকদের স্বাচ্ছন্দ্যে ভ্রমণ নিশ্চিত করতেই এসব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।জেলা শহর ও সাজেককেন্দ্রিক প্রায় ৫০টিরও বেশি হোটেল, মোটেল ও রিসোর্টে ইতোমধ্যে আগাম বুকিং শুরু হয়েছে। অনেক হোটেল মালিক জানিয়েছেন, ঈদের আগেই অধিকাংশ কক্ষ পূর্ণ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পর্যটকের চাপ বাড়ায় স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও পরিবহন খাতেও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে।এদিকে বিপুল সংখ্যক পর্যটকের নিরাপত্তা নিশ্চিতে জেলা পুলিশ ও ট্যুরিস্ট পুলিশ যৌথভাবে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করেছে। গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্র, সড়কপথ এবং সাজেকগামী রুটে বাড়ানো হয়েছে টহল কার্যক্রম। পাশাপাশি মোবাইল টিম ও বিশেষ নজরদারি ব্যবস্থা চালু রাখা হয়েছে।ট্যুরিস্ট পুলিশের উপপরিদর্শক নয়ন বড়ুয়া বলেন, “ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। দুর্গম এলাকায় কোনো পর্যটক বিপদে পড়লে দ্রুত জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হচ্ছে।”সংশ্লিষ্টরা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে পাহাড়ি অঞ্চলে ভ্রমণের আগ্রহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, মেঘে ঢাকা পাহাড়ের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য এবং শান্ত পরিবেশের কারণে সাজেক ও খাগড়াছড়ি এখন দেশীয় পর্যটনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণে পরিণত হয়েছে।প্রসঙ্গত, প্রতিবছর ঈদ ও দীর্ঘ ছুটিকে কেন্দ্র করে খাগড়াছড়ি ও সাজেকে পর্যটকের ঢল নামে। এতে স্থানীয় অর্থনীতি সচল হওয়ার পাশাপাশি পর্যটননির্ভর ব্যবসা-বাণিজ্যেও নতুন গতি ফিরে আসে।