উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
মো. আরিফুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টার ||
পবিত্র ঈদুল আজহার দীর্ঘ ছুটিকে ঘিরে পাহাড়, হ্রদ আর সবুজ প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যে ঘেরা রাঙ্গামাটি পরিণত হয়েছে পর্যটকদের অন্যতম প্রধান গন্তব্যে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা হাজারো ভ্রমণপিপাসুর পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে জেলার পর্যটন কেন্দ্রগুলো। দীর্ঘদিনের মন্দাভাব কাটিয়ে এতে নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছে স্থানীয় পর্যটন শিল্প ও ব্যবসায়।শনিবার (৩০ মে) সকাল থেকেই পর্যটকদের ভিড়ে সরগরম হয়ে ওঠে রাঙ্গামাটির বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান। পাহাড়ের কোল ঘেঁষে বিস্তৃত কাপ্তাই হ্রদের শান্ত জলরাশি, সবুজে ঘেরা প্রাকৃতিক পরিবেশ এবং নির্মল আবহ বরাবরই পর্যটকদের আকৃষ্ট করে। ঈদের ছুটিতে সেই সৌন্দর্য যেন আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে।শহরের অলিগলি থেকে শুরু করে পর্যটন কমপ্লেক্স, ঝুলন্ত সেতু এবং হ্রদপাড়জুড়ে দেখা গেছে দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড়। পরিবার, বন্ধু কিংবা প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটাতে ব্যস্ত পর্যটকরা। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করছেন, আবার কেউ কাপ্তাই হ্রদের বুকে নৌভ্রমণে মেতে উঠেছেন।ঘুরতে আসা পর্যটকরা জানান, কর্মব্যস্ত ও যান্ত্রিক জীবন থেকে কিছুটা স্বস্তি পেতে তারা ঈদের ছুটিতে পরিবার নিয়ে রাঙ্গামাটিতে এসেছেন। পাহাড়, হ্রদ ও প্রাকৃতিক পরিবেশ তাদের মুগ্ধ করেছে। তারা বলেন, দেশের অন্যান্য পর্যটন এলাকার তুলনায় রাঙ্গামাটির পরিবেশ শান্ত ও মনোরম হওয়ায় এখানে সময় কাটাতে বেশ ভালো লাগছে।‘সিম্বল অব রাঙ্গামাটি’ হিসেবে পরিচিত পর্যটন কমপ্লেক্সের ঝুলন্ত সেতুতে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ছিল উপচেপড়া ভিড়। পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ ছিল কাপ্তাই হ্রদে ইঞ্জিনচালিত নৌকা ও স্পিডবোটে ভ্রমণ। হ্রদের স্বচ্ছ জলরাশি আর চারপাশের সবুজ পাহাড়ের মাঝে নৌভ্রমণ পর্যটকদের দিচ্ছে এক অনন্য অভিজ্ঞতা।রাঙ্গামাটিতে আগত পর্যটকদের বড় একটি অংশ ট্যুরিস্ট বোট ভাড়া করে হ্রদের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে ঘুরতে যাচ্ছেন। নৌপথে তারা সুবলং ঝর্ণাসহ বিভিন্ন আকর্ষণীয় স্থান পরিদর্শন করছেন। ফলে ব্যস্ত সময় পার করছেন স্থানীয় বোট মালিক ও চালকরাও।বোট মালিক সমিতির দায়িত্বরত টোল আদায়কারী ফখরুল ইসলাম জানান, ঈদের ছুটিকে কেন্দ্র করে প্রতিদিন শত শত পর্যটক নৌভ্রমণে বের হচ্ছেন। পর্যটকদের চাপ বাড়ায় বোট চলাচলও বেড়েছে। এতে স্থানীয় নৌযান ব্যবসায়ীরা বেশ লাভবান হচ্ছেন।পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দায়িত্ব পালনরত ট্যুরিস্ট পুলিশ সদস্যরা জানান, পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পর্যটকদের নির্বিঘ্নে ভ্রমণ নিশ্চিত করতে তারা নিয়মিত টহল ও নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছেন।রাঙ্গামাটি পর্যটন কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপক আলোক বিকাশ চাকমা জানান, ঈদের ছুটিকে কেন্দ্র করে পর্যটকদের ব্যাপক সমাগম ঘটেছে। দর্শনার্থীদের সেবা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ঝুলন্ত সেতুসহ বিভিন্ন স্থানে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কর্তৃপক্ষ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদ ও বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের আহ্বায়ক মো. হাবীব আজম বলেন, ঈদের ছুটিতে রাঙ্গামাটিতে পর্যটকদের আগমন স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। পর্যটন খাতকে আরও সমৃদ্ধ করতে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও পর্যটকবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে।এদিকে পর্যটকদের আগমনের প্রভাব পড়েছে জেলার হোটেল, মোটেল ও রিসোর্ট খাতেও। ঈদ উপলক্ষে অধিকাংশ আবাসিক হোটেলে বেড়েছে বুকিং। পর্যটকদের সেবাদানে প্রস্তুত রয়েছে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো।ঈদুল আজহার টানা ছুটিতে পর্যটকদের ঢলে আবারও প্রাণ ফিরে পেয়েছে পাহাড়-হ্রদের শহর রাঙ্গামাটির পর্যটন কেন্দ্রগুলো। প্রকৃতিপ্রেমীদের পদচারণায় মুখর এই জনপদ আগামী কয়েকদিন আরও বেশি পর্যটক সমাগমের প্রত্যাশা করছে।