উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
নিউজ ডেস্ক ||
খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার গুইমারায় এক উপজাতি নারী চাকরির প্রলোভনের শিকার হয়ে ধর্ষণের অভিযোগে হাসপাতালে ভর্তি হলেও এখন পর্যন্ত উপজাতি রাজনৈতিক সংগঠন, মানবাধিকার কর্মী ও নারী অধিকার সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান প্রতিবাদ দেখা যাচ্ছে না। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৩ জুন-২০২৬ তারিখে গুইমারা উপজেলার হাফছড়ি ইউনিয়নের এক মারমা সম্প্রদায়ের উপজাতি নারীকে স্বজাতি কতৃক চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে চট্টগ্রামের হাটহাজারী এলাকায় নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করা হয়। পরবর্তীতে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে খাগড়াছড়ি আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।ঘটনাটি অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক এবং মানবিক মূল্যবোধের পরিপন্থী। একজন নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন, এটাই সবচেয়ে বড় সত্য। কিন্তু এ ঘটনায় উপজাতি সংগঠনগুলোর নীরবতা অনেকের কাছে রহস্যজনক বলে মনে হচ্ছে।প্রশ্ন উঠছে, যদি একই ধরনের ঘটনায় কোনো বাঙালি ব্যক্তি অভিযুক্ত হতো, তাহলে কি উপজাতি সংগঠনগুলো একইভাবে নীরব থাকত? তখন কি মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে মিছিল, সমাবেশ, সংবাদ সম্মেলন ও আন্তর্জাতিক মহলে প্রচারণা চালানো হতো না?আজ যখন একজন উপজাতি নারী স্বজাতি ব্যক্তির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন, তখন কোথায় সেই মানবাধিকার কর্মীরা? কোথায় নারী অধিকার নিয়ে সোচ্চার সংগঠনগুলো? কোথায় পাহাড়ি রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতিবাদ? কোথায় পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ, কোথায় হিল উইমেন ফেডারেশন, কোথায় সুহাস চাকমার মত মানবাধিকার কর্মীরা? যারা পার্বত্য চট্টগ্রামের বাস্তবতাকে আড়াল করে সবসময় আন্তজার্তিক অঙ্গনে কথিত বয়ান ছাড়েন!তাদের মানবাধিকার, নারী অধিকার এবং ন্যায়বিচারের প্রশ্নে দ্বৈত নীতি গ্রহণ করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। অপরাধীর পরিচয় নয়, অপরাধই হওয়া উচিত প্রতিবাদের মূল বিষয়। ধর্ষণ যদি অপরাধ হয়, তবে অভিযুক্ত যে-ই হোক না কেন তার বিরুদ্ধে একই ধরনের অবস্থান নেওয়া উচিত।এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেফতার এবং ভুক্তভোগীর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি জোর দাবি জানানো হচ্ছে। একইসঙ্গে মানবাধিকার ও নারী অধিকার নিয়ে কাজ করা সব সংগঠনেরও উচিত ঘটনার বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান গ্রহণ করা। ন্যায়বিচার কখনো জাতিগত পরিচয় দেখে হয় না, ন্যায়বিচার সবার জন্য সমান হওয়াই সভ্য সমাজের পরিচয়।লেখক: পার্বত্য চট্টগ্রাম।