উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালে প্রায় পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী জটিল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সফলভাবে চিকিৎসা সম্পন্ন হয়েছে বরকল উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকার বাসিন্দা বিতারন দেওয়ানের (৪২)। বর্তমানে তিনি সুস্থতার পথে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বরকল উপজেলার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের জগন্নাথ ছড়া এলাকার বাসিন্দা বিতারন দেওয়ান গত ৩ জুন বিভিন্ন শারীরিক জটিলতার কারণে দীর্ঘদিন শয্যাশায়ী থাকার ফলে কোমর ও নিতম্বের সংযোগস্থল (স্যাক্রাম) এলাকায় গুরুতর ক্ষত নিয়ে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে ভর্তি হন।চিকিৎসকদের ভাষ্যমতে, দীর্ঘসময় একটানা শুয়ে থাকার কারণে আক্রান্ত স্থানে রক্ত সঞ্চালন ব্যাহত হয়ে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি হয়, যা ধীরে ধীরে পচন ধরার পর্যায়ে পৌঁছে যায়। পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও নিবিড় পর্যবেক্ষণের পর রোগটির জটিলতা ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা শনাক্ত করা হয়।চিকিৎসকরা জানান, রোগীর সুস্থতার জন্য অস্ত্রোপচার ছাড়া অন্য কোনো কার্যকর বিকল্প ছিল না। সাধারণত এ ধরনের জটিল ফ্ল্যাপ সার্জারি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বড় বিশেষায়িত চিকিৎসাকেন্দ্রে সম্পন্ন করা হয়। তবে রোগীর আর্থিক সীমাবদ্ধতা ও ভোগান্তির বিষয় বিবেচনায় নিয়ে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালেই অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।গত ১৭ জুন হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে প্রায় পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী অপারেশনের মাধ্যমে ক্ষতস্থানের আশপাশের সুস্থ ও রক্তনালীসমৃদ্ধ চামড়া, চর্বি ও পেশির অংশ (ফ্ল্যাপ) স্থানান্তর করে উন্মুক্ত ক্ষত ঢেকে দেওয়া হয়। এর ফলে হাড়ের ওপর প্রয়োজনীয় নরম টিস্যুর আবরণ তৈরি হয়েছে, যা ভবিষ্যতে পুনরায় ঘা হওয়ার ঝুঁকি কমাবে বলে আশা করছেন চিকিৎসকরা।অপারেশন টিমের নেতৃত্ব দেন বিশেষজ্ঞ সার্জন ডা. শাহ কামাল। তাকে সহযোগিতা করেন ডা. সুবীর ও ডা. সাদিয়া। অ্যানেস্থেশিয়ার দায়িত্বে ছিলেন ডা. সাগর নন্দী। এছাড়াও একদল দক্ষ নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী পুরো অস্ত্রোপচারে সহায়তা করেন।এদিকে, দুর্গম অঞ্চলের একজন প্রান্তিক রোগীর ঝুঁকিপূর্ণ ও সময়সাপেক্ষ এই অস্ত্রোপচার সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. নূয়েন খীসা এবং আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. মুহাম্মদ শওকত আকবর খান অপারেশন টিমের সদস্যদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।তারা বলেন, সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও রাঙামাটির মানুষের জন্য উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। এই সফল অস্ত্রোপচার জেলার স্বাস্থ্যসেবার সক্ষমতার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।