উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
বান্দরবানের রোয়াংছড়িতে নির্মমভাবে হত্যাকান্ডের শিকার নওমুসলিম শহীদ ওমর ফারুক ত্রিপুরার ৫ম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে রাঙামাটিতে শোক সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে শহরের কাঁঠালতলী দারুস সালাম মাদ্রাসায় পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (পিসিসিপি) রাঙামাটি জেলা শাখার উদ্যোগে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।পিসিসিপি রাঙামাটি জেলা শাখার সভাপতি তাজুল ইসলাম তাজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ সদস্য মো. হাবীব আজম, এছাড়াও আরো উপস্থিত ছিলেন পিসিসিপি রাঙামাটি জেলা শাখার সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. নিশান চৌধুরী, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ওমর ফারুক রিমন, জেলা শাখার সদস্য কাউসার উদ্দিন, তামিম প্রমুখ।শোক সভায় বক্তারা গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ২০২১ সালের ১৮ জুন বান্দরবান জেলার রোয়াংছড়ি উপজেলার তুলাছড়ি পাড়া জামে মসজিদের ইমাম, নওমুসলিম ওমর ফারুক ত্রিপুরাকে সন্তু লারমার মদদপুষ্ট পাহাড়ি বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনী নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করে। দেখতে দেখতে পাঁচটি বছর পেরিয়ে গেলেও মামলার দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। অধিকাংশ আসামি এখনো গ্রেফতারের বাইরে রয়ে গেছে। এমনকি হত্যাকাণ্ডের শিকার ওমর ফারুক ত্রিপুরার পরিবার আজ পর্যন্ত সরকারি কোনো ধরনের সহায়তা পায়নি।সভায় পার্বত্যঞ্চলের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে বক্তারা বলেন,"পার্বত্য চট্টগ্রামে সক্রিয় সশস্ত্র সন্ত্রাসী সংগঠনগুলো বাঙালি ও সাধারণ পাহাড়ির পাশাপাশি নওমুসলিমদের টার্গেট করে হত্যা, খুন ও গুমের রাজনীতি অব্যাহত রেখেছে। রোয়াংছড়ির তুলাছড়ি পাড়ার নওমুসলিম হওয়া ৩০টি পরিবার বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে। আমরা অবিলম্বে এই পরিবারগুলোর জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করার জোর দাবি জানাচ্ছি।"বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, পাহাড়ের সাধারণ মানুষ এই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীদের হাত থেকে চিরতরে মুক্তি চায়। পার্বত্য অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি ফিরিয়ে আনতে হলে অবিলম্বে জেএসএস ও ইউপিডিএফ-এর মতো আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠনগুলোর অপতৎপরতা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে হবে। পাহাড়ে এই অবৈধ সশস্ত্র সংগঠনগুলো না থাকলে দ্রুতই শান্তির সুবাতাস বইবে।প্রশাসনের প্রতি পিসিসিপির আহ্বান:শহীদ ওমর ফারুক ত্রিপুরাসহ পাহাড়ে বিভিন্ন সময়ে সন্ত্রাসী হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়া সকলের খুনিদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা।পার্বত্য অঞ্চলের আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে দ্রুত ও কার্যকর অভিযান পরিচালনা করা।শোক সভা শেষে শহীদ ওমর ফারুক ত্রিপুরার রুহের মাগফিরাত ও দেশের শান্তি-সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন কাঁঠালতলী দারুস সালাম মাদ্রাসা ও এতিমখানার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মুফতি শামসুল আলম। অনুষ্ঠানে পিসিসিপি জেলা ও স্থানীয় পর্যায়ের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।