উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
স্টাফ রিপোর্টার ||
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) উদযাপন উপলক্ষে আগামী ২১ আগস্ট ২০২৬ ইং, শুক্রবার পর্যটন নগরী রাঙ্গামাটিতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে পার্বত্য চট্টগ্রামের সর্ববৃহৎ ও ঐতিহাসিক বর্ণাঢ্য জশনে জুলুস। গাউছিয়া কমিটি বাংলাদেশ, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা শাখার ব্যবস্থাপনায় এ জশনে জুলুসের আয়োজন করা হয়েছে।ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) উপলক্ষে আয়োজিত এ জশনে জুলুসকে ঘিরে রাঙ্গামাটি শহরসহ জেলার বিভিন্ন এলাকার ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। আয়োজকদের দাবি, এটি পার্বত্য চট্টগ্রামের সর্ববৃহৎ ও ঐতিহাসিক জশনে জুলুস।শুক্রবার জুমার নামাজের পর রাঙ্গামাটি শহরের রিজার্ভ বাজার জামে মসজিদ থেকে জশনে জুলুসটি শুরু হবে। পরে এটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রেস ক্লাব, দোয়েল চত্বর, রাঙ্গামাটি পৌরসভা ও কাঠালতলী হয়ে বনরূপা জামে মসজিদে গিয়ে জমায়েত হবে। সেখানে মিলাদ, কিয়াম ও মুনাজাতের মাধ্যমে জশনে জুলুসের সমাপ্তি হবে।এ উপলক্ষে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে চট্টগ্রাম জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আলহাজ্ব মাওলানা আবদুল আলিম রিজভী (মাঃ জিঃ আঃ)-এর। তাঁর নেতৃত্ব ও উপস্থিতিতে জশনে জুলুসটি অনুষ্ঠিত হবে বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন।জশনে জুলুসে রাঙ্গামাটি শহরসহ পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিপুলসংখ্যক ধর্মপ্রাণ মুসল্লির অংশগ্রহণের প্রত্যাশা করছেন আয়োজকরা। জুলুস চলাকালে হামদ-নাত, দরুদ শরিফ ও বিভিন্ন ধর্মীয় স্লোগানে মুখরিত হবে শহরের রাজপথ। নবীপ্রেম, শান্তি, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াই এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।জশনে জুলুসকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আয়োজকদের পক্ষ থেকে অংশগ্রহণকারীদের জন্য বেশ কিছু নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী, জুলুসে অংশগ্রহণকারীরা জাতীয় পতাকা, গাউছিয়া কমিটি ও আনজুমানের পতাকা, প্লে-কার্ড ও ব্যানার ছাড়া অন্য কোনো সংগঠন বা রাজনৈতিক দলের পতাকা ব্যবহার করতে পারবেন না।এছাড়া জুলুসে কোনো ধরনের ডেকসেট বা সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহার করা যাবে না। ব্যক্তিগত, দলীয় কিংবা সাংগঠনিক ভাবমূর্তি প্রকাশের উদ্দেশ্যে আলাদাভাবে কোনো কিছু প্রদর্শন থেকেও অংশগ্রহণকারীদের বিরত থাকতে বলা হয়েছে।আয়োজকদের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, জুলুসে অংশগ্রহণকারীদের ভদ্র ও মার্জিত পোশাক পরিধান করে যথাযথ আদব ও শৃঙ্খলার সঙ্গে অংশগ্রহণ করতে হবে। জশনে জুলুসের ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও পবিত্রতা বজায় রাখতে সবাইকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।গাউছিয়া কমিটি বাংলাদেশ, রাঙ্গামাটি জেলা (আহ্বায়ক কমিটি)-এর আহ্বায়ক আলহাজ্ব মোঃ আলী আকবর জানান, পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) উপলক্ষে আয়োজিত এ জশনে জুলুস সুষ্ঠু, সুন্দর ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তিনি রাঙ্গামাটি শহরসহ পার্বত্য চট্টগ্রামের সর্বস্তরের ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের যথাসময়ে জশনে জুলুসে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।আয়োজকরা আশা করছেন, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, শৃঙ্খলা ও সম্প্রীতির মধ্য দিয়ে এবারের জশনে জুলুস একটি বৃহৎ ও ঐতিহাসিক আয়োজনে পরিণত হবে।