উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
বিশেষ প্রতিনিধি ||
দুর্গাপূজার ছুটিতে পর্যটকদের জন্য সাজেক পর্যটন কেন্দ্র উন্মুক্ত করে দেওয়ার পর আবারও সড়ক অবরোধের ঘটনা ঘটেছে। খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটির সীমান্তবর্তী সাজেক, পানছড়ি ও দীঘিনালা এলাকায় আঞ্চলিক গোষ্ঠীগুলোর মধ্যকার আধিপত্য বিস্তার ও সশস্ত্র সংঘাতকে কেন্দ্র করে সাজেক-দীঘিনালা সড়কে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এতে হাজার হাজার পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সাজেকের মন্দিরাপাড়া ও উজো বাজার এলাকায় সংঘাত তীব্র রূপ নিলে নিরাপত্তার স্বার্থে স্থানীয় প্রশাসন পর্যটক চলাচলে সাময়িক বিধিনিষেধ আরোপ করে। পরবর্তীতে দুর্গাপূজার প্রাক্কালে পর্যটন ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবির মুখে প্রশাসন পদক্ষেপ নিলে পর্যটক আসা শুরু হয়। তবে পূজার ছুটি শেষ হওয়ার আগেই আবার সড়ক অবরোধের কারণে শত শত পর্যটক ও পরিহন শ্রমিক আটকে পড়ে ভোগান্তির শিকার হন।স্থানীয় রিসোর্ট-কটেজ মালিক, জিপ চালক ও সাধারণ ব্যবসায়ীরা জানান, সাজেকের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি পর্যটন। পর্যটন মৌসুমে বারবার সড়ক অবরোধ ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে তাদের জীবিকা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে। পাহাড়ি-বাঙালি উভয় সম্প্রদায়ের সাধারণ জনগণ এবং ব্যবসায়ীরা অবলম্বর পাহাড়ে সহিংসতা বন্ধ ও সাজেক সড়ককে অবরোধ মুক্ত রাখার জোর দাবি জানিয়েছেন।ভ্রমণে আসা অনেক পর্যটক ও প্রত্যক্ষদর্শী জানান, পাহাড়ে সংঘাত ও সড়ক অবরোধের মতো ঘটনায় সাধারণ ভ্রমণার্থীরা জিম্মি হয়ে পড়ছেন। পার্বত্য অঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ পর্যটকদের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও উদ্বেগ দেখা গেছে। সামাজিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পার্বত্য চট্টগ্রামের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনিক নজরদারি বৃদ্ধি এবং স্থানীয় সব জনগোষ্ঠীর জন্য শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। শীতকালীন পর্যটন মৌসুমকে সামনে রেখে পাহাড়ে স্থায়ী শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত না করা গেলে স্থানীয় অর্থনীতি ধসে পড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।