উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
এম এম রাহমান, লেখক ||
পার্বত্য চট্টগ্রামের খাগড়াছড়ি-রাঙ্গামাটি জেলার সীমান্তবর্তী সাজেক পর্যটন শিল্প এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে আঞ্চলিক সশস্ত্র সন্ত্রাসী সংগঠন ইউপিডিএফ (প্রসীত) এর আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি এবং বিভিন্ন সন্ত্রাসী কার্যক্রম টিকিয়ে রাখার অপচেষ্টা এক গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। সাজেক পর্যটন শিল্পকে নিজেদের সম্পূর্ণ কব্জায় রাখতে এবং অবৈধ অর্থনৈতিক উৎস নিশ্চিত করতে এই সশস্ত্র গোষ্ঠী নানা ধরনের কূটকৌশলের আশ্রয় নিচ্ছে। বিগত কয়েক বছর ধরে পাহাড়ে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার নানামুখী সরকারি উদ্যোগের পরেও এই ধরনের সশস্ত্র গোষ্ঠীর অপতৎপরতা বন্ধ না হওয়া রাষ্ট্রের সার্বিক নিরাপত্তা ও জনজীবনের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে সাজেক পর্যটন শিল্প এলাকার ভূরাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব বিবেচনা করে সশস্ত্র সন্ত্রাসী সংগঠন ইউপিডিএফের বহুমুখী অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড কঠোর হাতে দমন করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে, যা দেশের মূলধারার উন্নয়ন ও আইনের শাসনের জন্য অপরিহার্য শর্ত হিসেবে দেখা দিচ্ছে।সম্প্রতি সাজেক পর্যটন শিল্প এলাকায় নিজেদের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে ইউপিডিএফ (প্রসীত) তথাকথিত "সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি" এবং "কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন" এর মতো সংগঠনের ব্যানার অত্যন্ত চতুরতার সাথে ব্যবহার করছে। সাধারণ মানুষের আবেগ এবং স্থানীয় বিভিন্ন অযৌক্তিক দাবিকে সামনে এনে ইউপিডিএফ মূলত নিজেদের চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড আড়াল করার চেষ্টা চালাচ্ছে এবং পর্দার আড়াল থেকে কলকাঠি নাড়ছে। সাজেক এলাকার সাধারণ সহজ-সরল নারী-পুরুষ ও পাহাড়ি জনসাধারণকে অস্ত্র ও অর্থ জরিমানার ভয় দেখিয়ে, হুমকি দিয়ে এবং বিভিন্ন ধরনের বলপ্রয়োগের মাধ্যমে জোরপূর্বক রাস্তাঘাট ও আন্দোলন কর্মসূচিতে নামানো হচ্ছে। মোড়ক যাই থাকুক না কেন, এই তথাকথিত আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য কোনো সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষা করা নয়, বরং এটি হলো সশস্ত্র সন্ত্রাসী সংগঠন ইউপিডিএফের অবৈধ স্বার্থ উদ্ধারের সুদূরপ্রসারী কৌশল। সাধারণ জনগণের কাঁধে বন্দুক রেখে নিজেদের আধিপত্য বিস্তারের এই হীন চক্রান্তের মাধ্যমে ইউপিডিএফ পার্বত্য অঞ্চলের গণতান্ত্রিক পরিবেশকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে এবং স্থানীয় জনসাধারণের মৌলিক অধিকার ও স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার অধিকারকে চরমভাবে ক্ষুণ্ন করছে।সাজেক পর্যটন সড়কে ইউপিডিএফ সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইউপিডিএফ কতৃক দফায় দফায় ডাকা অবরোধের কারণে খাগড়াছড়ি, দীঘিনালা, সাজেক এবং বাঘাইছড়ি অঞ্চলের অর্থনীতিতে এক বিপর্যয়কর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সাজেক পর্যটন শিল্পের সাথে সরাসরি জড়িত হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট, পরিবহন সেক্টর, রেস্তোরাঁ এবং বিভিন্ন ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা মিলিয়ে ইতোমধ্যে কয়েক কোটি টাকার আর্থিক লোকসান গুনতে হয়েছে। সাজেকে পানি, জরুরি ওষুধ সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের সংকট দেখা দিয়েছে। এই দীর্ঘমেয়াদী অচলাবস্থার কারণে একদিকে যেমন পর্যটন শিল্পের সাথে যুক্ত শত শত ব্যবসায়ী ও শ্রমিক বেকার হয়ে পড়ার উপক্রম হয়েছে, অন্যদিকে তেমনি দিনশেষে সবকিছুর আর্থিক চাপ শেষ পর্যন্ত সাধারণ জনগণের ওপরই পড়ছে। পর্যটন খাতের এই বড় ধরনের ধস স্থানীয় ক্ষুদ্র অর্থনীতিকে অত্যন্ত দুর্বল করে দিচ্ছে এবং দীর্ঘমেয়াদে পাহাড়ি ও বাঙালি উভয় সম্প্রদায়ের মানুষের জীবনযাত্রার মান নিম্নমুখী করছে। ইউপিডিএফ সন্ত্রাসীদের এমন হঠকারী সিদ্ধান্তের কারণে আজ পাহাড়ের সাধারণ মানুষ অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু হয়ে পড়ছে, যা তাদের দীর্ঘদিনের কষ্টার্জিত অগ্রগতিকে এক নিমিষেই ধূলিসাৎ করে দিচ্ছে এবং উপার্জনের পথগুলোকে চিরতরে সংকুচিত করছে।সাজেক পর্যটন সড়ক অবরোধ নিরসনে খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি জেলার স্থানীয় প্রশাসন ও সংসদ সদস্যদের উদ্যোগে ২৬ অক্টোবর- ২০২৬ বিকেলে সাজেকের উজোবাজারে অবরোধকারী দুই সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে এক অতি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। উক্ত বৈঠক শেষে সন্ধ্যা ৭ টায় খাগড়াছড়ি সার্কিট হাউজে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ওয়াদুদ ভূইয়া এমপি ও রাঙামাটি জেলার সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান জানিয়েছেন যে, সাজেকে পর্যটন সড়ক অবরোধকারীদের উত্থাপিত পাঁচ দফা দাবির মধ্যে ইতিমধ্যেই চারটি দাবি নিয়ে সমঝোতা হয়েছে এবং বাকি একটি দাবি আগামী দুই-এক দিনের মধ্যে সমাধান হবে। এই সমঝোতার ভিত্তিতে খুব শীঘ্রই সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করা হবে বলে আশা করা হলেও, মাঠপর্যায়ে সাজেকের তথাকথিত গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও কার্বারী এসোসিয়েশন তাদের সম্পূর্ণ দাবি মানার আশ্বাস দেয়া হয়নি মর্মে যৌথ বিবৃতিতে তাদের অবরোধ ও আন্দোলন কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এই দ্বিমুখী বৈপরীত্য থেকেই স্পষ্ট প্রমাণিত হয় যে, নেপথ্যে থাকা সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ইউপিডিএফ তাদের রাজনৈতিক ও সন্ত্রাসী এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে চায়। আলোচনার মাধ্যমে এই সংকটের সম্পূর্ণ সমাধান না হলে পাহাড়ে অশান্তির কালো মেঘ কাটবে না, বরং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।আলোচনায় ভালো কিছু না আসলে সরকারের উচিত অবিলম্বে হার্ড লাইনে যাওয়া, কারণ এরা সাধারণ বা যৌক্তিক অধিকার কিংবা আন্দোলনকারী নয়। তারা মূলত সশস্ত্র সংগঠন ইউপিডিএফের অশুভ এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে এবং সন্ত্রাসীদের সাথে আলোচনায় না বসে তাদের স্থায়ীভাবে দমন করাই শ্রেয়। ১৯৯৭ সালে তৎকালীন সরকার সশস্ত্র গোষ্ঠী জেএসএস (সন্তু) এর সাথে আলোচনা পরবর্তী চুক্তি করার পর পাহাড়ে এখন পর্যন্ত ভালো কিছু অর্জন হয়নি, বরং পার্বত্য চট্টগ্রামকে হুমকি ও সংকটের মধ্যে ফেলা হয়েছে। পার্বত্য চুক্তি থেকে শুরু করে পার্বত্য চট্টগ্রাম ইস্যুতে প্রতিটি সিদ্ধান্তে কেন্দ্রীয় সরকার দীর্ঘদিন ধরে পার্বত্য অঞ্চলের মাঠ পর্যায়ে বাস্তবতার সাথে লড়াই করা নিরাপত্তা বাহিনীকে উপেক্ষা করেছে। পার্বত্য চুক্তির বিষয়ে তৎকালীন নিরাপত্তা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কেউ জানতেন না, এমনকি তৎকালীন চট্টগ্রামের এরিয়া কমান্ডার (জিওসি) এ বিষয়ে অবগত ছিলেন না এবং তৎকালীন পাহাড় নিয়ে নেওয়া প্রতিটি সিদ্ধান্তই মূলত রাজনৈতিক ও সংকীর্ণ স্বার্থেই নেওয়া হয়েছিল।পূর্বের ইতিহাস থেকে অভিজ্ঞতা নিয়ে রাষ্ট্রের এই স্বার্থান্বেষী, রাজনৈতিক ও সংকীর্ণ মানসিকতা থেকে এখন বেরিয়ে আসতে হবে এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনাবাহিনীকে পরিপূর্ণ আইনি ভিত্তি প্রদান করতে হবে। যেন সেনাবাহিনীর পার্বত্য চট্টগ্রামের বাস্তবতায় রাষ্ট্রীয় বা রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করতে না হয় এবং মাঠের বাস্তবতা অনুযায়ী সেনাবাহিনী নিজেই সিদ্ধান্ত নিতে পারে কখন কী করতে হবে। অন্যথায় পার্বত্য চট্টগ্রাম ইস্যুতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক ও সংকীর্ণ স্বার্থের সীমাবদ্ধতা বজায় থাকলে ভবিষ্যতে পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে বড় ধরনের ঝুঁকি বা রিস্ক থেকে যাবে। পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং এখানে কোনো বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর সাথে রাষ্ট্রের আপোষ করার বা আলোচনার টেবিলে বসার বিন্দুমাত্র সুযোগ নেই। পূর্বের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে যেকোনো সশস্ত্র গোষ্ঠী বা বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর সাথে আপোষ বা আলোচনার পরিবর্তে এসব সশস্ত্র বা বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোকে স্থায়ীভাবে দমন করে পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষা করাই একমাত্র পথ।আবার অনেকেই বলে থাকেন যে, সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো তাদের সন্ত্রাসী কার্যক্রম ছেড়ে দিলেই পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে সেনাবাহিনী প্রত্যাহার করা হবে বা সেনাবাহিনী উঠে যাবে। কিন্তু এমন ধারণা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও অবাস্তব, কারণ পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মতো এখানেও জাতীয় নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব ও রাষ্ট্রীয় অখণ্ডতা রক্ষায় সেনাবাহিনীর প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। পাহাড়ে সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা বন্ধ হলেও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, সীমান্ত সুরক্ষা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সেনাবাহিনীর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। অতএব, সেনাবাহিনীর উপস্থিতিকে কেবল সশস্ত্র গোষ্ঠীর অস্তিত্বের সঙ্গে সম্পর্কিত করে দেখা অত্যন্ত ভুল ও বাস্তবসম্মত নয়, বরং জাতীয় নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় স্বার্থের আলোকে বিষয়টি গভীরভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। দেশের অখণ্ডতা রক্ষায় পাহাড়ে সশস্ত্র বাহিনীর এই স্থায়ী উপস্থিতি কোনোভাবেই প্রশ্নবিদ্ধ করা চলে না।পার্বত্য চট্টগ্রামের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনার ক্ষেত্রে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা, অখণ্ডতা এবং জাতীয় স্বার্থ সর্বদাই সর্বাগ্রে বিবেচনা করা উচিত এবং এ ক্ষেত্রে বিন্দুমাত্র আপোষ করার কোনো সুযোগ থাকতে পারে না। একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশের ভেতর অন্য কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীর নিজস্ব বিচারব্যবস্থা, চাঁদাবাজি নেটওয়ার্ক ও সন্ত্রাসী আস্তানা গড়ে ওঠার সুযোগ থাকা মানেই হলো রাষ্ট্রের ভিতকে দুর্বল করে দেওয়া। সাজেক বা পার্বত্য চট্টগ্রামের যেকোনো প্রান্তে শান্তি প্রতিষ্ঠার নামে দেশের ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও নিরাপত্তার সাথে কোনো ধরনের জুয়া খেলা বরদাস্ত করা যায় না। জাতীয় নিরাপত্তা কেবল সামরিক শক্তি দিয়ে নয়, বরং কঠোর রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও আইনের কঠোর প্রয়োগের মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হয়। তাই দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে পাহাড়ে যেকোনো ধরনের বিচ্ছিন্নতাবাদী ও সশস্ত্র তৎপরতাকে চিরতরে অঙ্কুরেই বিনষ্ট করতে হবে, যাতে ভবিষ্যত প্রজন্ম একটি নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ উপহার পেতে পারে।সাজেকের উজোবাজারের বৈঠকে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সাথে অবরোধকারীদের একাংশের সমঝোতা এবং অন্যদিকে সংগঠনের পক্ষ থেকে অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা, এই দ্বিমুখী পরিস্থিতি পাহাড়ে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। সরকারের উচিত একদিকে যেমন স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে আলোচনার দরজা খোলা রাখা, অন্যদিকে তেমনি যেসব সন্ত্রাসী শক্তি পর্দার আড়ালে থেকে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে অস্থিতিশীলতা তৈরি করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা। আইনের শাসন সমুন্নত না রাখলে এ ধরনের সন্ত্রাসী গোষ্ঠী বারবার জনজীবনকে জিম্মি করার দুঃসাহস দেখাবে। তাই সাজেক পর্যটন শিল্প ও স্থানীয় সাধারণ মানুষের স্বার্থ রক্ষার্থে প্রশাসনকে আরও অধিকতর সতর্ক ও কঠোর ভূমিকা পালন করতে হবে, যাতে কোনো কুচক্রী মহল সাধারণ মানুষের আবেগকে ব্যবহার করে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি ঘটাতে না পারে।সর্বোপরি, সাজেক পর্যটন সড়ক অবরোধ, সংসদ সদস্য ও জেলা প্রশাসকদের সাথে বৈঠক, দাবির সমঝোতা এবং পরবর্তীতে অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা, সব মিলিয়ে বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও পর্যালোচনামূলক। দেশের প্রচলিত আইন ও সংবিধানের পূর্ণ প্রয়োগ নিশ্চিত করে সাজেকসহ পুরো পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি, শৃঙ্খলা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা এখন সরকারের অন্যতম প্রধান নৈতিক দায়িত্ব। সাধারণ জনগণের অর্থনৈতিক মুক্তি এবং সাজেক পর্যটন শিল্পের সুরক্ষার স্বার্থে তথাকথিত আন্দোলন ও সন্ত্রাসী কূটকৌশলের নেপথ্য নায়কদের কঠোরহস্তে দমন করতে হবে। আলোচনার নামে সন্ত্রাসীদের সময় দেওয়ার সংস্কৃতি বন্ধ করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ও সর্বাত্মক কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমেই কেবল পাহাড়ে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব। একটি সন্ত্রাসমুক্ত, নিরাপদ ও ঐক্যবদ্ধ পার্বত্য চট্টগ্রাম গড়ে তোলার মাধ্যমেই কেবল দেশের মূলধারার উন্নয়ন এবং সংবিধানের সুশাসন পুরোপুরি নিশ্চিত হতে পারে।লেখক: এম এম রাহমানলেখক ও গবেষক, ঢাকা।ইমেইল: rahmanm1985@gmail.com