রাঙ্গামাটি কাপ্তাই উপজেলার ৪ নম্বর কাপ্তাই ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের প্রজেক্ট ব্রিকফিল্ড এলাকায় অবস্থিত কর্ণফুলী সার্বজনীন মাতৃমন্দির। ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত এই মন্দিরটির বয়স ৫৪ বছর পেরিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ ভবনে চলছে দেবদেবীর নিত্যপূজা, অর্চনা ও বিভিন্ন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান। মন্দিরটির নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও ছাদ ঢালাইয়ের পর কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তা এখনো সম্পূর্ণ হয়নি। ফলে দ্রুত মন্দিরটি সংস্কার ও অসমাপ্ত নির্মাণকাজ শেষ করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কর্ণফুলী নদীর কোলঘেঁষে অবস্থিত এই এলাকায় প্রায় ৬৫টি সনাতন ধর্মাবলম্বী পরিবারের চার শতাধিক মানুষের বসবাস। তাঁদের মধ্যে অধিকাংশই মৎস্যজীবী। এ ছাড়া কয়েকটি পরিবারের সদস্য কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে চাকরি করেন। এলাকার মানুষের ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম কেন্দ্র এই কর্ণফুলী সার্বজনীন মাতৃমন্দির।মন্দিরটিতে প্রতিবছর শারদীয় দুর্গাপূজা, মহোৎসব, কালীপূজা, জন্মাষ্টমী, সরস্বতীপূজা ও লোকনাথ পূজাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করা হয়। পুরোনো এই মন্দিরকে ঘিরে স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় অনুভূতি ও দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য জড়িয়ে রয়েছে।মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি জনার্ধন দাশ সাধারণ সম্পাদক শ্রীবাস দাশ এবং মন্দিরের পুরোহিত সেবক চক্রবর্তী জানান, মন্দিরটির বয়স পাঁচ দশকের বেশি। দীর্ঘদিন ধরে পুরোনো ভবনেই পূজা-অর্চনাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান করতে হচ্ছে। কয়েক বছর আগে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের অর্থায়নে মন্দিরের নতুন ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয়। তবে ভবনের ছাদ ঢালাইয়ের পর নির্মাণকাজ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে নতুন ভবনটি এখনো পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়নি।তাঁরা বলেন, মন্দিরটি এলাকার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উপাসনালয়। এখানে প্রতিবছর বিভিন্ন পূজা ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর অভাবে এসব আয়োজন করতে নানা সমস্যার মুখে পড়তে হয়। অসমাপ্ত নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করে মন্দিরটিকে পূর্ণাঙ্গ ও ব্যবহার উপযোগী করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা প্রয়োজন।এলাকার প্রবীণ বাসিন্দা কৃষ্ণ ধন দাশ বলেন, মন্দিরটি দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষের ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। বহু বছর ধরে এখানেই বিভিন্ন পূজা-পার্বণ অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মন্দিরের অবকাঠামো সংস্কার করা প্রয়োজন হলেও তা এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। তিনি মন্দিরটির দ্রুত সংস্কার ও উন্নয়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।স্থানীয় বাসিন্দা শোভা রানী দাশ বলেন, মন্দিরটি এলাকার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। প্রতিবছর বিভিন্ন পূজা উপলক্ষে এখানে ভক্তদের সমাগম ঘটে। কিন্তু জরাজীর্ণ পরিবেশে ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনা করতে তাঁদের অসুবিধা হয়। তাই মন্দিরটির সংস্কার ও নতুন ভবনের নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা জরুরি।সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা স্বীকার পূজা উদযাপন পরিষদের কাপ্তাই উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়তোষ ধর পিন্টু বলেন, কর্ণফুলী সার্বজনীন মন্দিরটি এলাকার একটি পুরোনো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে একসময় মন্দিরটির নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল। তবে কাজটি অসমাপ্ত অবস্থায় রয়েছে এবং বর্তমানে বন্ধ আছে।তিনি আরও বলেন, মন্দিরটির পূর্ণাঙ্গ সংস্কার ও অসমাপ্ত নির্মাণকাজ শেষ করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগ নেওয়া উচিত, যাতে স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা সুন্দর ও উপযুক্ত পরিবেশে তাঁদের ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেন।দীর্ঘ ৫৪ বছরের ঐতিহ্য বহনকারী কর্ণফুলী সার্বজনীন মন্দিরটির অসমাপ্ত নির্মাণকাজ শেষ করে একটি আধুনিক ও পূর্ণাঙ্গ উপাসনালয় প্রতিষ্ঠা করা এখন স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রত্যাশা। তাঁরা স্থানীয় এমপি, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড, জেলা পরিষদ সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে মন্দিরটির সংস্কার, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং নতুন ভবনের নির্মাণকাজ দ্রুত সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছেন।