শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ঢাকা
চ্যানেল সিএইচটি
সর্বশেষ
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক পরামর্শক কমিটি: প্রয়োজনের চেয়ে নতুন জটিলতার আশঙ্কা।

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক পরামর্শক কমিটি: প্রয়োজনের চেয়ে নতুন জটিলতার আশঙ্কা।

শতকোটি টাকা ব্যয় করে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক পরামর্শক কমিটি গঠনের সিদ্ধান্তটি আদৌ কতটা প্রয়োজনীয়, এ নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। কারণ, পার্বত্য চট্টগ্রামের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল ও কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে নতুন কোনো কাঠামো তৈরি করার আগে এর সম্ভাব্য প্রভাব, প্রশাসনিক কার্যক্রম, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর এর প্রভাব গভীরভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। অন্যথায় ভবিষ্যতে এই সিদ্ধান্ত পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রশাসন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সাধারণ মানুষের জন্য নতুন ধরনের জটিলতা তৈরি করতে পারে।বাংলাদেশ একটি স্বাধীন, সার্বভৌম ও গণপ্রজাতন্ত্রী রাষ্ট্র। এই রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকের অধিকার, মর্যাদা ও অংশগ্রহণের প্রশ্নটি সংবিধানের মৌলিক চেতনার সঙ্গে সম্পৃক্ত। ফলে পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে কোনো পরামর্শ, নীতিনির্ধারণ বা সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সেখানে বসবাসরত কোনো জনগোষ্ঠীকেই উপেক্ষা করার সুযোগ থাকা উচিত নয়।এই জায়গাতেই বর্তমান পরামর্শক কাঠামো নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রশ্ন সামনে আসে, পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত বাঙালি জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব কোথায়?। এ অঞ্চলের প্রায় ৫৪ শতাংশ মানুষ বাঙালি জনগোষ্ঠীর। অথচ এই বৃহৎ জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত না করে পার্বত্য চট্টগ্রামের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো পরামর্শক কাঠামো তৈরি করা হলে তা স্বাভাবিকভাবেই প্রতিনিধিত্বের ভারসাম্য নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করবে। এটি কেবল প্রশাসনিক ত্রুটি নয়, সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ ও ন্যায্য প্রতিনিধিত্বের প্রশ্নও বটে।তবে বিষয়টিকে কোনো জাতিগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অন্য জাতিগোষ্ঠীকে দাঁড় করিয়ে দেখার সুযোগ নেই। পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি-বাঙালি নির্বিশেষে সকল নাগরিকই বাংলাদেশের নাগরিক এবং রাষ্ট্রের সমান অধিকার ও নিরাপত্তার দাবিদার। তাই কোনো পরামর্শক কমিটি বা নীতিনির্ধারণী কাঠামোকে এমন হতে হবে, যেখানে পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত সকল জাতিগোষ্ঠীর ন্যায্য ও কার্যকর প্রতিনিধিত্ব থাকবে। কোনো একটি পক্ষের একচেটিয়া মতামতের ভিত্তিতে এই অঞ্চলের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করা যেমন যুক্তিসংগত নয়, তেমনি সংখ্যার অজুহাতে কোনো ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর ন্যায্য অধিকার ও মতামতকেও উপেক্ষা করা উচিত নয়।বিশেষ করে, এই ধরনের পরামর্শক কাঠামো যদি পার্বত্য চট্টগ্রামের মাঠপর্যায়ের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে অতিরিক্ত প্রভাব বিস্তার করে, তাহলে প্রশাসনের স্বাভাবিক ও স্বাধীন কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। পার্বত্য চট্টগ্রামের বাস্তবতা দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় ভিন্ন। এখানকার ভৌগোলিক অবস্থান, সামাজিক বৈচিত্র্য, দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা পরিস্থিতি, সীমান্ত বাস্তবতা এবং বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর সহাবস্থানের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা প্রয়োজন।দুঃখজনক হলেও সত্য, পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে সরকারের বিভিন্ন সময়ে নেওয়া কিছু সিদ্ধান্তে তাড়াহুড়োর প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। অথচ এই অঞ্চলের বাস্তব পরিস্থিতি, নিরাপত্তা ঝুঁকি, স্থানীয় জনগণের অভিজ্ঞতা এবং মাঠপর্যায়ের প্রশাসনের মতামত বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি।এখানে আরেকটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। পার্বত্য চট্টগ্রামের সংবেদনশীলতা, ভৌগোলিক বাস্তবতা এবং দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা পরিস্থিতির মধ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বছরের পর বছর দায়িত্ব পালন করে আসছে। সেনাবাহিনীর এই দীর্ঘ সময়ের মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা, নিরাপত্তা-বাস্তবতা এবং অর্জিত জ্ঞানকে উপেক্ষা করে পার্বত্য চট্টগ্রামসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া বাস্তবসম্মত হতে পারে না।সুতরাং পার্বত্য চট্টগ্রামসংক্রান্ত যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত, প্রশাসনিক কিংবা নিরাপত্তা সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে শুধু রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক দৃষ্টিভঙ্গি নয়, মাঠপর্যায়ের নিরাপত্তা বাস্তবতাকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। বিশেষ করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা বাহিনীর অভিজ্ঞতা ও পেশাগত পরামর্শকে যথাযথভাবে বিবেচনায় নিতে হবে। কারণ, একটি সিদ্ধান্ত কাগজে-কলমে যতটা যৌক্তিক মনে হতে পারে, মাঠের বাস্তবতায় তার প্রভাব সম্পূর্ণ ভিন্ন হতে পারে।আমার মতে, পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে ভবিষ্যতে যেকোনো পরামর্শক কমিটি, নীতিনির্ধারণী ফোরাম বা সিদ্ধান্ত গ্রহণের কাঠামো গঠনের ক্ষেত্রে অন্তত চারটি বিষয় নিশ্চিত করা জরুরি। প্রথমত, পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত সকল জাতিগোষ্ঠীর ন্যায্য ও কার্যকর প্রতিনিধিত্ব। দ্বিতীয়ত, স্থানীয় প্রশাসনের বাস্তব অভিজ্ঞতার যথাযথ মূল্যায়ন।তৃতীয়ত, নিরাপত্তা বাহিনীর মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা ও পেশাগত মতামতের পূর্ণ বিবেচনা। এবং চতুর্থত, বাংলাদেশের সংবিধান, আইন, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও রাষ্ট্রীয় অখণ্ডতার প্রতি সুস্পষ্ট অঙ্গীকার।পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যা সমাধানের পথ কোনো একটি জাতিগোষ্ঠীকে প্রাধান্য দেওয়া কিংবা অন্য কোনো জনগোষ্ঠীকে বাদ দেওয়ার মধ্যে নেই। সমাধানের পথ হলো, সকল নাগরিকের সমঅধিকার, ন্যায্য প্রতিনিধিত্ব, আইনের শাসন, প্রশাসনিক ভারসাম্য, নিরাপত্তা এবং পারস্পরিক আস্থার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ।স্বাধীন বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা অক্ষুণ্ণ রেখে পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি, নিরাপত্তা, উন্নয়ন ও সম্প্রীতি নিশ্চিত করতে হলে আবেগ বা তাড়াহুড়ো নয়, প্রয়োজন বাস্তবতা, অভিজ্ঞতা, সংবিধানসম্মত দৃষ্টিভঙ্গি এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সঙ্গে কার্যকর সমন্বয়। পাহাড়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে পাহাড়ের বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই, কোনো পক্ষকে বাদ দিয়ে নয়।_এম মহাসিন মিয়াসাংবাদিক, কলামিস্ট ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক।
৩ ঘন্টা আগে

কোন ভিডিও নেই !
রাঙ্গামাটিতে কোতোয়ালি থানার বিশেষ অভিযানে আওয়ামী লীগের ৩ নেতাসহ কিশোর গ্যাং সদস্য, জুয়ারী ও মাদকসেবীসহ ২১ জন আটক।

রাঙ্গামাটিতে কোতোয়ালি থানার বিশেষ অভিযানে আওয়ামী লীগের ৩ নেতাসহ কিশোর গ্যাং সদস্য, জুয়ারী ও মাদকসেবীসহ ২১ জন আটক।

রাঙ্গামাটিতে কোতয়ালী থানার বিশেষ অভিযানে ১০ মাদক কারবারী ও আসামী গ্রেফতার।

রাঙ্গামাটিতে কোতয়ালী থানার বিশেষ অভিযানে ১০ মাদক কারবারী ও আসামী গ্রেফতার।

রাঙ্গামাটিতে পারিবারিক কলহের জেরে পুলিশ কর্মকর্তার আত্মহত্যা।

রাঙ্গামাটিতে পারিবারিক কলহের জেরে পুলিশ কর্মকর্তার আত্মহত্যা।

কোতয়ালী থানার বিশেষ অভিযানে নিখোঁজ প্রবাসীর স্ত্রী ও শিশু সন্তান উদ্ধার।

কোতয়ালী থানার বিশেষ অভিযানে নিখোঁজ প্রবাসীর স্ত্রী ও শিশু সন্তান উদ্ধার।

লংগদুতে অ্যাম্বুলেন্সে অক্সিজেন না পেয়ে নবজাতকের মৃত্যু, চালকের বিরুদ্ধে অভিযোগ।

লংগদুতে অ্যাম্বুলেন্সে অক্সিজেন না পেয়ে নবজাতকের মৃত্যু, চালকের বিরুদ্ধে অভিযোগ।

কোতয়ালী থানার বিশেষ অভিযানে ডিজেল মজুদ ও কালোবাজারির অভিযোগে একজন গ্রেফতার।

কোতয়ালী থানার বিশেষ অভিযানে ডিজেল মজুদ ও কালোবাজারির অভিযোগে একজন গ্রেফতার।

প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের নিয়ে কাপ্তাইয়ে জেন্ডার বিষয়ক কর্মশালা ও অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত।

প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের নিয়ে কাপ্তাইয়ে জেন্ডার বিষয়ক কর্মশালা ও অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত।

কোতয়ালী থানার বিশেষ অভিযানে ১৪ মামলার পলাতক আসামি দিপুসহ ৮ জন গ্রেফতার, ৫০ পিস ইয়াবা ও চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার।

কোতয়ালী থানার বিশেষ অভিযানে ১৪ মামলার পলাতক আসামি দিপুসহ ৮ জন গ্রেফতার, ৫০ পিস ইয়াবা ও চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার।

বাঘাইছড়িতে বিজিবির অভিযানে ইয়াবা সহ আটক এক।

বাঘাইছড়িতে বিজিবির অভিযানে ইয়াবা সহ আটক এক।

জাম পাড়তে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে নিহত শিক্ষিকা শতাব্দী চাকমা।

জাম পাড়তে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে নিহত শিক্ষিকা শতাব্দী চাকমা।

দীঘিনালায় তিন সপ্তাহের কারিগরি প্রশিক্ষণ শেষে ৩৬ শিক্ষার্থীকে সনদ প্রদান।

দীঘিনালায় তিন সপ্তাহের কারিগরি প্রশিক্ষণ শেষে ৩৬ শিক্ষার্থীকে সনদ প্রদান।

পাহাড়ের নিরাপত্তা কোথায়? সশস্ত্র সংগঠনের তৎপরতা, অবৈধ অস্ত্র ও গোলাগুলিতে বাড়ছে উদ্বেগ:সস

পাহাড়ের নিরাপত্তা কোথায়? সশস্ত্র সংগঠনের তৎপরতা, অবৈধ অস্ত্র ও গোলাগুলিতে বাড়ছে উদ্বেগ:সস

১১ আর ই ব্যাটালিয়নের উদ্যোগে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ বিতরণ।

১১ আর ই ব্যাটালিয়নের উদ্যোগে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ বিতরণ।

কাপ্তাই লেকের ১৬ জলকপাট আবার খুলে পানি নিষ্কাশন।

কাপ্তাই লেকের ১৬ জলকপাট আবার খুলে পানি নিষ্কাশন।

‎নৈসর্গিক পার্বত্য চট্টগ্রাম: প্রকৃতি, মানুষ, রাজনীতি, নিরাপত্তা ও সম্ভাবনার বহুমাত্রিক বাস্তবতা।

‎নৈসর্গিক পার্বত্য চট্টগ্রাম: প্রকৃতি, মানুষ, রাজনীতি, নিরাপত্তা ও সম্ভাবনার বহুমাত্রিক বাস্তবতা।

চ্যাম্পিয়নস লিগে কাপ্তাইয়ের শুভসূচনা।

চ্যাম্পিয়নস লিগে কাপ্তাইয়ের শুভসূচনা।

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক পরামর্শক কমিটি: প্রয়োজনের চেয়ে নতুন জটিলতার আশঙ্কা।

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক পরামর্শক কমিটি: প্রয়োজনের চেয়ে নতুন জটিলতার আশঙ্কা।

মহালছড়িতে মা ও শিশুর নিরাপদ স্বাস্থ্যসেবায় সেনা জোনের ধাত্রীবিদ্যা প্রশিক্ষণ সম্পন্ন।

মহালছড়িতে মা ও শিশুর নিরাপদ স্বাস্থ্যসেবায় সেনা জোনের ধাত্রীবিদ্যা প্রশিক্ষণ সম্পন্ন।

বাঘাইছড়িতে সাড়ে ৪ লক্ষ টাকার কাঠ জব্দ করেছে বিজিবি।

বাঘাইছড়িতে সাড়ে ৪ লক্ষ টাকার কাঠ জব্দ করেছে বিজিবি।

কাপ্তাইয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান দুই প্রতিষ্ঠানকে ২ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা।

কাপ্তাইয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান দুই প্রতিষ্ঠানকে ২ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা।

পাহাড়ের নিরাপত্তা কোথায়? সশস্ত্র সংগঠনের তৎপরতা, অবৈধ অস্ত্র ও গোলাগুলিতে বাড়ছে উদ্বেগ:সস

পাহাড়ের নৈসর্গিক সৌন্দর্যের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরেই নিরাপত্তাহীনতার এক ভিন্ন বাস্তবতা বিরাজ করছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন দুর্গম এলাকায় আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠনগুলোর তৎপরতা, অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার, চাঁদাবাজি, অপহরণ এবং আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘাতের ঘটনা এখনো পুরোপুরি থামেনি। মাঝেমধ্যে গোলাগুলি ও প্রাণহানির ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।২০২৬ সালেও পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় সশস্ত্র সংগঠনকে ঘিরে অভিযান, অস্ত্র উদ্ধার এবং গোলাগুলির খবর এসেছে। মে মাসে গুইমারা রিজিয়নের বুদংছড়া এলাকায় সেনাবাহিনীর অভিযানে ইউপিডিএফ (মূল)-এর তিন সদস্যকে আটক এবং একটি একে-২২ রাইফেলসহ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারের কথা জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।এ ধরনের ঘটনায় প্রশ্ন উঠছে পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম জনপদে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কতটা নিশ্চিত? শান্তিচুক্তির প্রায় তিন দশক পরও কেন পাহাড়ে অবৈধ অস্ত্রের উপস্থিতি এবং সশস্ত্র সংঘাতের ঝুঁকি পুরোপুরি নির্মূল করা যাচ্ছে না?অস্ত্রের উপস্থিতি, সংঘাতের ঝুঁকি কতোটা?পাহাড়ের নিরাপত্তা পরিস্থিতির অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থান। বিস্তীর্ণ পাহাড়ি এলাকা, সীমান্তবর্তী দুর্গম অঞ্চল এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত নজরদারি অনেক জায়গায় কঠিন।এর সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠন নিজেদের নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে বলে নিরাপত্তা সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ। এসব সংগঠনের মধ্যে ইউপিডিএফের বিভিন্ন অংশ, জেএসএসের সশস্ত্র অংশ এবং বান্দরবানের কেএনএফসহ বিভিন্ন গোষ্ঠীর নাম বিভিন্ন সময়ে আলোচনায় এসেছে।ফেব্রুয়ারিতে বান্দরবানের রোয়াংছড়িতে সেনাবাহিনীর সঙ্গে জেএসএস (মূল)-এর গোলাগুলির ঘটনায় একজন নিহত হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়। ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারের কথাও জানানো হয়েছিল। এ ধরনের সংঘর্ষ শুধু সংশ্লিষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠী কিংবা নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। সংঘর্ষের আশপাশে বসবাসকারী সাধারণ মানুষও আতঙ্কের মধ্যে পড়ে। কখনো বাজার, সড়ক কিংবা প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হয়।অভিযানে মিলছে অস্ত্র ও গোলাবারুদ তাহলে শান্তির পথ কতো দূরে?সাম্প্রতিক কয়েকটি অভিযানে বিপুল অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারের তথ্যও সামনে এসেছে। খাগড়াছড়ির পানছড়ি ও রামগড় এলাকায় পরিচালিত পৃথক অভিযানে একাধিক একে-৪৭ রাইফেল, ম্যাগাজিন ও বিপুলসংখ্যক গুলি উদ্ধারের কথা জানিয়েছে আইএসপিআর। একটি ঘটনায় গুলি বিনিময়ের পর একজন সশস্ত্র সদস্য নিহত হওয়ার তথ্যও দেওয়া হয়। এখানেই বড় প্রশ্ন এসব অস্ত্র পাহাড়ের দুর্গম এলাকায় কীভাবে পৌঁছাচ্ছে এবং দীর্ঘ সময় ধরে কীভাবে সংরক্ষিত থাকছে? নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, অবৈধ অস্ত্রের প্রবাহ বন্ধ করা না গেলে শুধু বিচ্ছিন্ন অভিযান পরিচালনা করে দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন। অস্ত্রের উৎস, সরবরাহ ব্যবস্থা, অর্থের উৎস এবং চাঁদাবাজির নেটওয়ার্ক শনাক্ত করা জরুরি।চাঁদাবাজির অভিযোগও বড় উদ্বেগ নয় কি শান্তির?পাহাড়ে সশস্ত্র তৎপরতার সঙ্গে চাঁদাবাজির অভিযোগও দীর্ঘদিনের। বিভিন্ন সংগঠনের বিরুদ্ধে স্থানীয় ব্যবসায়ী, পরিবহন শ্রমিক, ঠিকাদার, কৃষক ও সাধারণ মানুষের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ বিভিন্ন সময়ে উঠেছে। আগস্টে বান্দরবানে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ ও সহযোগী সংগঠনগুলো অবৈধ অস্ত্র, চাঁদাবাজি, গুম, খুন ও অপহরণ বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন করে। কর্মসূচিতে পাহাড়ে অস্ত্রের ব্যবহার বন্ধ এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।প্রশ্ন নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে কবে?পাহাড়ের প্রত্যন্ত এলাকার বাসিন্দাদের কাছে নিরাপত্তা মানে শুধু সন্ত্রাস দমন নয়; নিরাপদে বাজারে যাওয়া, কৃষিপণ্য পরিবহন, সন্তানদের স্কুলে পাঠানো এবং রাতে নির্বিঘ্নে ঘুমাতে পারাও নিরাপত্তার অংশ। সশস্ত্র সংঘাতের আশঙ্কা থাকলে পাহাড়ের অর্থনীতি ও পর্যটনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ব্যবসায়ী ও পর্যটনসংশ্লিষ্টরা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েন। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের মধ্যে তৈরি হয় দীর্ঘমেয়াদি ভীতি। এ অবস্থায় শুধু অভিযান পরিচালনা করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের পাশাপাশি অস্ত্রের উৎস শনাক্ত, চাঁদাবাজির অর্থনৈতিক নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া, সীমান্তে নজরদারি বাড়ানো এবং সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।শান্তিচুক্তির বাস্তবায়ন ও নিরাপত্তা দুই দিকেই নজরপার্বত্য চট্টগ্রামের নিরাপত্তা প্রশ্নকে শুধু সামরিক বা আইনশৃঙ্খলার বিষয় হিসেবে দেখলে সমস্যার পুরো চিত্র পাওয়া যাবে না। ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তির বাস্তবায়ন, রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব, ভূমি বিরোধ, স্থানীয় প্রশাসনের কার্যকারিতা, উন্নয়ন এবং নিরাপত্তা সবগুলো বিষয় পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত। একদিকে রাষ্ট্রের দায়িত্ব নাগরিকদের জানমাল রক্ষা করা এবং অবৈধ অস্ত্র ও সশস্ত্র অপরাধের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া। পাহাড়ের নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কয়েকটি বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। প্রথমত, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে সমন্বিত অভিযান অব্যাহত রাখতে হবে। দ্বিতীয়ত, অস্ত্রের উৎস ও চোরাচালান বন্ধে সীমান্ত এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি বাড়াতে হবে। তৃতীয়ত, চাঁদাবাজি, অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডের প্রতিটি ঘটনায় দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে।

পাহাড়ের নিরাপত্তা কোথায়? সশস্ত্র সংগঠনের তৎপরতা, অবৈধ অস্ত্র ও গোলাগুলিতে বাড়ছে উদ্বেগ:সস
৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:৩৫ এএম
আপনি কার পক্ষে ভোট দিতে চান?

আপনি কার পক্ষে ভোট দিতে চান?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন