অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নওশাদ খান সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে টাকা উত্তোলনের কথা স্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে। তিনি এটিকে নিয়মবহির্ভূত বলেও উল্লেখ করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, হাসপাতালটি ১০ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত হওয়ার পরও চিকিৎসাসেবার মান ও ব্যবস্থাপনায় প্রত্যাশিত উন্নতি হয়নি। বরং হাসপাতালের বিভিন্ন কার্যক্রমে অনিয়ম, দায়িত্বে অবহেলা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ দিন দিন বাড়ছে।
৫০ শয্যার এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে এসে কাঙ্ক্ষিত সেবা না পাওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। রোগীদের স্বজনদের দাবি, চিকিৎসক ও নার্সদের ডেকেও অনেক সময় সাড়া পাওয়া যায় না। প্রয়োজনীয় ওষুধ হাসপাতাল থেকে না পেয়ে বাইরে থেকে কিনতে হয় তাঁদের।
গত ১৪ অক্টোবর সকাল ১০টার দিকে সরেজমিনে হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে রোগী ও তাঁদের স্বজনদের কাছ থেকে চিকিৎসাসেবার মান এবং হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ পাওয়া যায়। এ সময় হাসপাতাল ত্যাগ করার পর্যায়ে কয়েকজন চিকিৎসককে হাসপাতালে প্রবেশ করতে দেখা গেছে বলে পরিদর্শনে উপস্থিত সাংবাদিকেরা জানান। তবে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের নির্ধারিত কর্মঘণ্টা, দায়িত্বসূচি ও উপস্থিতির রেজিস্টার যাচাই করা সম্ভব না হওয়ায় তাঁদের অনুপস্থিতির অভিযোগ নথিপত্রের মাধ্যমে নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
বিশেষ করে ডেন্টাল বিভাগের চিকিৎসকের নিয়মিত উপস্থিতি নিয়েও অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। তাঁদের দাবি, রোগীরা চিকিৎসা নিতে গেলে কখনো কখনো সরাসরি সেবা না দিয়ে ফোনে পরামর্শ নিতে কিংবা হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে ব্যবস্থাপত্র নিতে বলা হয়।
হাসপাতালের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধেও অনিয়মিত কর্মস্থলে উপস্থিত থাকার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। তাঁদের দাবি, তিনি সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন হাসপাতালে আসেন এবং কোনো কোনো দিন সকাল ১১টার দিকে কর্মস্থল ত্যাগ করেন। এ ছাড়া চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার রাজা হাট বাজার এলাকায় তাঁর একটি মেডিকেল টেকনোলজি-সংক্রান্ত ব্যবসা রয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তাঁরা। সরকারি দায়িত্বে অবহেলা করে ব্যক্তিগত ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জসিম উদ্দিন বলেন, “আমি মৌখিকভাবে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ছুটি নিয়ে থাকি। নিয়মিত কর্মস্থলে উপস্থিত থাকি।”
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নওশাদ খান জানান, জসিম উদ্দিনকে কয়েকবার কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তবে তিনি নোটিশের সুনির্দিষ্ট জবাব দিতে পারেননি বলে দাবি করেন কর্মকর্তা। তাঁর বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, জানতে চাইলে কর্মকর্তা সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি বলে সাংবাদিকেরা জানান।
হাসপাতালের বিভিন্ন খাতে বিল-ভাউচার তৈরি এবং সরকারি অর্থ উত্তোলন নিয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, নামে-বেনামে টেন্ডার ও আপ্যায়ন খাতের ভুয়া বিল-ভাউচার দেখিয়ে ট্রেজারি থেকে অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নওশাদ খান সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে টাকা উত্তোলনের বিষয়টি স্বীকার করেন বলে জানা গেছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এ ধরনের অর্থ উত্তোলন নিয়মবহির্ভূত।
হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রমে ‘বড় বাবু’ নামে পরিচিত এক ব্যক্তি ও ক্যাশিয়ারের প্রভাব নিয়েও অভিযোগ করেছেন স্থানীয়দের কেউ কেউ। তাঁদের দাবি, হাসপাতালের বিভিন্ন কার্যক্রমে ওই দুই ব্যক্তির প্রভাব রয়েছে। দীর্ঘ ২৫ থেকে ৩০ বছর একই স্থানে চাকরি করার সুযোগে তাঁদের সম্পদ ও স্থাপনা গড়ে ওঠা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও সম্পদের উৎস অনুসন্ধান প্রয়োজন।
হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের খাবার সরবরাহের ক্ষেত্রেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নিয়ম অনুযায়ী, রোগীদের খাবার প্রস্তুত ও পরিবেশনের দায়িত্ব ঠিকাদারের থাকলেও অভিযোগ রয়েছে, সরাসরি রান্না ও পরিবেশনের পরিবর্তে অন্যের মাধ্যমে বাইরে থেকে খাবার সংগ্রহ করে রোগীদের দেওয়া হচ্ছে। এতে খাবারের মান, স্বাস্থ্যবিধি ও পরিবেশনের পরিচ্ছন্নতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার পর থেকে খাবার সরবরাহের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদারকে সরাসরি কার্যক্রম পরিচালনা করতে দেখা যায়নি। বরং সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মচারীর যোগসাজশে ঠিকাদার বিল উত্তোলন করে দায়িত্ব এড়িয়ে যান বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে ঠিকাদার নিয়োগ, খাবার সরবরাহের কার্যাদেশ, বিল পরিশোধ এবং খাবারের মান যাচাইয়ের নথিপত্র পরীক্ষা করে এসব অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
হাসপাতালে বিদ্যুৎ চলে গেলে রোগীদের মোমবাতির ওপর নির্ভর করতে হয় বলে অভিযোগ করেছেন রোগী ও তাঁদের স্বজনেরা। তাঁদের দাবি, হাসপাতালে জেনারেটর থাকলেও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় তা নিয়মিত ব্যবহার করা হয় না।
জেনারেটর পরিচালনা, জ্বালানি কেনা ও রক্ষণাবেক্ষণ খাতে সরকারি বরাদ্দের অর্থ যথাযথভাবে ব্যয় হচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে রোগীদের কাপড় এবং প্রসূতি ও অন্যান্য রোগীদের ব্যবহৃত কাপড় ধোয়ার খাতে বরাদ্দের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও উঠেছে। এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যয়ের হিসাব, বিল-ভাউচার ও নিরীক্ষা প্রতিবেদন যাচাই করা প্রয়োজন।
জরুরি রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কিংবা চন্দ্রঘোনা মিশন হাসপাতালে পাঠানোর প্রয়োজন হলে রোগীবাহী গাড়ির চালককে সময়মতো পাওয়া যায় না বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, চালক নিয়মিত মদ্যপান করে হাসপাতালে আসেন এবং তাঁর আচরণেও এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ। তবে মদ্যপ অবস্থায় দায়িত্ব পালনের অভিযোগটি স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
রোগীর স্বজনদের আশঙ্কা, জরুরি মুহূর্তে চালককে পাওয়া না গেলে রোগীকে দ্রুত উন্নত চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এতে রোগীর জীবন ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। এ পরিস্থিতিতে চালককে অন্যত্র বদলি করে তাঁর স্থলে দায়িত্বশীল চালক নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
রাজস্থলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসাসেবা, জনবল ব্যবস্থাপনা, রোগীদের খাবার সরবরাহ, জেনারেটর পরিচালনা এবং বিভিন্ন খাতে সরকারি অর্থ ব্যয় নিয়ে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নওশাদ খান তাৎক্ষণিকভাবে সব অভিযোগের সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেননি বলে সরেজমিন পরিদর্শনে উপস্থিত সাংবাদিকেরা জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের দাবি, হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মচারীদের উপস্থিতি, রোগীবাহী গাড়ির চালকের দায়িত্ব পালন, খাবার সরবরাহের ঠিকাদারি কার্যক্রম এবং ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হোক। পাশাপাশি সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করে রোগীদের মানসম্মত চিকিৎসাসেবা প্রদানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
উপজেলার প্রায় ৪০ হাজার মানুষের সরকারি স্বাস্থ্যসেবার অন্যতম ভরসা এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। তাই অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, আর্থিক নথিপত্র যাচাই এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে হাসপাতালের সেবার মান ও জনসাধারণের আস্থা ফিরিয়ে আনা জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ অক্টোবর ২০২৬
অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নওশাদ খান সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে টাকা উত্তোলনের কথা স্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে। তিনি এটিকে নিয়মবহির্ভূত বলেও উল্লেখ করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, হাসপাতালটি ১০ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত হওয়ার পরও চিকিৎসাসেবার মান ও ব্যবস্থাপনায় প্রত্যাশিত উন্নতি হয়নি। বরং হাসপাতালের বিভিন্ন কার্যক্রমে অনিয়ম, দায়িত্বে অবহেলা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ দিন দিন বাড়ছে।
৫০ শয্যার এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে এসে কাঙ্ক্ষিত সেবা না পাওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। রোগীদের স্বজনদের দাবি, চিকিৎসক ও নার্সদের ডেকেও অনেক সময় সাড়া পাওয়া যায় না। প্রয়োজনীয় ওষুধ হাসপাতাল থেকে না পেয়ে বাইরে থেকে কিনতে হয় তাঁদের।
গত ১৪ অক্টোবর সকাল ১০টার দিকে সরেজমিনে হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে রোগী ও তাঁদের স্বজনদের কাছ থেকে চিকিৎসাসেবার মান এবং হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ পাওয়া যায়। এ সময় হাসপাতাল ত্যাগ করার পর্যায়ে কয়েকজন চিকিৎসককে হাসপাতালে প্রবেশ করতে দেখা গেছে বলে পরিদর্শনে উপস্থিত সাংবাদিকেরা জানান। তবে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের নির্ধারিত কর্মঘণ্টা, দায়িত্বসূচি ও উপস্থিতির রেজিস্টার যাচাই করা সম্ভব না হওয়ায় তাঁদের অনুপস্থিতির অভিযোগ নথিপত্রের মাধ্যমে নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
বিশেষ করে ডেন্টাল বিভাগের চিকিৎসকের নিয়মিত উপস্থিতি নিয়েও অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। তাঁদের দাবি, রোগীরা চিকিৎসা নিতে গেলে কখনো কখনো সরাসরি সেবা না দিয়ে ফোনে পরামর্শ নিতে কিংবা হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে ব্যবস্থাপত্র নিতে বলা হয়।
হাসপাতালের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধেও অনিয়মিত কর্মস্থলে উপস্থিত থাকার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। তাঁদের দাবি, তিনি সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন হাসপাতালে আসেন এবং কোনো কোনো দিন সকাল ১১টার দিকে কর্মস্থল ত্যাগ করেন। এ ছাড়া চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার রাজা হাট বাজার এলাকায় তাঁর একটি মেডিকেল টেকনোলজি-সংক্রান্ত ব্যবসা রয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তাঁরা। সরকারি দায়িত্বে অবহেলা করে ব্যক্তিগত ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জসিম উদ্দিন বলেন, “আমি মৌখিকভাবে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ছুটি নিয়ে থাকি। নিয়মিত কর্মস্থলে উপস্থিত থাকি।”
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নওশাদ খান জানান, জসিম উদ্দিনকে কয়েকবার কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তবে তিনি নোটিশের সুনির্দিষ্ট জবাব দিতে পারেননি বলে দাবি করেন কর্মকর্তা। তাঁর বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, জানতে চাইলে কর্মকর্তা সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি বলে সাংবাদিকেরা জানান।
হাসপাতালের বিভিন্ন খাতে বিল-ভাউচার তৈরি এবং সরকারি অর্থ উত্তোলন নিয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, নামে-বেনামে টেন্ডার ও আপ্যায়ন খাতের ভুয়া বিল-ভাউচার দেখিয়ে ট্রেজারি থেকে অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নওশাদ খান সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে টাকা উত্তোলনের বিষয়টি স্বীকার করেন বলে জানা গেছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এ ধরনের অর্থ উত্তোলন নিয়মবহির্ভূত।
হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রমে ‘বড় বাবু’ নামে পরিচিত এক ব্যক্তি ও ক্যাশিয়ারের প্রভাব নিয়েও অভিযোগ করেছেন স্থানীয়দের কেউ কেউ। তাঁদের দাবি, হাসপাতালের বিভিন্ন কার্যক্রমে ওই দুই ব্যক্তির প্রভাব রয়েছে। দীর্ঘ ২৫ থেকে ৩০ বছর একই স্থানে চাকরি করার সুযোগে তাঁদের সম্পদ ও স্থাপনা গড়ে ওঠা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও সম্পদের উৎস অনুসন্ধান প্রয়োজন।
হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের খাবার সরবরাহের ক্ষেত্রেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নিয়ম অনুযায়ী, রোগীদের খাবার প্রস্তুত ও পরিবেশনের দায়িত্ব ঠিকাদারের থাকলেও অভিযোগ রয়েছে, সরাসরি রান্না ও পরিবেশনের পরিবর্তে অন্যের মাধ্যমে বাইরে থেকে খাবার সংগ্রহ করে রোগীদের দেওয়া হচ্ছে। এতে খাবারের মান, স্বাস্থ্যবিধি ও পরিবেশনের পরিচ্ছন্নতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার পর থেকে খাবার সরবরাহের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদারকে সরাসরি কার্যক্রম পরিচালনা করতে দেখা যায়নি। বরং সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মচারীর যোগসাজশে ঠিকাদার বিল উত্তোলন করে দায়িত্ব এড়িয়ে যান বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে ঠিকাদার নিয়োগ, খাবার সরবরাহের কার্যাদেশ, বিল পরিশোধ এবং খাবারের মান যাচাইয়ের নথিপত্র পরীক্ষা করে এসব অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
হাসপাতালে বিদ্যুৎ চলে গেলে রোগীদের মোমবাতির ওপর নির্ভর করতে হয় বলে অভিযোগ করেছেন রোগী ও তাঁদের স্বজনেরা। তাঁদের দাবি, হাসপাতালে জেনারেটর থাকলেও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় তা নিয়মিত ব্যবহার করা হয় না।
জেনারেটর পরিচালনা, জ্বালানি কেনা ও রক্ষণাবেক্ষণ খাতে সরকারি বরাদ্দের অর্থ যথাযথভাবে ব্যয় হচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে রোগীদের কাপড় এবং প্রসূতি ও অন্যান্য রোগীদের ব্যবহৃত কাপড় ধোয়ার খাতে বরাদ্দের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও উঠেছে। এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যয়ের হিসাব, বিল-ভাউচার ও নিরীক্ষা প্রতিবেদন যাচাই করা প্রয়োজন।
জরুরি রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কিংবা চন্দ্রঘোনা মিশন হাসপাতালে পাঠানোর প্রয়োজন হলে রোগীবাহী গাড়ির চালককে সময়মতো পাওয়া যায় না বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, চালক নিয়মিত মদ্যপান করে হাসপাতালে আসেন এবং তাঁর আচরণেও এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ। তবে মদ্যপ অবস্থায় দায়িত্ব পালনের অভিযোগটি স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
রোগীর স্বজনদের আশঙ্কা, জরুরি মুহূর্তে চালককে পাওয়া না গেলে রোগীকে দ্রুত উন্নত চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এতে রোগীর জীবন ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। এ পরিস্থিতিতে চালককে অন্যত্র বদলি করে তাঁর স্থলে দায়িত্বশীল চালক নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
রাজস্থলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসাসেবা, জনবল ব্যবস্থাপনা, রোগীদের খাবার সরবরাহ, জেনারেটর পরিচালনা এবং বিভিন্ন খাতে সরকারি অর্থ ব্যয় নিয়ে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নওশাদ খান তাৎক্ষণিকভাবে সব অভিযোগের সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেননি বলে সরেজমিন পরিদর্শনে উপস্থিত সাংবাদিকেরা জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের দাবি, হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মচারীদের উপস্থিতি, রোগীবাহী গাড়ির চালকের দায়িত্ব পালন, খাবার সরবরাহের ঠিকাদারি কার্যক্রম এবং ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হোক। পাশাপাশি সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করে রোগীদের মানসম্মত চিকিৎসাসেবা প্রদানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
উপজেলার প্রায় ৪০ হাজার মানুষের সরকারি স্বাস্থ্যসেবার অন্যতম ভরসা এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। তাই অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, আর্থিক নথিপত্র যাচাই এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে হাসপাতালের সেবার মান ও জনসাধারণের আস্থা ফিরিয়ে আনা জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

আপনার মতামত লিখুন