সোমবার, ২৫ মে ২০২৬
২৫ মে, ২০২৬ ঢাকা
চ্যানেল সিএইচটি

পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য: অগাস্টিনা চাকমার বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ।



পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য: অগাস্টিনা চাকমার বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ।

সম্প্রতি United Nations Permanent Forum on Indigenous Issues (UNPFII) এর ২৫তম অধিবেশনে অগাস্টিনা চাকমা কর্তৃক বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম (সিএইচটি) অঞ্চল নিয়ে প্রদত্ত বক্তব্য গভীর উদ্বেগ, ক্ষোভ এবং তীব্র প্রতিবাদের জন্ম দিয়েছে। তিনি যে চিত্র আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরেছেন, তা কেবল বাস্তবতার সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণই নয়, বরং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, একপাক্ষিক এবং বিভ্রান্তিকর বলেই প্রতীয়মান হয়। তার এ ধরনের বক্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার পাশাপাশি পার্বত্য অঞ্চলের বহুজাতিক সহাবস্থান ও সম্প্রীতির পরিবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

অগাস্টিনা চাকমা, যিনি পার্বত্য চট্টগ্রামের আঞ্চলিক সন্ত্রাসী সংগঠন, পার্বত্য চট্টগ্রাম জন সংহতি সমিতি (জেএসএস) এর প্রতিষ্ঠাতা ও আঞ্চলিক পরিষদের অবৈধ চেয়ারম্যান সন্তু লারমা'র নাতনী হিসেবে পরিচিত, তার বক্তব্যে পার্বত্য চট্টগ্রামকে একটি সহিংসতা-আবদ্ধ, নিরাপত্তাহীন এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে অবহেলিত অঞ্চল হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো, পার্বত্য চট্টগ্রাম একটি স্পর্শ কাতর অঞ্চল হলেও সেখানে সরকার দীর্ঘদিন ধরে শান্তি প্রতিষ্ঠা, উন্নয়ন এবং সম্প্রীতি রক্ষায় বহুমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করে আসছে। ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির মাধ্যমে এই অঞ্চলে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার যে ভিত্তি গড়ে তোলা হয়েছে, তা ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলছে।

অগাস্টিনা চাকমার বক্তব্যে যেসব সহিংসতার উদাহরণ তুলে ধরা হয়েছে, সেগুলো পুরোপুরি যাচাই-বাছাইবিহীন এবং একতরফা উপস্থাপন। কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা বা অপরাধকে সামগ্রিক বাস্তবতা হিসেবে তুলে ধরা আন্তর্জাতিক ন্যায়বোধের পরিপন্থী। অপরাধ সংঘটিত হলে তা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হয়, এটি একটি চলমান রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়া। কিন্তু এসব বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে বৃহৎ আকারে উপস্থাপন করে পুরো অঞ্চলের পরিস্থিতিকে নেতিবাচকভাবে চিত্রিত করা স্পষ্টতই পরিকল্পিত ও একটি রাজনৈতিক অভিসন্ধির ইঙ্গিত দেয়।

আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, তিনি আন্তর্জাতিক আইন যেমন United Nations Declaration on the Rights of Indigenous Peoples এবং Convention on the Elimination of All Forms of Discrimination Against Women এর প্রসঙ্গ টেনে এনে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপন করেছেন, যা পুরোপুরি মিথ্যা ও বাস্তবতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বাংলাদেশ সরকার নারী অধিকার, সংখ্যালঘু সুরক্ষা এবং আঞ্চলিক উন্নয়নে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে কাজ করে যাচ্ছে। সুতরাং পরিকল্পিত ও রাজনৈতিক অভিসন্ধিমূলক এ ধরনের অভিযোগ কেবল বিভ্রান্তিকর নয়, বরং আন্তর্জাতিক ফোরামকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার অপচেষ্টাও বটে।

পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত বাঙালি, চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, ম্রোসহ বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষ দীর্ঘদিন ধরে পারস্পরিক সহাবস্থান বজায় রেখে জীবনযাপন করছে। সাম্প্রতিক সময়ে সরকার ও নিরাপত্তা বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগে পার্বত্য চট্টগ্রামের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়েছে। এই বাস্তবতাকে অস্বীকার করে পরিকল্পিত ভাবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কেবল নেতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরা এক ধরনের বিভাজনমূলক প্রচারণা, যা কোনোভাবেই আইন সম্মত নয় বা গ্রহণযোগ্য নয়।

অগাস্টিনা চাকমার এ ধরনের পরিকল্পিত ও স্বার্থান্বেষী মহলের রাজনৈতিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বক্তব্যের ফলে আন্তর্জাতিক মহলে ভুল বার্তা যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা দেশের সার্বভৌমত্ব এবং অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার জন্য ক্ষতিকর। এ ধরনের কর্মকাণ্ড পার্বত্য অঞ্চলের সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার চলমান প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। বিশেষ করে পার্বত্য চট্টগ্রামের মতো একটি স্পর্শ কাতর অঞ্চলকে ঘিরে এ ধরনের বক্তব্য নতুন করে উত্তেজনা ও অবিশ্বাসের জন্ম দিতে পারে।

বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র। দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় আন্তর্জাতিক পরিসরে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা কোনোভাবেই দায়িত্বশীল আচরণ নয়। মত প্রকাশের স্বাধীনতা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু তা যদি অসত্য, অতিরঞ্জিত এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়, তবে তা রাষ্ট্র ও জনগণের জন্য ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়ায়।

পার্বত্য চট্টগ্রামের সর্বস্তরের জনগণ অগাস্টিনা চাকমার এই বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। তারা মনে করে, এ ধরনের বক্তব্য কেবল বিভাজন সৃষ্টি করে না, বরং দীর্ঘদিনের শান্তি ও সম্প্রীতির পরিবেশকে নষ্ট করার অপচেষ্টা। একইসঙ্গে তারা দাবি জানিয়েছেন, অগাস্টিনা চাকমা সহ এমন মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য আন্তর্জাতিক পরিসরে উপস্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

এছাড়াও, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর প্রতিও আহ্বান জানানো হচ্ছে যে, কোনো অভিযোগ বা বক্তব্য গ্রহণের আগে তা নিরপেক্ষভাবে যাচাই-বাছাই করা প্রয়োজন। একতরফা তথ্যের ভিত্তিতে কোনো রাষ্ট্র বা অঞ্চলকে বিচার করা হলে তা নিতান্তই বেআইনি বা ন্যায়বিচারের পরিপন্থী হয়ে দাঁড়ায়।

পার্বত্য চট্টগ্রাম একটি সম্ভাবনাময় অঞ্চল, যেখানে শান্তি, উন্নয়ন এবং সম্প্রীতির ভিত্তিতে একটি ইতিবাচক ভবিষ্যৎ গড়ে উঠছে। অগাস্টিনা চাকমার এ ধরনের বিভ্রান্তিকর বক্তব্য সেই অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করতে পারে। তাই দেশের স্বার্থ, জনগণের নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় সকলকে সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। পার্বত্য চট্টগ্রামসহ পুরো বাংলাদেশের জনগণ আশা করে, সত্য ও বাস্তবতার ভিত্তিতেই আন্তর্জাতিক পরিসরে দেশের চিত্র তুলে ধরা হবে, কোনো ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত স্বার্থে নয়।

আপনার মতামত লিখুন

চ্যানেল সিএইচটি

সোমবার, ২৫ মে ২০২৬


পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য: অগাস্টিনা চাকমার বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ।

প্রকাশের তারিখ : ২৩ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

সম্প্রতি United Nations Permanent Forum on Indigenous Issues (UNPFII) এর ২৫তম অধিবেশনে অগাস্টিনা চাকমা কর্তৃক বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম (সিএইচটি) অঞ্চল নিয়ে প্রদত্ত বক্তব্য গভীর উদ্বেগ, ক্ষোভ এবং তীব্র প্রতিবাদের জন্ম দিয়েছে। তিনি যে চিত্র আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরেছেন, তা কেবল বাস্তবতার সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণই নয়, বরং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, একপাক্ষিক এবং বিভ্রান্তিকর বলেই প্রতীয়মান হয়। তার এ ধরনের বক্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার পাশাপাশি পার্বত্য অঞ্চলের বহুজাতিক সহাবস্থান ও সম্প্রীতির পরিবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

অগাস্টিনা চাকমা, যিনি পার্বত্য চট্টগ্রামের আঞ্চলিক সন্ত্রাসী সংগঠন, পার্বত্য চট্টগ্রাম জন সংহতি সমিতি (জেএসএস) এর প্রতিষ্ঠাতা ও আঞ্চলিক পরিষদের অবৈধ চেয়ারম্যান সন্তু লারমা'র নাতনী হিসেবে পরিচিত, তার বক্তব্যে পার্বত্য চট্টগ্রামকে একটি সহিংসতা-আবদ্ধ, নিরাপত্তাহীন এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে অবহেলিত অঞ্চল হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো, পার্বত্য চট্টগ্রাম একটি স্পর্শ কাতর অঞ্চল হলেও সেখানে সরকার দীর্ঘদিন ধরে শান্তি প্রতিষ্ঠা, উন্নয়ন এবং সম্প্রীতি রক্ষায় বহুমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করে আসছে। ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির মাধ্যমে এই অঞ্চলে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার যে ভিত্তি গড়ে তোলা হয়েছে, তা ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলছে।

অগাস্টিনা চাকমার বক্তব্যে যেসব সহিংসতার উদাহরণ তুলে ধরা হয়েছে, সেগুলো পুরোপুরি যাচাই-বাছাইবিহীন এবং একতরফা উপস্থাপন। কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা বা অপরাধকে সামগ্রিক বাস্তবতা হিসেবে তুলে ধরা আন্তর্জাতিক ন্যায়বোধের পরিপন্থী। অপরাধ সংঘটিত হলে তা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হয়, এটি একটি চলমান রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়া। কিন্তু এসব বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে বৃহৎ আকারে উপস্থাপন করে পুরো অঞ্চলের পরিস্থিতিকে নেতিবাচকভাবে চিত্রিত করা স্পষ্টতই পরিকল্পিত ও একটি রাজনৈতিক অভিসন্ধির ইঙ্গিত দেয়।

আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, তিনি আন্তর্জাতিক আইন যেমন United Nations Declaration on the Rights of Indigenous Peoples এবং Convention on the Elimination of All Forms of Discrimination Against Women এর প্রসঙ্গ টেনে এনে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপন করেছেন, যা পুরোপুরি মিথ্যা ও বাস্তবতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বাংলাদেশ সরকার নারী অধিকার, সংখ্যালঘু সুরক্ষা এবং আঞ্চলিক উন্নয়নে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে কাজ করে যাচ্ছে। সুতরাং পরিকল্পিত ও রাজনৈতিক অভিসন্ধিমূলক এ ধরনের অভিযোগ কেবল বিভ্রান্তিকর নয়, বরং আন্তর্জাতিক ফোরামকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার অপচেষ্টাও বটে।

পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত বাঙালি, চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, ম্রোসহ বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষ দীর্ঘদিন ধরে পারস্পরিক সহাবস্থান বজায় রেখে জীবনযাপন করছে। সাম্প্রতিক সময়ে সরকার ও নিরাপত্তা বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগে পার্বত্য চট্টগ্রামের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়েছে। এই বাস্তবতাকে অস্বীকার করে পরিকল্পিত ভাবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কেবল নেতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরা এক ধরনের বিভাজনমূলক প্রচারণা, যা কোনোভাবেই আইন সম্মত নয় বা গ্রহণযোগ্য নয়।

অগাস্টিনা চাকমার এ ধরনের পরিকল্পিত ও স্বার্থান্বেষী মহলের রাজনৈতিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বক্তব্যের ফলে আন্তর্জাতিক মহলে ভুল বার্তা যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা দেশের সার্বভৌমত্ব এবং অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার জন্য ক্ষতিকর। এ ধরনের কর্মকাণ্ড পার্বত্য অঞ্চলের সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার চলমান প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। বিশেষ করে পার্বত্য চট্টগ্রামের মতো একটি স্পর্শ কাতর অঞ্চলকে ঘিরে এ ধরনের বক্তব্য নতুন করে উত্তেজনা ও অবিশ্বাসের জন্ম দিতে পারে।

বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র। দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় আন্তর্জাতিক পরিসরে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা কোনোভাবেই দায়িত্বশীল আচরণ নয়। মত প্রকাশের স্বাধীনতা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু তা যদি অসত্য, অতিরঞ্জিত এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়, তবে তা রাষ্ট্র ও জনগণের জন্য ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়ায়।

পার্বত্য চট্টগ্রামের সর্বস্তরের জনগণ অগাস্টিনা চাকমার এই বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। তারা মনে করে, এ ধরনের বক্তব্য কেবল বিভাজন সৃষ্টি করে না, বরং দীর্ঘদিনের শান্তি ও সম্প্রীতির পরিবেশকে নষ্ট করার অপচেষ্টা। একইসঙ্গে তারা দাবি জানিয়েছেন, অগাস্টিনা চাকমা সহ এমন মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য আন্তর্জাতিক পরিসরে উপস্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

এছাড়াও, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর প্রতিও আহ্বান জানানো হচ্ছে যে, কোনো অভিযোগ বা বক্তব্য গ্রহণের আগে তা নিরপেক্ষভাবে যাচাই-বাছাই করা প্রয়োজন। একতরফা তথ্যের ভিত্তিতে কোনো রাষ্ট্র বা অঞ্চলকে বিচার করা হলে তা নিতান্তই বেআইনি বা ন্যায়বিচারের পরিপন্থী হয়ে দাঁড়ায়।

পার্বত্য চট্টগ্রাম একটি সম্ভাবনাময় অঞ্চল, যেখানে শান্তি, উন্নয়ন এবং সম্প্রীতির ভিত্তিতে একটি ইতিবাচক ভবিষ্যৎ গড়ে উঠছে। অগাস্টিনা চাকমার এ ধরনের বিভ্রান্তিকর বক্তব্য সেই অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করতে পারে। তাই দেশের স্বার্থ, জনগণের নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় সকলকে সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। পার্বত্য চট্টগ্রামসহ পুরো বাংলাদেশের জনগণ আশা করে, সত্য ও বাস্তবতার ভিত্তিতেই আন্তর্জাতিক পরিসরে দেশের চিত্র তুলে ধরা হবে, কোনো ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত স্বার্থে নয়।


চ্যানেল সিএইচটি

সম্পাদক : উপদেষ্টা :কামাল পারভেজ
কপিরাইট © ২০২৬ চ্যানেল সিএইচটি । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত