সোমবার, ২৫ মে ২০২৬
২৫ মে, ২০২৬ ঢাকা
চ্যানেল সিএইচটি

আলুটিলায় মসজিদ নির্মাণ নিয়ে অপপ্রচার ও পাহাড়ি সংগঠনগুলোর দ্বৈতনীতি।



আলুটিলায় মসজিদ নির্মাণ নিয়ে অপপ্রচার ও পাহাড়ি সংগঠনগুলোর দ্বৈতনীতি।

পার্বত্য চট্টগ্রামের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র খাগড়াছড়ির আলুটিলা। প্রতিদিন হাজার হাজার পর্যটক এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে ভিড় করেন। তবে দীর্ঘদিনের একটি মৌলিক সমস্যার সমাধানে যখন স্থানীয়রা ও মুসলিম সমাজ এগিয়ে এসেছে, তখনই এক শ্রেণির স্বার্থান্বেষী মহলের অপতৎপরতা শুরু হয়েছে। আলুটিলায় একটি মসজিদ নির্মাণকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠন ইউপিডিএফ-এর বিভ্রান্তিকর প্রচারণা ও সাম্প্রদায়িক উসকানি এখন জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে।

​১. পর্যটকদের দীর্ঘদিনের দাবি ও ধর্মীয় অধিকার;

​আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্রে আসা পর্যটকদের একটি বিশাল অংশ মুসলিম। কিন্তু সেখানে কোনো নামাজের ব্যবস্থা না থাকায় ধর্মপ্রাণ পর্যটকদের দীর্ঘ সময় বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। বাংলাদেশের সংবিধানের ৪১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, যেকোনো নাগরিকের ধর্ম পালন ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান স্থাপনের পূর্ণ অধিকার রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা এবং পর্যটকদের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই সেখানে একটি মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একে সাধারণ মানুষ ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও একটি গোষ্ঠী একে রাজনৈতিক রূপ দেওয়ার চেষ্টা করছে।

​২. ইউপিডিএফ-এর বিভ্রান্তিকর প্রচারণা;

​মসজিদ নির্মাণের কাজ শুরু হওয়ার পর থেকেই পাহাড়ের সাম্প্রদায়িক সংগঠন ইউপিডিএফ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও বিভিন্ন মাধ্যমে অপপ্রচার শুরু করেছে। তারা একে 'পাহাড় দখল' বা 'সাম্প্রদায়িক আগ্রাসন' হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা করছে। অথচ পর্যটন কেন্দ্রে সকল ধর্মের মানুষের নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে।

​৩. দ্বৈতনীতি ও ভূমি দখলের অভিযোগ;

​মসজিদ নির্মাণের বিরোধিতা করলেও পাহাড়ি সংগঠনগুলোর কর্মকাণ্ডে চরম দ্বৈতনীতি পরিলক্ষিত হচ্ছে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে:

​পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্ন দুর্গম পাহাড়ে সরকারি খাস জমি দখল করে নিয়মবহির্ভূতভাবে বৌদ্ধ মূর্তি স্থাপন করা হচ্ছে।

​অনেক স্থানে প্রয়োজন না থাকা সত্ত্বেও শত শত একর ভূমি দখল করে 'ক্যাং' বা বিহার নির্মাণ করা হচ্ছে।

​বৌদ্ধ মূর্তি স্থাপনের আড়ালে মূলত সরকারি জমি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখাই এসব গোষ্ঠীর মূল লক্ষ্য বলে অভিযোগ রয়েছে।

​৪. প্রশাসনিক নজরদারির প্রয়োজনীয়তা;

​মসজিদ নির্মাণ যেখানে মানুষের মৌলিক ও ধর্মীয় চাহিদার অংশ, সেখানে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভূমি দখলের জন্য ক্যাং বা বিহার নির্মাণ করা আইনের পরিপন্থী। আলুটিলায় পর্যটকদের সুবিধার্থে মসজিদ নির্মাণ যেমন সময়ের দাবি, তেমনি সরকারি জমি দখল করে অবৈধ স্থাপনা তৈরিকারী ভূমিখেকোদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

​৫. পার্বত্য চট্টগ্রামে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য সকল ধর্মের মানুষের সমঅধিকার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। আলুটিলায় মসজিদ নির্মাণ নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে যারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চায়, তাদের মুখোশ উন্মোচন করা এখন সময়ের দাবি। একই সাথে বিহার বা ক্যাং ঘরের নামে দখল করা পাহাড়ের ভূমি রক্ষা এবং সরকারি খাস জমি দখলমুক্ত করতে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছে সচেতন নাগরিক সমাজ।

আপনার মতামত লিখুন

চ্যানেল সিএইচটি

সোমবার, ২৫ মে ২০২৬


আলুটিলায় মসজিদ নির্মাণ নিয়ে অপপ্রচার ও পাহাড়ি সংগঠনগুলোর দ্বৈতনীতি।

প্রকাশের তারিখ : ০৯ মে ২০২৬

featured Image

পার্বত্য চট্টগ্রামের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র খাগড়াছড়ির আলুটিলা। প্রতিদিন হাজার হাজার পর্যটক এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে ভিড় করেন। তবে দীর্ঘদিনের একটি মৌলিক সমস্যার সমাধানে যখন স্থানীয়রা ও মুসলিম সমাজ এগিয়ে এসেছে, তখনই এক শ্রেণির স্বার্থান্বেষী মহলের অপতৎপরতা শুরু হয়েছে। আলুটিলায় একটি মসজিদ নির্মাণকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠন ইউপিডিএফ-এর বিভ্রান্তিকর প্রচারণা ও সাম্প্রদায়িক উসকানি এখন জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে।

​১. পর্যটকদের দীর্ঘদিনের দাবি ও ধর্মীয় অধিকার;

​আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্রে আসা পর্যটকদের একটি বিশাল অংশ মুসলিম। কিন্তু সেখানে কোনো নামাজের ব্যবস্থা না থাকায় ধর্মপ্রাণ পর্যটকদের দীর্ঘ সময় বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। বাংলাদেশের সংবিধানের ৪১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, যেকোনো নাগরিকের ধর্ম পালন ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান স্থাপনের পূর্ণ অধিকার রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা এবং পর্যটকদের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই সেখানে একটি মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একে সাধারণ মানুষ ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও একটি গোষ্ঠী একে রাজনৈতিক রূপ দেওয়ার চেষ্টা করছে।

​২. ইউপিডিএফ-এর বিভ্রান্তিকর প্রচারণা;

​মসজিদ নির্মাণের কাজ শুরু হওয়ার পর থেকেই পাহাড়ের সাম্প্রদায়িক সংগঠন ইউপিডিএফ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও বিভিন্ন মাধ্যমে অপপ্রচার শুরু করেছে। তারা একে 'পাহাড় দখল' বা 'সাম্প্রদায়িক আগ্রাসন' হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা করছে। অথচ পর্যটন কেন্দ্রে সকল ধর্মের মানুষের নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে।

​৩. দ্বৈতনীতি ও ভূমি দখলের অভিযোগ;

​মসজিদ নির্মাণের বিরোধিতা করলেও পাহাড়ি সংগঠনগুলোর কর্মকাণ্ডে চরম দ্বৈতনীতি পরিলক্ষিত হচ্ছে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে:

​পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্ন দুর্গম পাহাড়ে সরকারি খাস জমি দখল করে নিয়মবহির্ভূতভাবে বৌদ্ধ মূর্তি স্থাপন করা হচ্ছে।

​অনেক স্থানে প্রয়োজন না থাকা সত্ত্বেও শত শত একর ভূমি দখল করে 'ক্যাং' বা বিহার নির্মাণ করা হচ্ছে।

​বৌদ্ধ মূর্তি স্থাপনের আড়ালে মূলত সরকারি জমি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখাই এসব গোষ্ঠীর মূল লক্ষ্য বলে অভিযোগ রয়েছে।

​৪. প্রশাসনিক নজরদারির প্রয়োজনীয়তা;

​মসজিদ নির্মাণ যেখানে মানুষের মৌলিক ও ধর্মীয় চাহিদার অংশ, সেখানে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভূমি দখলের জন্য ক্যাং বা বিহার নির্মাণ করা আইনের পরিপন্থী। আলুটিলায় পর্যটকদের সুবিধার্থে মসজিদ নির্মাণ যেমন সময়ের দাবি, তেমনি সরকারি জমি দখল করে অবৈধ স্থাপনা তৈরিকারী ভূমিখেকোদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

​৫. পার্বত্য চট্টগ্রামে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য সকল ধর্মের মানুষের সমঅধিকার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। আলুটিলায় মসজিদ নির্মাণ নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে যারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চায়, তাদের মুখোশ উন্মোচন করা এখন সময়ের দাবি। একই সাথে বিহার বা ক্যাং ঘরের নামে দখল করা পাহাড়ের ভূমি রক্ষা এবং সরকারি খাস জমি দখলমুক্ত করতে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছে সচেতন নাগরিক সমাজ।


চ্যানেল সিএইচটি

সম্পাদক : উপদেষ্টা :কামাল পারভেজ
কপিরাইট © ২০২৬ চ্যানেল সিএইচটি । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত