সোমবার, ২৫ মে ২০২৬
২৫ মে, ২০২৬ ঢাকা
চ্যানেল সিএইচটি

ইউপিডিএফ-জেএসএস সন্ত্রাসীদের গোলাগুলিতে নিহত ১, মারা গেল ৩ গরু; ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি ও মোটরসাইকেল।



ইউপিডিএফ-জেএসএস সন্ত্রাসীদের গোলাগুলিতে নিহত ১, মারা গেল ৩ গরু; ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি ও মোটরসাইকেল।

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার পানছড়ি উপজেলার লোগাং ইউনিয়নের জগাছড়া এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ে প্রসীত বিকাশ খীসার নেতৃত্বাধীন পাহাড়ের আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠন ইউপিডিএফ ও সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন অপর সশস্ত্র সংগঠন জেএসএসের মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে চলা সশস্ত্র সংঘর্ষে এক ইউপিডিএফ সদস্য নিহত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২১ মে ২০২৬) ভোর ৪টা থেকে দুপুর পর্যন্ত থেমে থেমে কয়েক দফায় এ গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।

ইউপিডিএফের প্রচারমাধ্যম হিসেবে পরিচিত সিএইচটি নিউজ (ব্লগ সাইট) দাবি করেছে, সংঘর্ষে তাদের এক সদস্য নিহত হয়েছে। তবে নিহত ব্যক্তির পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।

অন্যদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন আইডি ও পেজে উভয় পক্ষের হতাহতের নানা দাবি ছড়িয়ে পড়লেও স্থানীয় প্রশাসন এখনো কোনো হতাহতের তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।

গতকাল খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার মোঃ মোরতজা আলী খান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেছিলেন, দুর্গম এলাকা হওয়ায় হতাহতদের বিষয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রসীত বিকাশ খীসার নেতৃত্বাধীন ইউপিডিএফ এবং সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জেএসএসের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এ গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষ চলাকালে উভয় পক্ষের নির্বিচার গুলিতে স্থানীয় বাসিন্দাদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গোলাগুলির সময় পাড়ার অন্তত তিনটি গরু গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছে এবং আরও একটি গরু গুরুতর আহত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তরা হলেন জগপাড়া এলাকার শ্যামল চাকমা (৩৮) ও চাক্কোয়ালি চাকমা (৭০)। এর মধ্যে শ্যামল চাকমার একটি এবং চাক্কোয়ালি চাকমার দুটি গরু মারা যায়। এছাড়া চাক্কোয়ালি চাকমার আরও একটি গরু গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়েছে।

এছাড়া জুনেল চাকমা (২৬) নামে এক যুবকের ব্যবহৃত একটি Hero Hunk ১৫০ সিসি মোটরসাইকেল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। গ্রামবাসীরা জানান, গোলাগুলির সময় কয়েকটি বসতঘরেও গুলি লাগে। এতে ঘরের আলমারি, চেয়ারসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

একটি অসমর্থিত সূত্র জানিয়েছে, সংঘর্ষের পর উভয় পক্ষই তাদের আহত ও নিহত সদস্যদের দ্রুত সরিয়ে নেয়। ফলে প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।

স্থানীয়রা জানান, দুর্গম পাহাড়ি এলাকাগুলোতে প্রায়ই ইউপিডিএফ ও জেএসএসের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে সাধারণ নিরীহ মানুষ আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

অপরদিকে, উপজেলার লোগাং ইউনিয়নের বাবুরাপাড়া ও করল্যাছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এলাকায় সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনায় অভিযান চালিয়ে অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

বৃহস্পতিবার ওই এলাকায় গোলাগুলির খবর পেয়ে সেনাবাহিনীর খাগড়াছড়ি জোনের একটি সেনা টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অভিযান পরিচালনা করে। এসময় সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা সেনাবাহিনীর টহল দলকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে সেনাসদস্যরা আত্মরক্ষার্থে পাল্টা ফায়ার করে। পরে সন্ত্রাসীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পালিয়ে যায়।

অভিযান শেষে সেনাবাহিনী ঘটনাস্থল তল্লাশি চালিয়ে ১টি চায়না রাইফেল, ২৭৪ রাউন্ড গোলাবারুদ, ২টি এফসিসি এবং অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধার করে। একই সঙ্গে এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ ঘটনায় কোনো সেনাসদস্য হতাহত হননি এবং বর্তমানে এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

খাগড়াছড়ি জোন অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মোঃ খাদেমুল ইসলাম জানিয়েছেন, খাগড়াছড়ি জোনের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় কোনো ধরনের চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের স্থান দেওয়া হবে না। জনসাধারণের নিরাপদ জীবনযাপন নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযানিক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

তিনি আরও বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে সকল জাতিগোষ্ঠীর জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সবসময় কাজ করে যাচ্ছে এবং সশস্ত্র সন্ত্রাসী কার্যক্রম দমনে কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

প্রসঙ্গত, পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন দুর্গম এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে সংঘাত অব্যাহত রয়েছে। এসব ঘটনায় প্রাণহানির পাশাপাশি স্থানীয়দের জানমালেরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। পাশাপাশি নিরাপত্তা নিশ্চিতে নিরাপত্তা বাহিনীও নিয়মিত টহল ও অভিযান জোরদার করেছে।

সূত্র: সাউথইস্ট এশিয়া জার্নাল

আপনার মতামত লিখুন

চ্যানেল সিএইচটি

সোমবার, ২৫ মে ২০২৬


ইউপিডিএফ-জেএসএস সন্ত্রাসীদের গোলাগুলিতে নিহত ১, মারা গেল ৩ গরু; ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি ও মোটরসাইকেল।

প্রকাশের তারিখ : ২২ মে ২০২৬

featured Image

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার পানছড়ি উপজেলার লোগাং ইউনিয়নের জগাছড়া এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ে প্রসীত বিকাশ খীসার নেতৃত্বাধীন পাহাড়ের আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠন ইউপিডিএফ ও সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন অপর সশস্ত্র সংগঠন জেএসএসের মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে চলা সশস্ত্র সংঘর্ষে এক ইউপিডিএফ সদস্য নিহত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২১ মে ২০২৬) ভোর ৪টা থেকে দুপুর পর্যন্ত থেমে থেমে কয়েক দফায় এ গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।

ইউপিডিএফের প্রচারমাধ্যম হিসেবে পরিচিত সিএইচটি নিউজ (ব্লগ সাইট) দাবি করেছে, সংঘর্ষে তাদের এক সদস্য নিহত হয়েছে। তবে নিহত ব্যক্তির পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।

অন্যদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন আইডি ও পেজে উভয় পক্ষের হতাহতের নানা দাবি ছড়িয়ে পড়লেও স্থানীয় প্রশাসন এখনো কোনো হতাহতের তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।

গতকাল খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার মোঃ মোরতজা আলী খান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেছিলেন, দুর্গম এলাকা হওয়ায় হতাহতদের বিষয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রসীত বিকাশ খীসার নেতৃত্বাধীন ইউপিডিএফ এবং সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জেএসএসের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এ গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষ চলাকালে উভয় পক্ষের নির্বিচার গুলিতে স্থানীয় বাসিন্দাদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গোলাগুলির সময় পাড়ার অন্তত তিনটি গরু গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছে এবং আরও একটি গরু গুরুতর আহত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তরা হলেন জগপাড়া এলাকার শ্যামল চাকমা (৩৮) ও চাক্কোয়ালি চাকমা (৭০)। এর মধ্যে শ্যামল চাকমার একটি এবং চাক্কোয়ালি চাকমার দুটি গরু মারা যায়। এছাড়া চাক্কোয়ালি চাকমার আরও একটি গরু গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়েছে।

এছাড়া জুনেল চাকমা (২৬) নামে এক যুবকের ব্যবহৃত একটি Hero Hunk ১৫০ সিসি মোটরসাইকেল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। গ্রামবাসীরা জানান, গোলাগুলির সময় কয়েকটি বসতঘরেও গুলি লাগে। এতে ঘরের আলমারি, চেয়ারসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

একটি অসমর্থিত সূত্র জানিয়েছে, সংঘর্ষের পর উভয় পক্ষই তাদের আহত ও নিহত সদস্যদের দ্রুত সরিয়ে নেয়। ফলে প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।

স্থানীয়রা জানান, দুর্গম পাহাড়ি এলাকাগুলোতে প্রায়ই ইউপিডিএফ ও জেএসএসের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে সাধারণ নিরীহ মানুষ আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

অপরদিকে, উপজেলার লোগাং ইউনিয়নের বাবুরাপাড়া ও করল্যাছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এলাকায় সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনায় অভিযান চালিয়ে অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

বৃহস্পতিবার ওই এলাকায় গোলাগুলির খবর পেয়ে সেনাবাহিনীর খাগড়াছড়ি জোনের একটি সেনা টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অভিযান পরিচালনা করে। এসময় সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা সেনাবাহিনীর টহল দলকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে সেনাসদস্যরা আত্মরক্ষার্থে পাল্টা ফায়ার করে। পরে সন্ত্রাসীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পালিয়ে যায়।

অভিযান শেষে সেনাবাহিনী ঘটনাস্থল তল্লাশি চালিয়ে ১টি চায়না রাইফেল, ২৭৪ রাউন্ড গোলাবারুদ, ২টি এফসিসি এবং অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধার করে। একই সঙ্গে এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ ঘটনায় কোনো সেনাসদস্য হতাহত হননি এবং বর্তমানে এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

খাগড়াছড়ি জোন অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মোঃ খাদেমুল ইসলাম জানিয়েছেন, খাগড়াছড়ি জোনের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় কোনো ধরনের চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের স্থান দেওয়া হবে না। জনসাধারণের নিরাপদ জীবনযাপন নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযানিক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

তিনি আরও বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে সকল জাতিগোষ্ঠীর জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সবসময় কাজ করে যাচ্ছে এবং সশস্ত্র সন্ত্রাসী কার্যক্রম দমনে কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

প্রসঙ্গত, পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন দুর্গম এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে সংঘাত অব্যাহত রয়েছে। এসব ঘটনায় প্রাণহানির পাশাপাশি স্থানীয়দের জানমালেরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। পাশাপাশি নিরাপত্তা নিশ্চিতে নিরাপত্তা বাহিনীও নিয়মিত টহল ও অভিযান জোরদার করেছে।

সূত্র: সাউথইস্ট এশিয়া জার্নাল


চ্যানেল সিএইচটি

সম্পাদক : উপদেষ্টা :কামাল পারভেজ
কপিরাইট © ২০২৬ চ্যানেল সিএইচটি । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত