সোমবার, ২৫ মে ২০২৬
২৫ মে, ২০২৬ ঢাকা
চ্যানেল সিএইচটি

পার্বত্য চট্টগ্রামে চিহ্নিত ২৪৬ চাঁদাবাজ, চাঁদার অর্থ ব্যয় হয় অস্ত্র কিনতে; উপজাতীয় সন্ত্রাসীগোষ্ঠীর চাঁদাবাজির আদ্যোপান্ত!



পার্বত্য চট্টগ্রামে চিহ্নিত ২৪৬ চাঁদাবাজ, চাঁদার অর্থ ব্যয় হয় অস্ত্র কিনতে; উপজাতীয় সন্ত্রাসীগোষ্ঠীর চাঁদাবাজির আদ্যোপান্ত!

পার্বত্য চট্টগ্রামের সবুজ জনপদে ভয়ানক আতঙ্কের নাম 'উপজাতীয় সশস্ত্র সন্ত্রাসীগোষ্ঠী ও তাদের চাঁদাবাজি'। পাহাড়ে আচ্ছাদিত এই অঞ্চলে অশান্তি ও সহিংসতার মূল কারণ এই সন্ত্রাসীগোষ্ঠী ও তাদের বিচ্ছিন্নতাবাদী কর্মকাণ্ড। সন্ত্রাসীদের টিকে থাকার মূল চালিকাশক্তি হলো 'চাঁদাবাজি'। ১৯৯৭ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির পর সন্ত্রাসীদের অস্ত্র জমা দিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার কথা থাকলেও তারা চুক্তি ভঙ্গ করে অস্ত্র ও সশস্ত্র সন্ত্রাসীর সংখ্যা আরও বৃদ্ধি করেছে। আর তাদের সশস্ত্র ও দেশবিরোধী কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য 'চাঁদাবাজি'ই তাদের অন্যতম উৎস। তাদের চাঁদাবাজির কবল থেকে রক্ষা পায় না উপজাতি, বাঙালি, পর্যটক, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, শ্রমিক, ঠিকাদার, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, মোবাইল কোম্পানি, গরিব কৃষক ও জেলে, গাড়িচালক ও সরকারি কর্মকর্তাসহ কেউই। উপজাতীয় সন্ত্রাসীদের এই চাঁদাবাজিই পাহাড় ও পাহাড়ের মানুষের উন্নয়ন, জীবনযাত্রার মান, শান্তি ও নিরাপত্তা কেড়ে নিয়েছে। পাহাড়ের আনাচেকানাচে, জঙ্গলে, লোকালয়ে সর্বত্র শুধু অস্ত্র ও চাঁদাবাজির আতঙ্ক।

চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্য রোধ এবং তাদের আইনের আওতায় আনতে ঢাকাসহ দেশের ৬৪ জেলার চাঁদাবাজদের প্রাথমিক তালিকা প্রস্তুত করেছে পুলিশ। এই তালিকায় রয়েছে মোট ৩,৮৪৯ জন চাঁদাবাজের নাম। পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন পার্বত্য জেলায় ২৪৬ জন চাঁদাবাজের নাম উঠে এসেছে। ঢাকার পরে ৯২ জন চাঁদাবাজ নিয়ে দ্বিতীয় শীর্ষে রয়েছে রাঙামাটি; অন্যদিকে খাগড়াছড়িতে ৮৮ জন এবং বান্দরবানে ৬৬ জন চাঁদাবাজ চিহ্নিত হয়েছে। তবে নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে চাঁদাবাজের এই সংখ্যা নেহাত ২৪৬ জন নয়, বরং এর সারি আরও অনেক দীর্ঘ হতে পারে। পাহাড়ে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে সক্রিয় রয়েছে ৬টি আঞ্চলিক উপজাতীয় সশস্ত্র সন্ত্রাসীগোষ্ঠী। সেগুলো হলো পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস), পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস সংস্কার), ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ), ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক), কুকিচিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ) ও মগ লিবারেশন পার্টি। তা ছাড়া মারমা ন্যাশনাল পার্টি নামেও একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী সক্রিয় রয়েছে বান্দরবানের উত্তরাংশে। জেএসএসের ভুঁইফোড় ছাত্র সংগঠন 'পিসিপি' ও মহিলা সংগঠন 'হিল উইমেন ফেডারেশন'ও বিভিন্ন নামে-বেনামে আড়ালে চাঁদাবাজি করে আসছে।

পাহাড়ের জনগণ ভেবেছিল পার্বত্য চুক্তির পর চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড কমে যাবে, কিন্তু চুক্তি-পরবর্তী সময়ে যেমন সন্ত্রাসীগোষ্ঠীর সংখ্যা বেড়েছে তেমনি চাঁদাবাজিও কয়েক শত গুণ বেড়েছে। একাধিক জাতীয় পত্রিকার অনুসন্ধান অনুযায়ী, পার্বত্য চট্টগ্রামে শুধু দেড় বছরেই প্রায় ৭০০ কোটি টাকা চাঁদাবাজি হয়। চাঁদা না দিলে পাহাড়ে ক্ষুদ্র ফলমূল বিক্রেতা থেকে শুরু করে ঠিকাদারি সংস্থা, পরিবহন, ব্যবসায়-বাণিজ্য কোনো কাজই করতে দেয় না সন্ত্রাসীরা। ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর থেকে সন্ত্রাসীরা চাঁদার পরিমাণ দ্বিগুণ বৃদ্ধি করেছে। চাঁদা না দিলে অপহরণ, গুম থেকে শুরু করে হত্যাও করে সন্ত্রাসীরা। এই সমস্ত সশস্ত্র গোষ্ঠীর নেতৃত্বে বেশির ভাগই চাকমা সম্প্রদায়ের লোকেরাই। সন্ত্রাসীগোষ্ঠীগুলো চাঁদাবাজি ও ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে নিজেরাই প্রতিনিয়ত অভ্যন্তরীণ সংঘাত ও সহিংসতায় লিপ্ত হয়ে অসংখ্য প্রাণ ঝরাচ্ছে।

সবচেয়ে ভয়ংকর এবং চ্যালেঞ্জের বিষয় হলো, চাঁদাবাজি থেকে আয়কৃত অর্থ সন্ত্রাসীরা আবার কাজে লাগাচ্ছে দেশের বিরুদ্ধেই। চাঁদাবাজি থেকে আয়কৃত হাজার হাজার কোটি টাকার সিংহভাগ ব্যয় হয় সীমান্তের ওপার থেকে অত্যাধুনিক অস্ত্র ও গোলাবারুদ কিনতে। তিন পার্বত্য জেলার সঙ্গে ভারত ও মিয়ানমারের সীমান্ত রয়েছে; সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলো এখন অস্ত্র ও মাদক চোরাচালানের স্বর্গরাজ্যে পরিণত করেছে পাহাড়ের সন্ত্রাসীরা। এই সমস্ত সন্ত্রাসীরা স্বাধীনতার পর থেকে পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামকে বিচ্ছিন্ন করে স্বাধীন 'জুম্মল্যান্ড' কিংবা 'কুকি রাষ্ট্র' বানানোর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। তাই তারা পাহাড়ে নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহ চালিয়ে যাচ্ছে। রাষ্ট্র ও জনগণের কাছ থেকে চাঁদাবাজি করে আবার সেই অর্থ রাষ্ট্র ও জনগণের বিরুদ্ধে ব্যবহার করছে সন্ত্রাসীরা। বিগত বছরগুলোতে তাদের চাঁদাবাজির আলোচিত বেশ কয়েকটি ঘটনা বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায় তারা কীভাবে পাহাড়ে চাঁদাবাজির শক্তিশালী নেটওয়ার্ক তৈরি করেছে।

এক্স-ফোর্সেস অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য মতে, সন্ত্রাসী সংগঠন জেএসএস (সন্তু) বছরে ৪৫০ কোটি টাকা, ইউপিডিএফ (প্রসীত) ৩৫০ কোটি টাকা, ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) ১৫০ কোটি টাকা, জেএসএস (সংস্কার) ১৫০ কোটি টাকা, এমএনপি ৫০ কোটি টাকা এবং কেএনএফ ৫০ কোটি টাকার বেশি চাঁদা আদায় করে। সরকার পার্বত্য চট্টগ্রামে উপজাতি জনগোষ্ঠীর ভ্যাট-ট্যাক্স মওকুফ করলেও তাদের কাছ থেকেও চাঁদা আদায় করে শীর্ষ এই ছয়টি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী। খাগড়াছড়ি জেলা ও দায়রা জজ কোর্টের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মঞ্জুর মোর্শেদ ভূঁইয়া দৈনিক আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষ চাঁদাবাজি থেকে রেহাই পাচ্ছে না। ব্যবসায়ী, কৃষক, চাকরিজীবী সবাইকে নির্দিষ্ট হারে চাঁদা পরিশোধ করতে হয়। নিয়মিত স্পট, মাসিক, ষাণ্মাসিক ও বার্ষিক ভিত্তিতে চাঁদা দিতে হয়'। অন্যদিকে সরকার ও নিরাপত্তা বাহিনীর তথ্যসূত্র অনুযায়ী, পার্বত্য চুক্তির পর থেকে এ পর্যন্ত তিন জেলায় সন্ত্রাসীদের আধিপত্য বিস্তার ও চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে বন্দুকযুদ্ধে ১২ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। একই সময়ে অপহরণের শিকার হয়েছে ২ হাজার ১১৮ জন। এর মধ্যে বাঙালি, উপজাতি, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও শ্রমিকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ রয়েছে। তা ছাড়া ১৯৭৩ সালের পর থেকে সন্ত্রাসীরা বাঙালি জনগোষ্ঠীর উপর ১০টিরও বেশি গণহত্যা চালিয়েছে। যার কোনো বিচার আদৌ হয়নি।

চাঁদাবাজির কবল থেকে মোবাইল কোম্পানিগুলোরও রেহাই পাচ্ছে না। তাদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে শত শত কোটি টাকা। ২০২৫ সালের ২২ জানুয়ারি চাঁদা না দেওয়ায় রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির চারটি উপজেলায় একটি বেসরকারি মোবাইল ফোন কোম্পানির ১০টি টাওয়ারে হামলা চালিয়ে নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে সন্ত্রাসী প্রসীত বিকাশ খীসার নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ মূল) বিরুদ্ধে। ঐদিন ভোররাতে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা, মানিকছড়ি ও মাটিরাঙ্গায় ছয়টি মোবাইল টাওয়ারের পাশাপাশি রাঙামাটির নানিয়ারচরে চারটি টাওয়ারে সমন্বিত হামলা চালায় ইউপিডিএফ সন্ত্রাসীরা। তারা সার্ভার রুম ভাঙচুরসহ টাওয়ারের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে। এর পাশাপাশি বেশ কিছু যন্ত্রপাতিও লুট করে নিয়ে যায় তারা। মোবাইল নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন থাকায় কোম্পানির কয়েক লাখ গ্রাহক চরম বিপাকে পড়ে কোটি টাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং প্রশাসনিক কাজকর্মে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটে ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।

সন্ত্রাসীদের চাঁদাবাজি থেকে মুক্তি বাদ যাচ্ছে না শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষার্থী ও গরিব জেলেরাও। ২০২৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন একাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবন নির্মাণকাজ শুরু হয়। এ সময় সশস্ত্র গোষ্ঠী জেএসএস (মূল)-এর ছয়-সাতজন সন্ত্রাসী কাপ্তাই লেক হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে। তারা নিরাপত্তা প্রহরীর মোবাইল ফোন জব্দ করে শ্রমিকদের কাজ বন্ধের নির্দেশ দেয়। এক কোটি টাকা চাঁদা না দিলে কাজ চালাতে দেবে না এবং অবাধ্য হলে সবাইকে গুলি করে হত্যার হুমকি দিয়ে কাজ বন্ধ করে দেয়। ২০২৪ সালের ১ সেপ্টেম্বর প্রতিবছরের ন্যায় যথারীতি আঞ্চলিক দলগুলোর কাছ থেকে চাঁদা দিয়ে টোকেন কেটেছিল কাপ্তাই লেকের জেলেরা। কিন্তু মাছ ধরার দিন সন্ত্রাসীরা চারটি গ্রুপের জন্য প্রায় ২ কোটি টাকা চাঁদা চেয়ে খবর পাঠায় জেলেদের। মাছ ধরার শুরুর প্রাক্কালে অন্যান্য বছরের ন্যায় ধারাবাহিক চাঁদাও পরিশোধ করতে হয়েছে। কিন্তু ব্যবসার শুরুর দিনটিতে নতুন করে প্রতি গ্রুপের ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করায় জেলেদের পথে বসার উপক্রম হয়েছে। কাপ্তাই মৎস্যজীবী সমিতির নেতৃবৃন্দ জানান, জেএসএস (সন্তু) সমর্থিত কিছু সন্ত্রাসী সদস্য কাপ্তাই মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির নিকট অতিরিক্ত বার্ষিক চাঁদা দাবি করে। তাদের কথামতো চাঁদা না দেওয়ায় জেলেদের মাছ ধরতে নিষেধ করে দেওয়া হয়েছে, অন্যথায় হত্যার হুমকিও দেয় সন্ত্রাসীরা। এর ফলে জেলেরা মাছ ধরা থেকে বিরত থাকায় কোটি কোটি টাকা লোকসানের মুখে পড়েছে তারা।

কাঁচা তরকারি, ফলমূল ও অন্যান্য যেকোনো পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে চাঁদাবাজির এই সংকট আরও প্রকট। ২০২৫ সালের ৯ আগস্ট কালের কণ্ঠ পত্রিকা অনুযায়ী, খাগড়াছড়ির একজন কাঠ ব্যবসায়ী জানান, দীঘিনালা থেকে এক ট্রাক কাঠ নিয়ে ঢাকায় রওনা হলে ৫০ হাজার টাকা ট্রাক ভাড়ার বিপরীতে পথে পথে ১ লাখ টাকা চাঁদা দিতে হয়। একই চিত্র রাঙামাটির নানিয়ারচর ও লংগদু সড়কে। চাঁদার দাপটে গত বছর খাগড়াছড়ির পাঁচটি উপজেলায় সরকারি খাদ্য সরবরাহ পর্যন্ত বন্ধ হয়ে যায়। বাংলাদেশ খাদ্য পরিবহন সমিতির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সদস্য ধনা বাবু বলেন, 'পার্বত্য চট্টগ্রামের চাঁদাবাজ গ্রুপগুলো এত বেশি বাড়াবাড়ি করছে, যা সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে গেছে। রাস্তায় গাড়ি থামিয়ে চাঁদা আদায়, ইনভয়েসসহ কাগজপত্র ছিনিয়ে নেওয়া, চালকদের মারধর করার কারণে খাদ্য সরবরাহ কঠিন হয়ে পড়েছে।' এ ছাড়া স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন ভুঁইফোড় সংগঠনের নামেও অর্থ আদায় করে সন্ত্রাসীরা। খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা কালের কণ্ঠকে বলেন, 'পাহাড়ে চাঁদাবাজি এত বেশি যে এগুলো রুখে দেওয়া দায়।' একজন চেয়ারম্যানের মুখে এমন অসহায়ত্বের কথা শুনে বোঝা যায় সন্ত্রাসীদের চাঁদাবাজির মহোৎসব কোথায় গিয়ে ঠেকেছে।

চ্যানেল-২৪-এর সূত্রানুযায়ী, ২০২৫ সালের শুরুতে পর্যটন মৌসুমে খাগড়াছড়িতে ঘুরতে এসে অপহরণের শিকার হন পাঁচজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী, এর মধ্যে দুজন উপজাতি শিক্ষার্থীও ছিল। মুক্তিপণ দাবি করে তাদের নদী পার হয়ে নিয়ে যাওয়া হয় চেলাছড়া গ্রামে। পরে সাত দিনের শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে সেনাবাহিনী তাদের উদ্ধার করে। চাঁদাবাজির শিকার শুধু পর্যটকরাই নন; রিসোর্ট, হোটেল, মোটেলসহ সব পর্যটন-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে বার্ষিক মোটা অঙ্কের টাকা দিতে হয়। চাঁদা না দিয়ে তাদের ধরে নিয়ে গিয়ে আরও মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ দাবি করে। এমনকি গুম, অপহরণ ও হত্যাও করে। সশস্ত্র সন্ত্রাসী সংগঠনের এক সদস্য চ্যানেল-২৪-কে বলেন, 'পাহাড় আমাদের। এখানে সমতলের ব্যবসায়ী ব্যবসা করতে চাইলে চাঁদা দিতে হবে, মোবাইল অপারেটর হোক আর যে-ই হোক। মোবাইল অপারেটর কোম্পানি টাকা না দেওয়ার কারণে তাদের টাওয়ার সংযোগ কেটে দিয়েছি আমরা।' সন্ত্রাসীদের এমন প্রকাশ্য স্বীকারোক্তি নেহাত কোনো হুমকি নয়, বরং তাদের এই অপতৎপরতা দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের জন্য মারাত্মক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। চাঁদাবাজির অর্থের মাধ্যমে অস্ত্র কেনা, সীমান্তের ওপারে সন্ত্রাসীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া ও অনলাইনে রাষ্ট্র ও সেনাবিরোধী অপপ্রচার চালানোসহ বিভিন্ন দেশদ্রোহী কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হচ্ছে।

ইউপিডিএফের শীর্ষ কমান্ডার ও আলোচিত সন্ত্রাসী মাইকেল চাকমা ও তার সহযোগী সুমন চাকমাকে ২০০৭ সালের ৩০ অক্টোবর রাঙামাটির লংগদুতে সংঘটিত একটি চাঁদাবাজির মামলায় ৮ বছর কারাদণ্ড দেয় রাঙামাটি জেলা ও দায়রা জজ আদালত। আদালত সূত্রে জানা গেছে, রাঙামাটির অতিরিক্ত জেলা জজ পেনাল কোড ১৮৬০-এর ৩৮৫ ধারায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে এ সাজা ঘোষণা করেন। তদন্তে জানা যায়, ওইদিন নিরাপত্তা বাহিনী চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপের সময় তাদের অস্ত্র ও টাকাসহ আটক করে লংগদু থানায় হস্তান্তর করে মামলা দায়ের করে। এর আগে ২০২৩ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-২-এর অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মাইকেল চাকমাকে অস্ত্র ও চাঁদাবাজির মামলায় ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং হত্যার হুমকি ও চাঁদাবাজির অভিযোগে আরও ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন। চলতি বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলার মুরং বাজার এলাকায় 'জেএসএস (মূল)'-এর সশস্ত্র দলের বিরুদ্ধে একটি সফল অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালে সেনা সদস্যরা সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের দলটিকে অবৈধভাবে চাঁদা আদায়কালে শনাক্ত করতে সক্ষম হয়। তল্লাশি চালিয়ে ইউনিফর্ম পরিহিত হ্লামংনু মার্মা নামক একজন সশস্ত্র জেএসএস (মূল) সদস্যকে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এ সময় ১টি সাবমেশিনগান (এসএমজি), ১৪৩ রাউন্ড এসএমজি অ্যামিউনিশন, ১৪ রাউন্ড পিস্তলের অ্যামিউনিশন, ৫ রাউন্ড ব্লাংক অ্যামিউনিশন, ২টি অস্ত্রের ম্যাগাজিন এবং অন্যান্য সরঞ্জামাদি উদ্ধার করে সেনাবাহিনী।

সন্ত্রাসীদের চাঁদাবাজির সবচেয়ে বড় খাত হলো পরিবহন সেক্টর। রাঙামাটি জেলা অটোরিকশাচালক শ্রমিক ইউনিয়নের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় এক হাজার ৪১৬টি সিএনজি রেজিস্ট্রেশন রয়েছে, যার মধ্যে এক হাজার বাঙালি এবং ৪০০ পাহাড়ির মালিকানায়। পাহাড়ি এলাকায় চলতে হলে প্রতিটি সিএনজির জন্য মাসে এক হাজার ২০০ টাকা চাঁদা দিতে হয়। টোকেন না থাকলে সিএনজি আটকে রেখে ১০-১৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। এক সিএনজি মালিক জানান, 'আমাদের চালক রতন কাপ্তাই হ্রদ এলাকায় টোকেন ছাড়া গিয়েছিল। তাকে সিএনজিসহ গুম করে ফেলে সন্ত্রাসীরা। ১৫ বছরেও কোনো খোঁজ মেলেনি।' ২০১৬ সালের ২৯ নভেম্বর খাগড়াছড়ির লক্ষ্মীছড়ি উপজেলায় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান নিলবর্ণ চাকমাকে অপহরণ করা হয়। এখনো তিনি নিখোঁজ। অক্টোবরে খাগড়াছড়ির রামগড়ে সশস্ত্র উপজাতীয় সন্ত্রাসীদের হাতে অপহরণের ১২ ঘণ্টা পর আড়াই লাখ টাকা মুক্তিপণের বিনিময়ে ছাড়া পান তিন ব্যবসায়ী। একই সময়ে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী এলাকায় পিএইচসিপি রাবার বাগান থেকে ৩ প্রহরীকে অপহরণ করে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে উপজাতীয় সন্ত্রাসীরা। সেপ্টেম্বরে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার দোছড়ি ইউনিয়নের বাঁকখালী মৌজা থেকে দুই তামাক চাষিকে অপহরণের পর গহিন অরণ্যে ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণ নিয়ে অক্ষত অবস্থায় ছেড়ে দেওয়া হয়।

সন্ত্রাসীদের চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের নজির শুধু এই কয়েকটি নয়, বরং হাজার হাজার। বিচ্ছিন্নতাবাদী সন্ত্রাসীগোষ্ঠী কেএনএফও বান্দরবানের রুমা ও থানচিতে ২০২৪ সালের ৪ এপ্রিল সোনালী ও কৃষি ব্যাংকে ডাকাতি করে ২ কোটি টাকা ও নিরাপত্তা বাহিনীর ১৪টি অস্ত্র লুট করে নিয়ে যায়। এমন অসংখ্য বেদনাবিধুর অধ্যায়ের সাক্ষী পাহাড়। সন্ত্রাসীদের চাঁদাবাজির দৌরাত্ম্যে শুধু আর্থিক ক্ষতি নয়, সন্ত্রাসীদের গুম, খুন, অপহরণ ও হত্যার শিকার হচ্ছে পাহাড়ের নিরীহ উপজাতি, বাঙালি, শ্রমিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ লাখো মানুষ। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ব্যবসায়-বাণিজ্য, পর্যটন শিল্প, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে সাধারণ পেশার মানুষ এবং চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পাহাড়ের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা। সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে কোটি কোটি টাকার। সন্ত্রাসীদের এই চাঁদাবাজি পাহাড়ের মূল সমস্যা হয়ে মানুষের জীবনযাত্রাকে প্রভাবিত করছে। চাঁদাবাজির ফলে সন্ত্রাসীরা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে এবং এই টাকায় অস্ত্র কিনে তা দেশের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও বিচ্ছিন্নতাবাদী কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। তাই নতুন বাংলাদেশে নতুন সরকারের প্রতি পাহাড়ের মানুষের দাবি, পাহাড়ে নিরাপত্তা বাহিনী বৃদ্ধি করে সশস্ত্র চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে তাদের নির্মূল করে পাহাড়কে ষড়যন্ত্রের হাত থেকে রক্ষা করতে হবে।

লেখক: মিছবাহ উদ্দীন

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক লেখক ও সংগঠক

আপনার মতামত লিখুন

চ্যানেল সিএইচটি

সোমবার, ২৫ মে ২০২৬


পার্বত্য চট্টগ্রামে চিহ্নিত ২৪৬ চাঁদাবাজ, চাঁদার অর্থ ব্যয় হয় অস্ত্র কিনতে; উপজাতীয় সন্ত্রাসীগোষ্ঠীর চাঁদাবাজির আদ্যোপান্ত!

প্রকাশের তারিখ : ০৪ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

পার্বত্য চট্টগ্রামের সবুজ জনপদে ভয়ানক আতঙ্কের নাম 'উপজাতীয় সশস্ত্র সন্ত্রাসীগোষ্ঠী ও তাদের চাঁদাবাজি'। পাহাড়ে আচ্ছাদিত এই অঞ্চলে অশান্তি ও সহিংসতার মূল কারণ এই সন্ত্রাসীগোষ্ঠী ও তাদের বিচ্ছিন্নতাবাদী কর্মকাণ্ড। সন্ত্রাসীদের টিকে থাকার মূল চালিকাশক্তি হলো 'চাঁদাবাজি'। ১৯৯৭ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির পর সন্ত্রাসীদের অস্ত্র জমা দিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার কথা থাকলেও তারা চুক্তি ভঙ্গ করে অস্ত্র ও সশস্ত্র সন্ত্রাসীর সংখ্যা আরও বৃদ্ধি করেছে। আর তাদের সশস্ত্র ও দেশবিরোধী কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য 'চাঁদাবাজি'ই তাদের অন্যতম উৎস। তাদের চাঁদাবাজির কবল থেকে রক্ষা পায় না উপজাতি, বাঙালি, পর্যটক, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, শ্রমিক, ঠিকাদার, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, মোবাইল কোম্পানি, গরিব কৃষক ও জেলে, গাড়িচালক ও সরকারি কর্মকর্তাসহ কেউই। উপজাতীয় সন্ত্রাসীদের এই চাঁদাবাজিই পাহাড় ও পাহাড়ের মানুষের উন্নয়ন, জীবনযাত্রার মান, শান্তি ও নিরাপত্তা কেড়ে নিয়েছে। পাহাড়ের আনাচেকানাচে, জঙ্গলে, লোকালয়ে সর্বত্র শুধু অস্ত্র ও চাঁদাবাজির আতঙ্ক।

চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্য রোধ এবং তাদের আইনের আওতায় আনতে ঢাকাসহ দেশের ৬৪ জেলার চাঁদাবাজদের প্রাথমিক তালিকা প্রস্তুত করেছে পুলিশ। এই তালিকায় রয়েছে মোট ৩,৮৪৯ জন চাঁদাবাজের নাম। পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন পার্বত্য জেলায় ২৪৬ জন চাঁদাবাজের নাম উঠে এসেছে। ঢাকার পরে ৯২ জন চাঁদাবাজ নিয়ে দ্বিতীয় শীর্ষে রয়েছে রাঙামাটি; অন্যদিকে খাগড়াছড়িতে ৮৮ জন এবং বান্দরবানে ৬৬ জন চাঁদাবাজ চিহ্নিত হয়েছে। তবে নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে চাঁদাবাজের এই সংখ্যা নেহাত ২৪৬ জন নয়, বরং এর সারি আরও অনেক দীর্ঘ হতে পারে। পাহাড়ে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে সক্রিয় রয়েছে ৬টি আঞ্চলিক উপজাতীয় সশস্ত্র সন্ত্রাসীগোষ্ঠী। সেগুলো হলো পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস), পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস সংস্কার), ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ), ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক), কুকিচিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ) ও মগ লিবারেশন পার্টি। তা ছাড়া মারমা ন্যাশনাল পার্টি নামেও একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী সক্রিয় রয়েছে বান্দরবানের উত্তরাংশে। জেএসএসের ভুঁইফোড় ছাত্র সংগঠন 'পিসিপি' ও মহিলা সংগঠন 'হিল উইমেন ফেডারেশন'ও বিভিন্ন নামে-বেনামে আড়ালে চাঁদাবাজি করে আসছে।

পাহাড়ের জনগণ ভেবেছিল পার্বত্য চুক্তির পর চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড কমে যাবে, কিন্তু চুক্তি-পরবর্তী সময়ে যেমন সন্ত্রাসীগোষ্ঠীর সংখ্যা বেড়েছে তেমনি চাঁদাবাজিও কয়েক শত গুণ বেড়েছে। একাধিক জাতীয় পত্রিকার অনুসন্ধান অনুযায়ী, পার্বত্য চট্টগ্রামে শুধু দেড় বছরেই প্রায় ৭০০ কোটি টাকা চাঁদাবাজি হয়। চাঁদা না দিলে পাহাড়ে ক্ষুদ্র ফলমূল বিক্রেতা থেকে শুরু করে ঠিকাদারি সংস্থা, পরিবহন, ব্যবসায়-বাণিজ্য কোনো কাজই করতে দেয় না সন্ত্রাসীরা। ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর থেকে সন্ত্রাসীরা চাঁদার পরিমাণ দ্বিগুণ বৃদ্ধি করেছে। চাঁদা না দিলে অপহরণ, গুম থেকে শুরু করে হত্যাও করে সন্ত্রাসীরা। এই সমস্ত সশস্ত্র গোষ্ঠীর নেতৃত্বে বেশির ভাগই চাকমা সম্প্রদায়ের লোকেরাই। সন্ত্রাসীগোষ্ঠীগুলো চাঁদাবাজি ও ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে নিজেরাই প্রতিনিয়ত অভ্যন্তরীণ সংঘাত ও সহিংসতায় লিপ্ত হয়ে অসংখ্য প্রাণ ঝরাচ্ছে।

সবচেয়ে ভয়ংকর এবং চ্যালেঞ্জের বিষয় হলো, চাঁদাবাজি থেকে আয়কৃত অর্থ সন্ত্রাসীরা আবার কাজে লাগাচ্ছে দেশের বিরুদ্ধেই। চাঁদাবাজি থেকে আয়কৃত হাজার হাজার কোটি টাকার সিংহভাগ ব্যয় হয় সীমান্তের ওপার থেকে অত্যাধুনিক অস্ত্র ও গোলাবারুদ কিনতে। তিন পার্বত্য জেলার সঙ্গে ভারত ও মিয়ানমারের সীমান্ত রয়েছে; সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলো এখন অস্ত্র ও মাদক চোরাচালানের স্বর্গরাজ্যে পরিণত করেছে পাহাড়ের সন্ত্রাসীরা। এই সমস্ত সন্ত্রাসীরা স্বাধীনতার পর থেকে পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামকে বিচ্ছিন্ন করে স্বাধীন 'জুম্মল্যান্ড' কিংবা 'কুকি রাষ্ট্র' বানানোর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। তাই তারা পাহাড়ে নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহ চালিয়ে যাচ্ছে। রাষ্ট্র ও জনগণের কাছ থেকে চাঁদাবাজি করে আবার সেই অর্থ রাষ্ট্র ও জনগণের বিরুদ্ধে ব্যবহার করছে সন্ত্রাসীরা। বিগত বছরগুলোতে তাদের চাঁদাবাজির আলোচিত বেশ কয়েকটি ঘটনা বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায় তারা কীভাবে পাহাড়ে চাঁদাবাজির শক্তিশালী নেটওয়ার্ক তৈরি করেছে।

এক্স-ফোর্সেস অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য মতে, সন্ত্রাসী সংগঠন জেএসএস (সন্তু) বছরে ৪৫০ কোটি টাকা, ইউপিডিএফ (প্রসীত) ৩৫০ কোটি টাকা, ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) ১৫০ কোটি টাকা, জেএসএস (সংস্কার) ১৫০ কোটি টাকা, এমএনপি ৫০ কোটি টাকা এবং কেএনএফ ৫০ কোটি টাকার বেশি চাঁদা আদায় করে। সরকার পার্বত্য চট্টগ্রামে উপজাতি জনগোষ্ঠীর ভ্যাট-ট্যাক্স মওকুফ করলেও তাদের কাছ থেকেও চাঁদা আদায় করে শীর্ষ এই ছয়টি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী। খাগড়াছড়ি জেলা ও দায়রা জজ কোর্টের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মঞ্জুর মোর্শেদ ভূঁইয়া দৈনিক আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষ চাঁদাবাজি থেকে রেহাই পাচ্ছে না। ব্যবসায়ী, কৃষক, চাকরিজীবী সবাইকে নির্দিষ্ট হারে চাঁদা পরিশোধ করতে হয়। নিয়মিত স্পট, মাসিক, ষাণ্মাসিক ও বার্ষিক ভিত্তিতে চাঁদা দিতে হয়'। অন্যদিকে সরকার ও নিরাপত্তা বাহিনীর তথ্যসূত্র অনুযায়ী, পার্বত্য চুক্তির পর থেকে এ পর্যন্ত তিন জেলায় সন্ত্রাসীদের আধিপত্য বিস্তার ও চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে বন্দুকযুদ্ধে ১২ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। একই সময়ে অপহরণের শিকার হয়েছে ২ হাজার ১১৮ জন। এর মধ্যে বাঙালি, উপজাতি, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও শ্রমিকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ রয়েছে। তা ছাড়া ১৯৭৩ সালের পর থেকে সন্ত্রাসীরা বাঙালি জনগোষ্ঠীর উপর ১০টিরও বেশি গণহত্যা চালিয়েছে। যার কোনো বিচার আদৌ হয়নি।

চাঁদাবাজির কবল থেকে মোবাইল কোম্পানিগুলোরও রেহাই পাচ্ছে না। তাদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে শত শত কোটি টাকা। ২০২৫ সালের ২২ জানুয়ারি চাঁদা না দেওয়ায় রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির চারটি উপজেলায় একটি বেসরকারি মোবাইল ফোন কোম্পানির ১০টি টাওয়ারে হামলা চালিয়ে নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে সন্ত্রাসী প্রসীত বিকাশ খীসার নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ মূল) বিরুদ্ধে। ঐদিন ভোররাতে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা, মানিকছড়ি ও মাটিরাঙ্গায় ছয়টি মোবাইল টাওয়ারের পাশাপাশি রাঙামাটির নানিয়ারচরে চারটি টাওয়ারে সমন্বিত হামলা চালায় ইউপিডিএফ সন্ত্রাসীরা। তারা সার্ভার রুম ভাঙচুরসহ টাওয়ারের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে। এর পাশাপাশি বেশ কিছু যন্ত্রপাতিও লুট করে নিয়ে যায় তারা। মোবাইল নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন থাকায় কোম্পানির কয়েক লাখ গ্রাহক চরম বিপাকে পড়ে কোটি টাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং প্রশাসনিক কাজকর্মে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটে ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।

সন্ত্রাসীদের চাঁদাবাজি থেকে মুক্তি বাদ যাচ্ছে না শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষার্থী ও গরিব জেলেরাও। ২০২৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন একাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবন নির্মাণকাজ শুরু হয়। এ সময় সশস্ত্র গোষ্ঠী জেএসএস (মূল)-এর ছয়-সাতজন সন্ত্রাসী কাপ্তাই লেক হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে। তারা নিরাপত্তা প্রহরীর মোবাইল ফোন জব্দ করে শ্রমিকদের কাজ বন্ধের নির্দেশ দেয়। এক কোটি টাকা চাঁদা না দিলে কাজ চালাতে দেবে না এবং অবাধ্য হলে সবাইকে গুলি করে হত্যার হুমকি দিয়ে কাজ বন্ধ করে দেয়। ২০২৪ সালের ১ সেপ্টেম্বর প্রতিবছরের ন্যায় যথারীতি আঞ্চলিক দলগুলোর কাছ থেকে চাঁদা দিয়ে টোকেন কেটেছিল কাপ্তাই লেকের জেলেরা। কিন্তু মাছ ধরার দিন সন্ত্রাসীরা চারটি গ্রুপের জন্য প্রায় ২ কোটি টাকা চাঁদা চেয়ে খবর পাঠায় জেলেদের। মাছ ধরার শুরুর প্রাক্কালে অন্যান্য বছরের ন্যায় ধারাবাহিক চাঁদাও পরিশোধ করতে হয়েছে। কিন্তু ব্যবসার শুরুর দিনটিতে নতুন করে প্রতি গ্রুপের ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করায় জেলেদের পথে বসার উপক্রম হয়েছে। কাপ্তাই মৎস্যজীবী সমিতির নেতৃবৃন্দ জানান, জেএসএস (সন্তু) সমর্থিত কিছু সন্ত্রাসী সদস্য কাপ্তাই মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির নিকট অতিরিক্ত বার্ষিক চাঁদা দাবি করে। তাদের কথামতো চাঁদা না দেওয়ায় জেলেদের মাছ ধরতে নিষেধ করে দেওয়া হয়েছে, অন্যথায় হত্যার হুমকিও দেয় সন্ত্রাসীরা। এর ফলে জেলেরা মাছ ধরা থেকে বিরত থাকায় কোটি কোটি টাকা লোকসানের মুখে পড়েছে তারা।

কাঁচা তরকারি, ফলমূল ও অন্যান্য যেকোনো পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে চাঁদাবাজির এই সংকট আরও প্রকট। ২০২৫ সালের ৯ আগস্ট কালের কণ্ঠ পত্রিকা অনুযায়ী, খাগড়াছড়ির একজন কাঠ ব্যবসায়ী জানান, দীঘিনালা থেকে এক ট্রাক কাঠ নিয়ে ঢাকায় রওনা হলে ৫০ হাজার টাকা ট্রাক ভাড়ার বিপরীতে পথে পথে ১ লাখ টাকা চাঁদা দিতে হয়। একই চিত্র রাঙামাটির নানিয়ারচর ও লংগদু সড়কে। চাঁদার দাপটে গত বছর খাগড়াছড়ির পাঁচটি উপজেলায় সরকারি খাদ্য সরবরাহ পর্যন্ত বন্ধ হয়ে যায়। বাংলাদেশ খাদ্য পরিবহন সমিতির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সদস্য ধনা বাবু বলেন, 'পার্বত্য চট্টগ্রামের চাঁদাবাজ গ্রুপগুলো এত বেশি বাড়াবাড়ি করছে, যা সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে গেছে। রাস্তায় গাড়ি থামিয়ে চাঁদা আদায়, ইনভয়েসসহ কাগজপত্র ছিনিয়ে নেওয়া, চালকদের মারধর করার কারণে খাদ্য সরবরাহ কঠিন হয়ে পড়েছে।' এ ছাড়া স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন ভুঁইফোড় সংগঠনের নামেও অর্থ আদায় করে সন্ত্রাসীরা। খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা কালের কণ্ঠকে বলেন, 'পাহাড়ে চাঁদাবাজি এত বেশি যে এগুলো রুখে দেওয়া দায়।' একজন চেয়ারম্যানের মুখে এমন অসহায়ত্বের কথা শুনে বোঝা যায় সন্ত্রাসীদের চাঁদাবাজির মহোৎসব কোথায় গিয়ে ঠেকেছে।

চ্যানেল-২৪-এর সূত্রানুযায়ী, ২০২৫ সালের শুরুতে পর্যটন মৌসুমে খাগড়াছড়িতে ঘুরতে এসে অপহরণের শিকার হন পাঁচজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী, এর মধ্যে দুজন উপজাতি শিক্ষার্থীও ছিল। মুক্তিপণ দাবি করে তাদের নদী পার হয়ে নিয়ে যাওয়া হয় চেলাছড়া গ্রামে। পরে সাত দিনের শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে সেনাবাহিনী তাদের উদ্ধার করে। চাঁদাবাজির শিকার শুধু পর্যটকরাই নন; রিসোর্ট, হোটেল, মোটেলসহ সব পর্যটন-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে বার্ষিক মোটা অঙ্কের টাকা দিতে হয়। চাঁদা না দিয়ে তাদের ধরে নিয়ে গিয়ে আরও মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ দাবি করে। এমনকি গুম, অপহরণ ও হত্যাও করে। সশস্ত্র সন্ত্রাসী সংগঠনের এক সদস্য চ্যানেল-২৪-কে বলেন, 'পাহাড় আমাদের। এখানে সমতলের ব্যবসায়ী ব্যবসা করতে চাইলে চাঁদা দিতে হবে, মোবাইল অপারেটর হোক আর যে-ই হোক। মোবাইল অপারেটর কোম্পানি টাকা না দেওয়ার কারণে তাদের টাওয়ার সংযোগ কেটে দিয়েছি আমরা।' সন্ত্রাসীদের এমন প্রকাশ্য স্বীকারোক্তি নেহাত কোনো হুমকি নয়, বরং তাদের এই অপতৎপরতা দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের জন্য মারাত্মক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। চাঁদাবাজির অর্থের মাধ্যমে অস্ত্র কেনা, সীমান্তের ওপারে সন্ত্রাসীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া ও অনলাইনে রাষ্ট্র ও সেনাবিরোধী অপপ্রচার চালানোসহ বিভিন্ন দেশদ্রোহী কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হচ্ছে।

ইউপিডিএফের শীর্ষ কমান্ডার ও আলোচিত সন্ত্রাসী মাইকেল চাকমা ও তার সহযোগী সুমন চাকমাকে ২০০৭ সালের ৩০ অক্টোবর রাঙামাটির লংগদুতে সংঘটিত একটি চাঁদাবাজির মামলায় ৮ বছর কারাদণ্ড দেয় রাঙামাটি জেলা ও দায়রা জজ আদালত। আদালত সূত্রে জানা গেছে, রাঙামাটির অতিরিক্ত জেলা জজ পেনাল কোড ১৮৬০-এর ৩৮৫ ধারায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে এ সাজা ঘোষণা করেন। তদন্তে জানা যায়, ওইদিন নিরাপত্তা বাহিনী চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপের সময় তাদের অস্ত্র ও টাকাসহ আটক করে লংগদু থানায় হস্তান্তর করে মামলা দায়ের করে। এর আগে ২০২৩ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-২-এর অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মাইকেল চাকমাকে অস্ত্র ও চাঁদাবাজির মামলায় ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং হত্যার হুমকি ও চাঁদাবাজির অভিযোগে আরও ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন। চলতি বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলার মুরং বাজার এলাকায় 'জেএসএস (মূল)'-এর সশস্ত্র দলের বিরুদ্ধে একটি সফল অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালে সেনা সদস্যরা সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের দলটিকে অবৈধভাবে চাঁদা আদায়কালে শনাক্ত করতে সক্ষম হয়। তল্লাশি চালিয়ে ইউনিফর্ম পরিহিত হ্লামংনু মার্মা নামক একজন সশস্ত্র জেএসএস (মূল) সদস্যকে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এ সময় ১টি সাবমেশিনগান (এসএমজি), ১৪৩ রাউন্ড এসএমজি অ্যামিউনিশন, ১৪ রাউন্ড পিস্তলের অ্যামিউনিশন, ৫ রাউন্ড ব্লাংক অ্যামিউনিশন, ২টি অস্ত্রের ম্যাগাজিন এবং অন্যান্য সরঞ্জামাদি উদ্ধার করে সেনাবাহিনী।

সন্ত্রাসীদের চাঁদাবাজির সবচেয়ে বড় খাত হলো পরিবহন সেক্টর। রাঙামাটি জেলা অটোরিকশাচালক শ্রমিক ইউনিয়নের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় এক হাজার ৪১৬টি সিএনজি রেজিস্ট্রেশন রয়েছে, যার মধ্যে এক হাজার বাঙালি এবং ৪০০ পাহাড়ির মালিকানায়। পাহাড়ি এলাকায় চলতে হলে প্রতিটি সিএনজির জন্য মাসে এক হাজার ২০০ টাকা চাঁদা দিতে হয়। টোকেন না থাকলে সিএনজি আটকে রেখে ১০-১৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। এক সিএনজি মালিক জানান, 'আমাদের চালক রতন কাপ্তাই হ্রদ এলাকায় টোকেন ছাড়া গিয়েছিল। তাকে সিএনজিসহ গুম করে ফেলে সন্ত্রাসীরা। ১৫ বছরেও কোনো খোঁজ মেলেনি।' ২০১৬ সালের ২৯ নভেম্বর খাগড়াছড়ির লক্ষ্মীছড়ি উপজেলায় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান নিলবর্ণ চাকমাকে অপহরণ করা হয়। এখনো তিনি নিখোঁজ। অক্টোবরে খাগড়াছড়ির রামগড়ে সশস্ত্র উপজাতীয় সন্ত্রাসীদের হাতে অপহরণের ১২ ঘণ্টা পর আড়াই লাখ টাকা মুক্তিপণের বিনিময়ে ছাড়া পান তিন ব্যবসায়ী। একই সময়ে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী এলাকায় পিএইচসিপি রাবার বাগান থেকে ৩ প্রহরীকে অপহরণ করে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে উপজাতীয় সন্ত্রাসীরা। সেপ্টেম্বরে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার দোছড়ি ইউনিয়নের বাঁকখালী মৌজা থেকে দুই তামাক চাষিকে অপহরণের পর গহিন অরণ্যে ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণ নিয়ে অক্ষত অবস্থায় ছেড়ে দেওয়া হয়।

সন্ত্রাসীদের চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের নজির শুধু এই কয়েকটি নয়, বরং হাজার হাজার। বিচ্ছিন্নতাবাদী সন্ত্রাসীগোষ্ঠী কেএনএফও বান্দরবানের রুমা ও থানচিতে ২০২৪ সালের ৪ এপ্রিল সোনালী ও কৃষি ব্যাংকে ডাকাতি করে ২ কোটি টাকা ও নিরাপত্তা বাহিনীর ১৪টি অস্ত্র লুট করে নিয়ে যায়। এমন অসংখ্য বেদনাবিধুর অধ্যায়ের সাক্ষী পাহাড়। সন্ত্রাসীদের চাঁদাবাজির দৌরাত্ম্যে শুধু আর্থিক ক্ষতি নয়, সন্ত্রাসীদের গুম, খুন, অপহরণ ও হত্যার শিকার হচ্ছে পাহাড়ের নিরীহ উপজাতি, বাঙালি, শ্রমিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ লাখো মানুষ। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ব্যবসায়-বাণিজ্য, পর্যটন শিল্প, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে সাধারণ পেশার মানুষ এবং চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পাহাড়ের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা। সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে কোটি কোটি টাকার। সন্ত্রাসীদের এই চাঁদাবাজি পাহাড়ের মূল সমস্যা হয়ে মানুষের জীবনযাত্রাকে প্রভাবিত করছে। চাঁদাবাজির ফলে সন্ত্রাসীরা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে এবং এই টাকায় অস্ত্র কিনে তা দেশের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও বিচ্ছিন্নতাবাদী কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। তাই নতুন বাংলাদেশে নতুন সরকারের প্রতি পাহাড়ের মানুষের দাবি, পাহাড়ে নিরাপত্তা বাহিনী বৃদ্ধি করে সশস্ত্র চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে তাদের নির্মূল করে পাহাড়কে ষড়যন্ত্রের হাত থেকে রক্ষা করতে হবে।

লেখক: মিছবাহ উদ্দীন

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক লেখক ও সংগঠক


চ্যানেল সিএইচটি

সম্পাদক : উপদেষ্টা :কামাল পারভেজ
কপিরাইট © ২০২৬ চ্যানেল সিএইচটি । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত