মাত্র তিন দিনের নবজাতক মো: আদিয়ান। জন্মের পর থেকেই জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে ছিল শিশুটি। শহরের রিজার্ভ বাজার এলাকার দিনমজুর পরিবারের এই নবজাতক জন্ম নেয় জটিল জন্মগত রোগ Ruptured Myelomeningocele নিয়ে। অবশেষে চিকিৎসকদের সাহসী উদ্যোগ ও সফল অস্ত্রোপচারে নতুন জীবন পেল আদিয়ান।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, শনিবার (২৪ মে ২০২৬) সকালে শারীরিক জটিলতা নিয়ে আদিয়ানকে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা জানান, শিশুটির মেরুদণ্ডের হাড় সঠিকভাবে জোড়া না লাগায় স্নায়ুরজ্জু বাইরে বের হয়ে আসে এবং তা ফেটে যাওয়ায় সেখান থেকে ক্রমাগত স্নায়ুরস (CSF) বের হচ্ছিল। এতে শিশুটির মস্তিষ্কে মারাত্মক সংক্রমণ ও মৃত্যুঝুঁকি তৈরি হয়।
চিকিৎসকদের মতে, জরুরি অস্ত্রোপচার ছাড়া আদিয়ানকে বাঁচানো সম্ভব ছিল না। তবে অপারেশনটিও ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। চিকিৎসকদের ভাষায়, অপারেশনে শতভাগ মৃত্যুঝুঁকি ছিল, আবার অপারেশন না করলেও শিশুটির মৃত্যু প্রায় নিশ্চিত ছিল।
আদিয়ানের পরিবারের আর্থিক ও সামাজিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সীমাবদ্ধতার মধ্যেও জটিল এই অস্ত্রোপচার করার সিদ্ধান্ত নেয়। পরে শিশুটির পরিবারের সম্মতি নিয়ে শনিবার দুপুরে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালের পেডিয়াট্রিক সার্জন ডা. সবুজ কান্তি এবং এনেস্থেশিয়া বিশেষজ্ঞ ডা. সাগর নন্দীর নেতৃত্বে সফলভাবে অপারেশন সম্পন্ন হয়।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে এই প্রথম এত ছোট শিশুর এমন জটিল অস্ত্রোপচার সফলভাবে সম্পন্ন হলো। সাধারণত এ ধরনের অপারেশন জেলা হাসপাতালে করা হয় না।
চিকিৎসকরা জানান, দায়িত্ববোধ ও প্রান্তিক জনগণের প্রতি মানবিক অঙ্গীকার থেকেই তারা ঝুঁকি নিয়ে শিশুটির চিকিৎসা করেছেন। “চোখের সামনে একটি নবজাতকের মৃত্যু মেনে নেওয়া সম্ভব হচ্ছিল না,”—এমন অনুভূতির কথা জানান সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা।
রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালের সিভিল সার্জন কাম তত্ত্বাবধায়ক ডা. নূয়েন খীসা এবং আবাসিক চিকিৎসক ডা. মুহাম্মদ শওকত আকবর খান পুরো সার্জারি টিমকে অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানিয়েছেন। একইসঙ্গে ভবিষ্যতেও এ ধরনের দায়িত্বশীল মানবিক চিকিৎসাসেবার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তারা।

শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ মে ২০২৬
মাত্র তিন দিনের নবজাতক মো: আদিয়ান। জন্মের পর থেকেই জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে ছিল শিশুটি। শহরের রিজার্ভ বাজার এলাকার দিনমজুর পরিবারের এই নবজাতক জন্ম নেয় জটিল জন্মগত রোগ Ruptured Myelomeningocele নিয়ে। অবশেষে চিকিৎসকদের সাহসী উদ্যোগ ও সফল অস্ত্রোপচারে নতুন জীবন পেল আদিয়ান।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, শনিবার (২৪ মে ২০২৬) সকালে শারীরিক জটিলতা নিয়ে আদিয়ানকে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা জানান, শিশুটির মেরুদণ্ডের হাড় সঠিকভাবে জোড়া না লাগায় স্নায়ুরজ্জু বাইরে বের হয়ে আসে এবং তা ফেটে যাওয়ায় সেখান থেকে ক্রমাগত স্নায়ুরস (CSF) বের হচ্ছিল। এতে শিশুটির মস্তিষ্কে মারাত্মক সংক্রমণ ও মৃত্যুঝুঁকি তৈরি হয়।
চিকিৎসকদের মতে, জরুরি অস্ত্রোপচার ছাড়া আদিয়ানকে বাঁচানো সম্ভব ছিল না। তবে অপারেশনটিও ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। চিকিৎসকদের ভাষায়, অপারেশনে শতভাগ মৃত্যুঝুঁকি ছিল, আবার অপারেশন না করলেও শিশুটির মৃত্যু প্রায় নিশ্চিত ছিল।
আদিয়ানের পরিবারের আর্থিক ও সামাজিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সীমাবদ্ধতার মধ্যেও জটিল এই অস্ত্রোপচার করার সিদ্ধান্ত নেয়। পরে শিশুটির পরিবারের সম্মতি নিয়ে শনিবার দুপুরে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালের পেডিয়াট্রিক সার্জন ডা. সবুজ কান্তি এবং এনেস্থেশিয়া বিশেষজ্ঞ ডা. সাগর নন্দীর নেতৃত্বে সফলভাবে অপারেশন সম্পন্ন হয়।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে এই প্রথম এত ছোট শিশুর এমন জটিল অস্ত্রোপচার সফলভাবে সম্পন্ন হলো। সাধারণত এ ধরনের অপারেশন জেলা হাসপাতালে করা হয় না।
চিকিৎসকরা জানান, দায়িত্ববোধ ও প্রান্তিক জনগণের প্রতি মানবিক অঙ্গীকার থেকেই তারা ঝুঁকি নিয়ে শিশুটির চিকিৎসা করেছেন। “চোখের সামনে একটি নবজাতকের মৃত্যু মেনে নেওয়া সম্ভব হচ্ছিল না,”—এমন অনুভূতির কথা জানান সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা।
রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালের সিভিল সার্জন কাম তত্ত্বাবধায়ক ডা. নূয়েন খীসা এবং আবাসিক চিকিৎসক ডা. মুহাম্মদ শওকত আকবর খান পুরো সার্জারি টিমকে অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানিয়েছেন। একইসঙ্গে ভবিষ্যতেও এ ধরনের দায়িত্বশীল মানবিক চিকিৎসাসেবার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তারা।

আপনার মতামত লিখুন