পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়, ঝর্ণা ও পাহাড়ি ছড়াগুলো থেকে হারিয়ে যাচ্ছে এক সময়ের চিরচেনা ব্যাঙের ডাক। সরকারি নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও পার্বত্য এলাকার উপজাতিদের মাঝে ব্যাঙ ধরা, খাওয়া এবং এটি নিয়ে বাণিজ্য করার প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে স্থানীয় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বাজারগুলোতে প্রকাশ্যে ব্যাঙ বিক্রি হতে দেখা যাচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে পাহাড়ের পরিবেশ ও কৃষির ভারসাম্য নষ্ট করছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম পাহাড় ও ঝর্ণা সংলগ্ন এলাকাগুলো থেকে রাতের আঁধারে টর্চলাইট জ্বালিয়ে বিপুল পরিমাণ ব্যাঙ ধরা হচ্ছে। স্থানীয় বাজারে এসব ব্যাঙের চাহিদা থাকায় এটি এখন একটি লাভজনক বাণিজ্যে পরিণত হয়েছে। সরকারিভাবে ব্যাঙ মারা ও বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার নিষিদ্ধ হলেও পাহাড়ি জনপদগুলোতে এই আইনের প্রয়োগ দেখা যাচ্ছে না বললেই চলে।
পার্বত্য অঞ্চলে জুম চাষসহ অন্যান্য কৃষিকাজে ব্যাঙের ভূমিকা অপরিসীম। একটি ব্যাঙ কেবল একটি সাধারণ প্রাণী নয়, এটি একটি প্রাকৃতিক কীটনাশক। ব্যাঙ ফসলের ক্ষতিকর পোকা এবং মশা দমনে অগ্রণী ভূমিকা রাখে। নির্বিচারে ব্যাঙ নিধনের ফলে:
পাহাড়ি ছড়া ও জলাশয়ে মশার উপদ্রব বাড়ছে।
ফসলি জমিতে ক্ষতিকর পোকা দমনে অতিরিক্ত বিষাক্ত কীটনাশক ব্যবহার করতে হচ্ছে।
পরিবেশের খাদ্যশৃঙ্খল ভেঙে পড়ছে, যার ফলে অন্যান্য বন্যপ্রাণীর জীবনও সংকটাপন্ন হচ্ছে।
পাহাড়ের অনেক জায়গায় ব্যাঙকে রসনা তৃপ্তির উৎস হিসেবে দেখা হচ্ছে। কিন্তু একটি ব্যাঙ মেরে ফেলা মানে শত শত মশা ও ক্ষতিকর পতঙ্গকে বাঁচিয়ে রাখা—এই সহজ সত্যটি অনেকের কাছেই অজানা। পরিবেশবিদরা বলছেন, প্রকৃতি প্রতিশোধ নেয় না, সে শুধু ভারসাম্য হারায়। আর এই ভারসাম্য হারানোর মূল্য দিতে হয় মানুষকে নানা রোগব্যাধি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের মাধ্যমে।
পার্বত্য চট্টগ্রামের এই প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় অবিলম্বে স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। ব্যাঙ ধরা ও খাওয়া বন্ধে পাহাড়ি বাজারগুলোতে নিয়মিত মনিটরিং এবং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করা জরুরি হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়রা বলেন পাহাড়ের এই ছোট্ট প্রাণীগুলোকে রক্ষা করা না যায়, তবে অচিরেই থেমে যাবে পাহাড়ের প্রাকৃতিক সংগীত। আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুরক্ষার জন্যই এই নিধনযজ্ঞ বন্ধ করা দরকার। মনে রাখতে হবে, "ব্যাঙ বাঁচলে প্রকৃতি বাঁচবে, প্রকৃতি বাঁচলে আমরা বাঁচবো।"

মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ মে ২০২৬
পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়, ঝর্ণা ও পাহাড়ি ছড়াগুলো থেকে হারিয়ে যাচ্ছে এক সময়ের চিরচেনা ব্যাঙের ডাক। সরকারি নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও পার্বত্য এলাকার উপজাতিদের মাঝে ব্যাঙ ধরা, খাওয়া এবং এটি নিয়ে বাণিজ্য করার প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে স্থানীয় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বাজারগুলোতে প্রকাশ্যে ব্যাঙ বিক্রি হতে দেখা যাচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে পাহাড়ের পরিবেশ ও কৃষির ভারসাম্য নষ্ট করছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম পাহাড় ও ঝর্ণা সংলগ্ন এলাকাগুলো থেকে রাতের আঁধারে টর্চলাইট জ্বালিয়ে বিপুল পরিমাণ ব্যাঙ ধরা হচ্ছে। স্থানীয় বাজারে এসব ব্যাঙের চাহিদা থাকায় এটি এখন একটি লাভজনক বাণিজ্যে পরিণত হয়েছে। সরকারিভাবে ব্যাঙ মারা ও বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার নিষিদ্ধ হলেও পাহাড়ি জনপদগুলোতে এই আইনের প্রয়োগ দেখা যাচ্ছে না বললেই চলে।
পার্বত্য অঞ্চলে জুম চাষসহ অন্যান্য কৃষিকাজে ব্যাঙের ভূমিকা অপরিসীম। একটি ব্যাঙ কেবল একটি সাধারণ প্রাণী নয়, এটি একটি প্রাকৃতিক কীটনাশক। ব্যাঙ ফসলের ক্ষতিকর পোকা এবং মশা দমনে অগ্রণী ভূমিকা রাখে। নির্বিচারে ব্যাঙ নিধনের ফলে:
পাহাড়ি ছড়া ও জলাশয়ে মশার উপদ্রব বাড়ছে।
ফসলি জমিতে ক্ষতিকর পোকা দমনে অতিরিক্ত বিষাক্ত কীটনাশক ব্যবহার করতে হচ্ছে।
পরিবেশের খাদ্যশৃঙ্খল ভেঙে পড়ছে, যার ফলে অন্যান্য বন্যপ্রাণীর জীবনও সংকটাপন্ন হচ্ছে।
পাহাড়ের অনেক জায়গায় ব্যাঙকে রসনা তৃপ্তির উৎস হিসেবে দেখা হচ্ছে। কিন্তু একটি ব্যাঙ মেরে ফেলা মানে শত শত মশা ও ক্ষতিকর পতঙ্গকে বাঁচিয়ে রাখা—এই সহজ সত্যটি অনেকের কাছেই অজানা। পরিবেশবিদরা বলছেন, প্রকৃতি প্রতিশোধ নেয় না, সে শুধু ভারসাম্য হারায়। আর এই ভারসাম্য হারানোর মূল্য দিতে হয় মানুষকে নানা রোগব্যাধি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের মাধ্যমে।
পার্বত্য চট্টগ্রামের এই প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় অবিলম্বে স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। ব্যাঙ ধরা ও খাওয়া বন্ধে পাহাড়ি বাজারগুলোতে নিয়মিত মনিটরিং এবং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করা জরুরি হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়রা বলেন পাহাড়ের এই ছোট্ট প্রাণীগুলোকে রক্ষা করা না যায়, তবে অচিরেই থেমে যাবে পাহাড়ের প্রাকৃতিক সংগীত। আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুরক্ষার জন্যই এই নিধনযজ্ঞ বন্ধ করা দরকার। মনে রাখতে হবে, "ব্যাঙ বাঁচলে প্রকৃতি বাঁচবে, প্রকৃতি বাঁচলে আমরা বাঁচবো।"

আপনার মতামত লিখুন