পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই ১৯৯৭ সালের দোসরা ডিসেম্বর শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিলো। শান্তি চুক্তির মূল উদ্দেশ্য ছিলো সশস্ত্র সংঘাতের অবসান, সহিংসতা হ্রাস, আইনশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং মানুষকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করা। তাই স্বাভাবিকভাবেই কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে আসে।
শান্তি চুক্তি হওয়ার তিন দশক পরও কেন পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় উপজাতি সশস্ত্র সংগঠন এবং সন্ত্রাসী কতৃক সশস্ত্র কর্মকাণ্ড চলমান?
যেসব উপজাতি সশস্ত্র সংগঠন ও সন্ত্রাসীরা দীর্ঘদিন ধরে পার্বত্য চট্টগ্রামে অস্ত্র হাতে আধিপত্য বিস্তার, গুম, খুন, হত্যা, চাঁদাবাজিসহ বিদ্বেষ ও বিভাজনের রাজনীতি বা সংগঠন পরিচালনা করে আসছে, শান্তি চুক্তির পর তারা কি সত্যিই সম্পূর্ণভাবে অস্ত্র পরিত্যাগ করেছে?
যদি সত্যিই অস্ত্র পরিত্যাগ করে থাকে, তাহলে পার্বত্য চট্টগ্রামে একাধিক উপজাতি সশস্ত্র সন্ত্রাসী সংগঠন ও অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও গোষ্ঠীগুলো কারা? এবং তাদের দ্বারা পার্বত্য চট্টগ্রামে সংঘর্ষ, চাঁদাবাজি, অপহরণ ও প্রাণহানির ঘটনা কেন ঘটছে?
আরও একটি প্রশ্ন হলো, পার্বত্য চট্টগ্রামে অশান্তি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য দায়ী কারা? এবং পাহাড়ে সক্রীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো কারা? তাদের হাতে অস্ত্র এলো কীভাবে? এবং কেন এখনো সেগুলো বহাল রয়েছে? এসব প্রশ্নের নিরপেক্ষ ও তথ্যভিত্তিক উত্তর জানা জনগণের অধিকার।
একই সঙ্গে আরেকটি বাস্তব প্রশ্নও আলোচনায় আসে, পার্বত্য চট্টগ্রামে কি কোনো বাঙালি সশস্ত্র সংগঠন সক্রিয় রয়েছে, নাকি আলোচিত সশস্ত্র সংঘর্ষগুলো মূলত উপজাতি আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠনগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ? উত্তর হবে, নিশ্চয়ই পার্বত্য চট্টগ্রামে কখনো কোনো বাঙালি সশস্ত্র সংগঠন সক্রিয় দেখা যায়নি এবং সকল সশস্ত্র সংগঠন ও সন্ত্রাসীই উপজাতি বা উপজাতি বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর।
পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসকারী সব সম্প্রদায়ের মানুষেরই শান্তি, নিরাপত্তা এবং সংবিধান অনুযায়ী আইনের শাসনের অধীনে বসবাস করার অধিকার রয়েছে। তাই পার্বত্য চট্টগ্রামে সক্রিয় থাকা অবৈধ অস্ত্র বা উপজাতি সশস্ত্র গোষ্ঠীর প্রকৃত পরিচয়, কার্যক্রম এবং অস্ত্রের উৎস সম্পর্কে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া এখন সময়ের দাবি। একই সঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত উপজাতি বা বাঙালি, আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রয়োগ হওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।
পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থায়ী শান্তি তখনই সম্ভব, যখন উপজাতি সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার বন্ধ হবে, সহিংসতার পথ পরিহার করা হবে এবং তারা আইন ও সংলাপের পথকে প্রাধান্য দেবে।
এই বিষয়ে যেকোনো আলোচনা হওয়া উচিত সাংবিধানিক ভাবে নির্ভরযোগ্য তথ্য, তদন্ত ও বাস্তব ঘটনার ভিত্তিতে, বরং কোনো জাতিগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সামগ্রিক অভিযোগ তোলা বা বিদ্বেষ ছড়ানোর মধ্যদিয়ে নয়।
লেখক: পার্বত্য চট্টগ্রাম

মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ জুলাই ২০২৬
পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই ১৯৯৭ সালের দোসরা ডিসেম্বর শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিলো। শান্তি চুক্তির মূল উদ্দেশ্য ছিলো সশস্ত্র সংঘাতের অবসান, সহিংসতা হ্রাস, আইনশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং মানুষকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করা। তাই স্বাভাবিকভাবেই কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে আসে।
শান্তি চুক্তি হওয়ার তিন দশক পরও কেন পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় উপজাতি সশস্ত্র সংগঠন এবং সন্ত্রাসী কতৃক সশস্ত্র কর্মকাণ্ড চলমান?
যেসব উপজাতি সশস্ত্র সংগঠন ও সন্ত্রাসীরা দীর্ঘদিন ধরে পার্বত্য চট্টগ্রামে অস্ত্র হাতে আধিপত্য বিস্তার, গুম, খুন, হত্যা, চাঁদাবাজিসহ বিদ্বেষ ও বিভাজনের রাজনীতি বা সংগঠন পরিচালনা করে আসছে, শান্তি চুক্তির পর তারা কি সত্যিই সম্পূর্ণভাবে অস্ত্র পরিত্যাগ করেছে?
যদি সত্যিই অস্ত্র পরিত্যাগ করে থাকে, তাহলে পার্বত্য চট্টগ্রামে একাধিক উপজাতি সশস্ত্র সন্ত্রাসী সংগঠন ও অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও গোষ্ঠীগুলো কারা? এবং তাদের দ্বারা পার্বত্য চট্টগ্রামে সংঘর্ষ, চাঁদাবাজি, অপহরণ ও প্রাণহানির ঘটনা কেন ঘটছে?
আরও একটি প্রশ্ন হলো, পার্বত্য চট্টগ্রামে অশান্তি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য দায়ী কারা? এবং পাহাড়ে সক্রীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো কারা? তাদের হাতে অস্ত্র এলো কীভাবে? এবং কেন এখনো সেগুলো বহাল রয়েছে? এসব প্রশ্নের নিরপেক্ষ ও তথ্যভিত্তিক উত্তর জানা জনগণের অধিকার।
একই সঙ্গে আরেকটি বাস্তব প্রশ্নও আলোচনায় আসে, পার্বত্য চট্টগ্রামে কি কোনো বাঙালি সশস্ত্র সংগঠন সক্রিয় রয়েছে, নাকি আলোচিত সশস্ত্র সংঘর্ষগুলো মূলত উপজাতি আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠনগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ? উত্তর হবে, নিশ্চয়ই পার্বত্য চট্টগ্রামে কখনো কোনো বাঙালি সশস্ত্র সংগঠন সক্রিয় দেখা যায়নি এবং সকল সশস্ত্র সংগঠন ও সন্ত্রাসীই উপজাতি বা উপজাতি বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর।
পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসকারী সব সম্প্রদায়ের মানুষেরই শান্তি, নিরাপত্তা এবং সংবিধান অনুযায়ী আইনের শাসনের অধীনে বসবাস করার অধিকার রয়েছে। তাই পার্বত্য চট্টগ্রামে সক্রিয় থাকা অবৈধ অস্ত্র বা উপজাতি সশস্ত্র গোষ্ঠীর প্রকৃত পরিচয়, কার্যক্রম এবং অস্ত্রের উৎস সম্পর্কে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া এখন সময়ের দাবি। একই সঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত উপজাতি বা বাঙালি, আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রয়োগ হওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।
পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থায়ী শান্তি তখনই সম্ভব, যখন উপজাতি সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার বন্ধ হবে, সহিংসতার পথ পরিহার করা হবে এবং তারা আইন ও সংলাপের পথকে প্রাধান্য দেবে।
এই বিষয়ে যেকোনো আলোচনা হওয়া উচিত সাংবিধানিক ভাবে নির্ভরযোগ্য তথ্য, তদন্ত ও বাস্তব ঘটনার ভিত্তিতে, বরং কোনো জাতিগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সামগ্রিক অভিযোগ তোলা বা বিদ্বেষ ছড়ানোর মধ্যদিয়ে নয়।
লেখক: পার্বত্য চট্টগ্রাম

আপনার মতামত লিখুন