শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ঢাকা
চ্যানেল সিএইচটি

'আদিবাসী' শব্দের রাজনীতি বন্ধ ক‌রে, পার্বত্য চট্টগ্রামের সব জাতি-গোষ্ঠীর জন্য সমান কোটা ও সমান আয়কর সুবিধার দাবি-পিসিসিপি'র।



'আদিবাসী' শব্দের রাজনীতি বন্ধ ক‌রে, পার্বত্য চট্টগ্রামের সব জাতি-গোষ্ঠীর জন্য সমান কোটা ও সমান আয়কর সুবিধার দাবি-পিসিসিপি'র।

‘আদিবাসী’ শব্দের আড়ালে দেশভাগ ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চক্রান্ত রোধ এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল জাতি-গোষ্ঠীর (বাঙালিসহ) জন্য সমান কোটা, সমান আয়কর সুবিধা ও সমান অধিকার নিশ্চিত করার দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (পিসিসিপি), ঢাকা মহানগর শাখা।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিকেল ৩টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে অনুষ্ঠিত সমাবেশে পিসিসিপি ঢাকা মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক রিয়াজুল হাসানের সঞ্চালনায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের ঢাকা মহানগর শাখার সভাপতি রাসেল মাহমুদ।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তিতে সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠী নিজেদের ‘উপজাতি’ হিসেবে পরিচয় দিলেও পরবর্তীতে ‘আদিবাসী’ পরিচয় ব্যবহারের প্রবণতা দেখা যায়। তাদের দাবি, এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে এবং রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে সরকারকে সতর্ক থাকতে হবে।

বক্তারা আরও বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জন্য আয়কর অব্যাহতির সুবিধা বহাল থাকলেও একই অঞ্চলে বসবাসকারী স্থানীয় বাঙালিরা সেই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এতে অর্থনৈতিক ও প্রতিযোগিতামূলক ক্ষেত্রে বৈষম্য সৃষ্টি হচ্ছে। তাই পার্বত্য অঞ্চলে স্থায়ীভাবে বসবাসকারী সব নাগরিকের জন্য সমান আয়কর নীতি প্রণয়নের দাবি জানান তারা।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল(অব:) হাসিনুর রহমান জেলা পরিষদে হস্তান্তরিত বিভাগগুলোর ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির (১১-২০তম গ্রেড) চাকরিতে স্বচ্ছ ও মেধাভিত্তিক নিয়োগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি উচ্চশিক্ষায় পার্বত্য বাঙালি শিক্ষার্থীদের জন্য পৃথক কোটা চালুর দাবি জানান।

পার্বত্য চট্টগ্রাম সমিতি, ঢাকার সভাপতি, লেখক, গবেষক ও সিনিয়র সাংবাদিক এ এইচ এম ফারুক বলেন, ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তিতে বহুবার 'উপজাতি' শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে এবং পরবর্তীতে প্রণীত সংশ্লিষ্ট আইনগুলোতেও একই পরিভাষা রয়েছে। তিনি দাবি করেন, পরবর্তীকালে 'আদিবাসী' পরিচয়ের প্রশ্নটি আন্তর্জাতিক পরিসরে নতুনভাবে সামনে আনা হয়েছে এবং এর পেছনে ভূ-রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে। রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও সাংবিধানিক কাঠামো রক্ষায় এ বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

পিসিসিপি কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি, আল আমিন, আমরা জোর দিয়ে বলতে চাই, ঐতিহাসিক তথ্য এবং নৃতাত্ত্বিক গবেষণা অনুযায়ী, পার্বত্য অঞ্চলের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীরা এদেশের ভূমি সন্তান বা আদি বাসিন্দা নয়। ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, তারা মূলত পার্শ্ববর্তী বার্মা, ভারত (তিব্বত, ত্রিপুরা, মিজোরাম), মঙ্গোলীয় এবং চীন থেকে বিভিন্ন সময়ে যুদ্ধ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে বিতাড়িত হয়ে বা অভিবাসী হিসেবে এদেশে বসতি স্থাপন করেছে। অনেক চাকমা ও মারমা পন্ডিত, যেমন-সুগত চাকমা এবং সিঞ্চাই মারমা, তাদের বিভিন্ন লেখায় এই সত্য স্বীকার করেছেন।

সভাপ‌তির বক্ত‌ব্যে রা‌সেল মাহমুদ ব‌লেন, পার্বত্য অঞ্চলের পরিচয়-রাজনীতির বিষয়টি জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। তিনি এ বিষয়ে সংবিধান ও রাষ্ট্রীয় নীতির আলোকে সমাধানের আহ্বান জানান।

স্টুডেন্টস ফর সভারেন্টির আহ্বায়ক জিয়াউল হক বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তিতে 'উপজাতি' শব্দ ব্যবহৃত হলেও বর্তমানে 'আদিবাসী' পরিচয়ের দাবি উত্থাপন করা হচ্ছে, যা তাদের মতে স্ববিরোধী। জাতীয় ঐক্য ও রাষ্ট্রের অখণ্ডতা রক্ষায় সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।

সমাবেশে অ্যাডভোকেট পারভেজ তালুকদার, পিসিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ আহমেদ রাজু, সাংবাদিক ও গবেষক মেহেদী হাসান পলাশ, সিসিসিপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার শাহাদাৎ ফরাজি সাকিব, সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের আহ্বায়ক থোয়াই চিংমং শাক,পি‌সি‌সি‌পি কে‌ন্দ্রিয় ক‌মি‌টির সহ-সভাপ‌তি আল আমিনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ছাত্র সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সমাবেশ থেকে তিন দফা দাবি জানানো হয়: 

১. ‘আদিবাসী’ শব্দের আড়ালে দেশভাগ ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির যেকোনো ষড়যন্ত্র প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ। 

২. পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল জাতি-গোষ্ঠীর (বাঙালিসহ) জন্য শিক্ষা ও চাকরিতে সমান কোটা নিশ্চিত করা। 

৩. পার্বত্য অঞ্চলে বসবাসকারী সকল নাগরিকের জন্য বৈষম্যহীন ও সমান আয়কর ব্যবস্থা চালু করা

আপনার মতামত লিখুন

চ্যানেল সিএইচটি

শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


'আদিবাসী' শব্দের রাজনীতি বন্ধ ক‌রে, পার্বত্য চট্টগ্রামের সব জাতি-গোষ্ঠীর জন্য সমান কোটা ও সমান আয়কর সুবিধার দাবি-পিসিসিপি'র।

প্রকাশের তারিখ : ০৬ আগস্ট ২০২৬

featured Image

‘আদিবাসী’ শব্দের আড়ালে দেশভাগ ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চক্রান্ত রোধ এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল জাতি-গোষ্ঠীর (বাঙালিসহ) জন্য সমান কোটা, সমান আয়কর সুবিধা ও সমান অধিকার নিশ্চিত করার দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (পিসিসিপি), ঢাকা মহানগর শাখা।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিকেল ৩টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে অনুষ্ঠিত সমাবেশে পিসিসিপি ঢাকা মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক রিয়াজুল হাসানের সঞ্চালনায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের ঢাকা মহানগর শাখার সভাপতি রাসেল মাহমুদ।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তিতে সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠী নিজেদের ‘উপজাতি’ হিসেবে পরিচয় দিলেও পরবর্তীতে ‘আদিবাসী’ পরিচয় ব্যবহারের প্রবণতা দেখা যায়। তাদের দাবি, এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে এবং রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে সরকারকে সতর্ক থাকতে হবে।

বক্তারা আরও বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জন্য আয়কর অব্যাহতির সুবিধা বহাল থাকলেও একই অঞ্চলে বসবাসকারী স্থানীয় বাঙালিরা সেই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এতে অর্থনৈতিক ও প্রতিযোগিতামূলক ক্ষেত্রে বৈষম্য সৃষ্টি হচ্ছে। তাই পার্বত্য অঞ্চলে স্থায়ীভাবে বসবাসকারী সব নাগরিকের জন্য সমান আয়কর নীতি প্রণয়নের দাবি জানান তারা।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল(অব:) হাসিনুর রহমান জেলা পরিষদে হস্তান্তরিত বিভাগগুলোর ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির (১১-২০তম গ্রেড) চাকরিতে স্বচ্ছ ও মেধাভিত্তিক নিয়োগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি উচ্চশিক্ষায় পার্বত্য বাঙালি শিক্ষার্থীদের জন্য পৃথক কোটা চালুর দাবি জানান।

পার্বত্য চট্টগ্রাম সমিতি, ঢাকার সভাপতি, লেখক, গবেষক ও সিনিয়র সাংবাদিক এ এইচ এম ফারুক বলেন, ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তিতে বহুবার 'উপজাতি' শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে এবং পরবর্তীতে প্রণীত সংশ্লিষ্ট আইনগুলোতেও একই পরিভাষা রয়েছে। তিনি দাবি করেন, পরবর্তীকালে 'আদিবাসী' পরিচয়ের প্রশ্নটি আন্তর্জাতিক পরিসরে নতুনভাবে সামনে আনা হয়েছে এবং এর পেছনে ভূ-রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে। রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও সাংবিধানিক কাঠামো রক্ষায় এ বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

পিসিসিপি কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি, আল আমিন, আমরা জোর দিয়ে বলতে চাই, ঐতিহাসিক তথ্য এবং নৃতাত্ত্বিক গবেষণা অনুযায়ী, পার্বত্য অঞ্চলের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীরা এদেশের ভূমি সন্তান বা আদি বাসিন্দা নয়। ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, তারা মূলত পার্শ্ববর্তী বার্মা, ভারত (তিব্বত, ত্রিপুরা, মিজোরাম), মঙ্গোলীয় এবং চীন থেকে বিভিন্ন সময়ে যুদ্ধ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে বিতাড়িত হয়ে বা অভিবাসী হিসেবে এদেশে বসতি স্থাপন করেছে। অনেক চাকমা ও মারমা পন্ডিত, যেমন-সুগত চাকমা এবং সিঞ্চাই মারমা, তাদের বিভিন্ন লেখায় এই সত্য স্বীকার করেছেন।

সভাপ‌তির বক্ত‌ব্যে রা‌সেল মাহমুদ ব‌লেন, পার্বত্য অঞ্চলের পরিচয়-রাজনীতির বিষয়টি জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। তিনি এ বিষয়ে সংবিধান ও রাষ্ট্রীয় নীতির আলোকে সমাধানের আহ্বান জানান।

স্টুডেন্টস ফর সভারেন্টির আহ্বায়ক জিয়াউল হক বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তিতে 'উপজাতি' শব্দ ব্যবহৃত হলেও বর্তমানে 'আদিবাসী' পরিচয়ের দাবি উত্থাপন করা হচ্ছে, যা তাদের মতে স্ববিরোধী। জাতীয় ঐক্য ও রাষ্ট্রের অখণ্ডতা রক্ষায় সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।

সমাবেশে অ্যাডভোকেট পারভেজ তালুকদার, পিসিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ আহমেদ রাজু, সাংবাদিক ও গবেষক মেহেদী হাসান পলাশ, সিসিসিপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার শাহাদাৎ ফরাজি সাকিব, সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের আহ্বায়ক থোয়াই চিংমং শাক,পি‌সি‌সি‌পি কে‌ন্দ্রিয় ক‌মি‌টির সহ-সভাপ‌তি আল আমিনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ছাত্র সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সমাবেশ থেকে তিন দফা দাবি জানানো হয়: 

১. ‘আদিবাসী’ শব্দের আড়ালে দেশভাগ ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির যেকোনো ষড়যন্ত্র প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ। 

২. পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল জাতি-গোষ্ঠীর (বাঙালিসহ) জন্য শিক্ষা ও চাকরিতে সমান কোটা নিশ্চিত করা। 

৩. পার্বত্য অঞ্চলে বসবাসকারী সকল নাগরিকের জন্য বৈষম্যহীন ও সমান আয়কর ব্যবস্থা চালু করা


চ্যানেল সিএইচটি

সম্পাদক : এইচ এ আব্দুর রউফ, উপদেষ্টা : কামাল পারভেজ
কপিরাইট © ২০২৬ চ্যানেল সিএইচটি । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত