পাহাড়ের নৈসর্গিক সৌন্দর্যের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরেই নিরাপত্তাহীনতার এক ভিন্ন বাস্তবতা বিরাজ করছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন দুর্গম এলাকায় আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠনগুলোর তৎপরতা, অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার, চাঁদাবাজি, অপহরণ এবং আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘাতের ঘটনা এখনো পুরোপুরি থামেনি। মাঝেমধ্যে গোলাগুলি ও প্রাণহানির ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।
২০২৬ সালেও পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় সশস্ত্র সংগঠনকে ঘিরে অভিযান, অস্ত্র উদ্ধার এবং গোলাগুলির খবর এসেছে। মে মাসে গুইমারা রিজিয়নের বুদংছড়া এলাকায় সেনাবাহিনীর অভিযানে ইউপিডিএফ (মূল)-এর তিন সদস্যকে আটক এবং একটি একে-২২ রাইফেলসহ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারের কথা জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।
এ ধরনের ঘটনায় প্রশ্ন উঠছে পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম জনপদে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কতটা নিশ্চিত? শান্তিচুক্তির প্রায় তিন দশক পরও কেন পাহাড়ে অবৈধ অস্ত্রের উপস্থিতি এবং সশস্ত্র সংঘাতের ঝুঁকি পুরোপুরি নির্মূল করা যাচ্ছে না?
অস্ত্রের উপস্থিতি, সংঘাতের ঝুঁকি কতোটা?
পাহাড়ের নিরাপত্তা পরিস্থিতির অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থান। বিস্তীর্ণ পাহাড়ি এলাকা, সীমান্তবর্তী দুর্গম অঞ্চল এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত নজরদারি অনেক জায়গায় কঠিন।
এর সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠন নিজেদের নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে বলে নিরাপত্তা সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ। এসব সংগঠনের মধ্যে ইউপিডিএফের বিভিন্ন অংশ, জেএসএসের সশস্ত্র অংশ এবং বান্দরবানের কেএনএফসহ বিভিন্ন গোষ্ঠীর নাম বিভিন্ন সময়ে আলোচনায় এসেছে।
ফেব্রুয়ারিতে বান্দরবানের রোয়াংছড়িতে সেনাবাহিনীর সঙ্গে জেএসএস (মূল)-এর গোলাগুলির ঘটনায় একজন নিহত হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়। ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারের কথাও জানানো হয়েছিল। এ ধরনের সংঘর্ষ শুধু সংশ্লিষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠী কিংবা নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। সংঘর্ষের আশপাশে বসবাসকারী সাধারণ মানুষও আতঙ্কের মধ্যে পড়ে। কখনো বাজার, সড়ক কিংবা প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হয়।
অভিযানে মিলছে অস্ত্র ও গোলাবারুদ তাহলে শান্তির পথ কতো দূরে?
সাম্প্রতিক কয়েকটি অভিযানে বিপুল অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারের তথ্যও সামনে এসেছে। খাগড়াছড়ির পানছড়ি ও রামগড় এলাকায় পরিচালিত পৃথক অভিযানে একাধিক একে-৪৭ রাইফেল, ম্যাগাজিন ও বিপুলসংখ্যক গুলি উদ্ধারের কথা জানিয়েছে আইএসপিআর। একটি ঘটনায় গুলি বিনিময়ের পর একজন সশস্ত্র সদস্য নিহত হওয়ার তথ্যও দেওয়া হয়। এখানেই বড় প্রশ্ন এসব অস্ত্র পাহাড়ের দুর্গম এলাকায় কীভাবে পৌঁছাচ্ছে এবং দীর্ঘ সময় ধরে কীভাবে সংরক্ষিত থাকছে? নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, অবৈধ অস্ত্রের প্রবাহ বন্ধ করা না গেলে শুধু বিচ্ছিন্ন অভিযান পরিচালনা করে দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন। অস্ত্রের উৎস, সরবরাহ ব্যবস্থা, অর্থের উৎস এবং চাঁদাবাজির নেটওয়ার্ক শনাক্ত করা জরুরি।
চাঁদাবাজির অভিযোগও বড় উদ্বেগ নয় কি শান্তির?
পাহাড়ে সশস্ত্র তৎপরতার সঙ্গে চাঁদাবাজির অভিযোগও দীর্ঘদিনের। বিভিন্ন সংগঠনের বিরুদ্ধে স্থানীয় ব্যবসায়ী, পরিবহন শ্রমিক, ঠিকাদার, কৃষক ও সাধারণ মানুষের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ বিভিন্ন সময়ে উঠেছে। আগস্টে বান্দরবানে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ ও সহযোগী সংগঠনগুলো অবৈধ অস্ত্র, চাঁদাবাজি, গুম, খুন ও অপহরণ বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন করে। কর্মসূচিতে পাহাড়ে অস্ত্রের ব্যবহার বন্ধ এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
প্রশ্ন নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে কবে?
পাহাড়ের প্রত্যন্ত এলাকার বাসিন্দাদের কাছে নিরাপত্তা মানে শুধু সন্ত্রাস দমন নয়; নিরাপদে বাজারে যাওয়া, কৃষিপণ্য পরিবহন, সন্তানদের স্কুলে পাঠানো এবং রাতে নির্বিঘ্নে ঘুমাতে পারাও নিরাপত্তার অংশ। সশস্ত্র সংঘাতের আশঙ্কা থাকলে পাহাড়ের অর্থনীতি ও পর্যটনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ব্যবসায়ী ও পর্যটনসংশ্লিষ্টরা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েন। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের মধ্যে তৈরি হয় দীর্ঘমেয়াদি ভীতি। এ অবস্থায় শুধু অভিযান পরিচালনা করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের পাশাপাশি অস্ত্রের উৎস শনাক্ত, চাঁদাবাজির অর্থনৈতিক নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া, সীমান্তে নজরদারি বাড়ানো এবং সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
শান্তিচুক্তির বাস্তবায়ন ও নিরাপত্তা দুই দিকেই নজর
পার্বত্য চট্টগ্রামের নিরাপত্তা প্রশ্নকে শুধু সামরিক বা আইনশৃঙ্খলার বিষয় হিসেবে দেখলে সমস্যার পুরো চিত্র পাওয়া যাবে না। ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তির বাস্তবায়ন, রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব, ভূমি বিরোধ, স্থানীয় প্রশাসনের কার্যকারিতা, উন্নয়ন এবং নিরাপত্তা সবগুলো বিষয় পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত। একদিকে রাষ্ট্রের দায়িত্ব নাগরিকদের জানমাল রক্ষা করা এবং অবৈধ অস্ত্র ও সশস্ত্র অপরাধের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া।
পাহাড়ের নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কয়েকটি বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। প্রথমত, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে সমন্বিত অভিযান অব্যাহত রাখতে হবে। দ্বিতীয়ত, অস্ত্রের উৎস ও চোরাচালান বন্ধে সীমান্ত এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি বাড়াতে হবে। তৃতীয়ত, চাঁদাবাজি, অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডের প্রতিটি ঘটনায় দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে।

শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
পাহাড়ের নৈসর্গিক সৌন্দর্যের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরেই নিরাপত্তাহীনতার এক ভিন্ন বাস্তবতা বিরাজ করছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন দুর্গম এলাকায় আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠনগুলোর তৎপরতা, অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার, চাঁদাবাজি, অপহরণ এবং আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘাতের ঘটনা এখনো পুরোপুরি থামেনি। মাঝেমধ্যে গোলাগুলি ও প্রাণহানির ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।
২০২৬ সালেও পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় সশস্ত্র সংগঠনকে ঘিরে অভিযান, অস্ত্র উদ্ধার এবং গোলাগুলির খবর এসেছে। মে মাসে গুইমারা রিজিয়নের বুদংছড়া এলাকায় সেনাবাহিনীর অভিযানে ইউপিডিএফ (মূল)-এর তিন সদস্যকে আটক এবং একটি একে-২২ রাইফেলসহ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারের কথা জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।
এ ধরনের ঘটনায় প্রশ্ন উঠছে পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম জনপদে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কতটা নিশ্চিত? শান্তিচুক্তির প্রায় তিন দশক পরও কেন পাহাড়ে অবৈধ অস্ত্রের উপস্থিতি এবং সশস্ত্র সংঘাতের ঝুঁকি পুরোপুরি নির্মূল করা যাচ্ছে না?
অস্ত্রের উপস্থিতি, সংঘাতের ঝুঁকি কতোটা?
পাহাড়ের নিরাপত্তা পরিস্থিতির অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থান। বিস্তীর্ণ পাহাড়ি এলাকা, সীমান্তবর্তী দুর্গম অঞ্চল এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত নজরদারি অনেক জায়গায় কঠিন।
এর সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠন নিজেদের নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে বলে নিরাপত্তা সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ। এসব সংগঠনের মধ্যে ইউপিডিএফের বিভিন্ন অংশ, জেএসএসের সশস্ত্র অংশ এবং বান্দরবানের কেএনএফসহ বিভিন্ন গোষ্ঠীর নাম বিভিন্ন সময়ে আলোচনায় এসেছে।
ফেব্রুয়ারিতে বান্দরবানের রোয়াংছড়িতে সেনাবাহিনীর সঙ্গে জেএসএস (মূল)-এর গোলাগুলির ঘটনায় একজন নিহত হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়। ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারের কথাও জানানো হয়েছিল। এ ধরনের সংঘর্ষ শুধু সংশ্লিষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠী কিংবা নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। সংঘর্ষের আশপাশে বসবাসকারী সাধারণ মানুষও আতঙ্কের মধ্যে পড়ে। কখনো বাজার, সড়ক কিংবা প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হয়।
অভিযানে মিলছে অস্ত্র ও গোলাবারুদ তাহলে শান্তির পথ কতো দূরে?
সাম্প্রতিক কয়েকটি অভিযানে বিপুল অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারের তথ্যও সামনে এসেছে। খাগড়াছড়ির পানছড়ি ও রামগড় এলাকায় পরিচালিত পৃথক অভিযানে একাধিক একে-৪৭ রাইফেল, ম্যাগাজিন ও বিপুলসংখ্যক গুলি উদ্ধারের কথা জানিয়েছে আইএসপিআর। একটি ঘটনায় গুলি বিনিময়ের পর একজন সশস্ত্র সদস্য নিহত হওয়ার তথ্যও দেওয়া হয়। এখানেই বড় প্রশ্ন এসব অস্ত্র পাহাড়ের দুর্গম এলাকায় কীভাবে পৌঁছাচ্ছে এবং দীর্ঘ সময় ধরে কীভাবে সংরক্ষিত থাকছে? নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, অবৈধ অস্ত্রের প্রবাহ বন্ধ করা না গেলে শুধু বিচ্ছিন্ন অভিযান পরিচালনা করে দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন। অস্ত্রের উৎস, সরবরাহ ব্যবস্থা, অর্থের উৎস এবং চাঁদাবাজির নেটওয়ার্ক শনাক্ত করা জরুরি।
চাঁদাবাজির অভিযোগও বড় উদ্বেগ নয় কি শান্তির?
পাহাড়ে সশস্ত্র তৎপরতার সঙ্গে চাঁদাবাজির অভিযোগও দীর্ঘদিনের। বিভিন্ন সংগঠনের বিরুদ্ধে স্থানীয় ব্যবসায়ী, পরিবহন শ্রমিক, ঠিকাদার, কৃষক ও সাধারণ মানুষের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ বিভিন্ন সময়ে উঠেছে। আগস্টে বান্দরবানে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ ও সহযোগী সংগঠনগুলো অবৈধ অস্ত্র, চাঁদাবাজি, গুম, খুন ও অপহরণ বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন করে। কর্মসূচিতে পাহাড়ে অস্ত্রের ব্যবহার বন্ধ এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
প্রশ্ন নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে কবে?
পাহাড়ের প্রত্যন্ত এলাকার বাসিন্দাদের কাছে নিরাপত্তা মানে শুধু সন্ত্রাস দমন নয়; নিরাপদে বাজারে যাওয়া, কৃষিপণ্য পরিবহন, সন্তানদের স্কুলে পাঠানো এবং রাতে নির্বিঘ্নে ঘুমাতে পারাও নিরাপত্তার অংশ। সশস্ত্র সংঘাতের আশঙ্কা থাকলে পাহাড়ের অর্থনীতি ও পর্যটনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ব্যবসায়ী ও পর্যটনসংশ্লিষ্টরা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েন। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের মধ্যে তৈরি হয় দীর্ঘমেয়াদি ভীতি। এ অবস্থায় শুধু অভিযান পরিচালনা করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের পাশাপাশি অস্ত্রের উৎস শনাক্ত, চাঁদাবাজির অর্থনৈতিক নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া, সীমান্তে নজরদারি বাড়ানো এবং সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
শান্তিচুক্তির বাস্তবায়ন ও নিরাপত্তা দুই দিকেই নজর
পার্বত্য চট্টগ্রামের নিরাপত্তা প্রশ্নকে শুধু সামরিক বা আইনশৃঙ্খলার বিষয় হিসেবে দেখলে সমস্যার পুরো চিত্র পাওয়া যাবে না। ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তির বাস্তবায়ন, রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব, ভূমি বিরোধ, স্থানীয় প্রশাসনের কার্যকারিতা, উন্নয়ন এবং নিরাপত্তা সবগুলো বিষয় পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত। একদিকে রাষ্ট্রের দায়িত্ব নাগরিকদের জানমাল রক্ষা করা এবং অবৈধ অস্ত্র ও সশস্ত্র অপরাধের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া।
পাহাড়ের নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কয়েকটি বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। প্রথমত, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে সমন্বিত অভিযান অব্যাহত রাখতে হবে। দ্বিতীয়ত, অস্ত্রের উৎস ও চোরাচালান বন্ধে সীমান্ত এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি বাড়াতে হবে। তৃতীয়ত, চাঁদাবাজি, অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডের প্রতিটি ঘটনায় দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন