পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপে লিপ্ত সন্তু লারমাসহ জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনাসহ ৯টি জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে এক্স-ফোর্সেস অ্যাসোসিয়েশন (Ex-Forces Association)। ১৩ আগস্ট ২০২৬ জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক বিশেষ সেমিনারে সংগঠনের পক্ষ থেকে এই দাবিগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারের কাছে উত্থাপন করা হয়।
সেমিনারে বক্তারা পার্বত্য অঞ্চলের বর্তমান পরিস্থিতিকে দেশের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য একটি বড় হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেন এবং ভূ- geopolitical ষড়যন্ত্র রুখতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দেন।
সেমিনারে বক্তারা অভিযোগ করেন যে, পার্বত্য চট্টগ্রামে কিছু চিহ্নিত ব্যক্তি ও আঞ্চলিক দল দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্রবিরোধী এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সভাপতি সন্তু লারমা, ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায়, ইয়েন ইয়েন, ইউপিডিএফ নেতা প্রসীত বিকাশ খীসা, মাইকেল চাকমা এবং কেএনএফ প্রধান নাথান বমসহ এই চক্রের সঙ্গে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়। বক্তাদের মতে, এদের উসকানি ও নেতৃত্বের কারণেই পাহাড়ে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা ব্যাহত হচ্ছে।
এক্স-ফোর্সেস অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি পুনরায় পর্যালোচনা বা রিভিউ করার জন্য জোর দাবি জানানো হয়েছে।
সেমিনারে উত্থাপিত জরুরি ৯টি পদক্ষেপের মূল অংশগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
১. সশস্ত্র গোষ্ঠী প্রতিহতকরণ: পাহাড়ে সক্রিয় থাকা জেএসএস, ইউপিডিএফ, কেএনএফসহ সকল সশস্ত্র ও বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীকে যেকোনো মূল্যে প্রতিহত করা।
2. ২. শান্তি চুক্তি রিভিউ: বিগত দুই দশকের অভিজ্ঞতা এবং বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনা করে ১৯৯৭ সালের পার্বত্য শান্তি চুক্তি পুনর্মূল্যায়ন করা।
3. ৩. নেতৃস্থানীয়দের গ্রেপ্তার: রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপে জড়িত সন্তু লারমা, দেবাশীষ রায়সহ উসকানিদাতাদের আইনি প্রক্রিয়ায় আনা।
4. ৪. স্থায়ী সেনা ক্যাম্প স্থাপন: কৌশলগত কারণে পার্বত্য অঞ্চলের সব গোলযোগপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সেনাবাহিনীর স্থায়ী ক্যান্টনমেন্ট বা ক্যাম্প পুনঃস্থাপন নিশ্চিত করা।
5. ৫. সীমান্ত সুরক্ষা জোরদার: বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) বর্ডার আউটপোস্ট (বিওপি) সংখ্যা বাড়িয়ে সীমান্ত দিয়ে অস্ত্র ও গোলাবারুদ প্রবেশ বন্ধ করা।৬. অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার: পাহাড়ের অভ্যন্তরীণ দুর্গম এলাকাগুলোতে লুকিয়ে রাখা অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারে অবিলম্বে যৌথ বাহিনীর ব্যাপক চিরুনি অভিযান পরিচালনা করা।
6. ৭. চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস দমন: সাধারণ পাহাড়ি ও বাঙালি নাগরিকসহ স্থানীয় ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আঞ্চলিক দলগুলোর জোরপূর্বক চাঁদাবাজি কঠোর হস্তে দমন করা।
7. ৮. ভূমির সম-অধিকার: দেশের সমতলের নাগরিকদের মতো পাহাড়ের অধিবাসীদের ক্ষেত্রেও জমির মালিকানা ও অবাধ কেনাবেচার অধিকারের বৈষম্য দূর করা।
8. ৯. সার্বভৌমত্ব ও টেকসই উন্নয়ন: ভূ-রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র রুখে দিয়ে পার্বত্য অঞ্চলে টেকসই শান্তি, নিরাপত্তা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং দেশের অখণ্ডতা রক্ষা করা।
দেশের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা রক্ষার স্বার্থে পার্বত্য চট্টগ্রামে নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি বজায় রাখা এবং এই ৯টি পদক্ষেপ দ্রুত বাস্তবায়ন করা এখন সময়ের দাবি বলে তারা মনে করেন।

শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ আগস্ট ২০২৬
পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপে লিপ্ত সন্তু লারমাসহ জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনাসহ ৯টি জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে এক্স-ফোর্সেস অ্যাসোসিয়েশন (Ex-Forces Association)। ১৩ আগস্ট ২০২৬ জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক বিশেষ সেমিনারে সংগঠনের পক্ষ থেকে এই দাবিগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারের কাছে উত্থাপন করা হয়।
সেমিনারে বক্তারা পার্বত্য অঞ্চলের বর্তমান পরিস্থিতিকে দেশের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য একটি বড় হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেন এবং ভূ- geopolitical ষড়যন্ত্র রুখতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দেন।
সেমিনারে বক্তারা অভিযোগ করেন যে, পার্বত্য চট্টগ্রামে কিছু চিহ্নিত ব্যক্তি ও আঞ্চলিক দল দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্রবিরোধী এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সভাপতি সন্তু লারমা, ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায়, ইয়েন ইয়েন, ইউপিডিএফ নেতা প্রসীত বিকাশ খীসা, মাইকেল চাকমা এবং কেএনএফ প্রধান নাথান বমসহ এই চক্রের সঙ্গে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়। বক্তাদের মতে, এদের উসকানি ও নেতৃত্বের কারণেই পাহাড়ে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা ব্যাহত হচ্ছে।
এক্স-ফোর্সেস অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি পুনরায় পর্যালোচনা বা রিভিউ করার জন্য জোর দাবি জানানো হয়েছে।
সেমিনারে উত্থাপিত জরুরি ৯টি পদক্ষেপের মূল অংশগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
১. সশস্ত্র গোষ্ঠী প্রতিহতকরণ: পাহাড়ে সক্রিয় থাকা জেএসএস, ইউপিডিএফ, কেএনএফসহ সকল সশস্ত্র ও বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীকে যেকোনো মূল্যে প্রতিহত করা।
2. ২. শান্তি চুক্তি রিভিউ: বিগত দুই দশকের অভিজ্ঞতা এবং বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনা করে ১৯৯৭ সালের পার্বত্য শান্তি চুক্তি পুনর্মূল্যায়ন করা।
3. ৩. নেতৃস্থানীয়দের গ্রেপ্তার: রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপে জড়িত সন্তু লারমা, দেবাশীষ রায়সহ উসকানিদাতাদের আইনি প্রক্রিয়ায় আনা।
4. ৪. স্থায়ী সেনা ক্যাম্প স্থাপন: কৌশলগত কারণে পার্বত্য অঞ্চলের সব গোলযোগপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সেনাবাহিনীর স্থায়ী ক্যান্টনমেন্ট বা ক্যাম্প পুনঃস্থাপন নিশ্চিত করা।
5. ৫. সীমান্ত সুরক্ষা জোরদার: বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) বর্ডার আউটপোস্ট (বিওপি) সংখ্যা বাড়িয়ে সীমান্ত দিয়ে অস্ত্র ও গোলাবারুদ প্রবেশ বন্ধ করা।৬. অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার: পাহাড়ের অভ্যন্তরীণ দুর্গম এলাকাগুলোতে লুকিয়ে রাখা অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারে অবিলম্বে যৌথ বাহিনীর ব্যাপক চিরুনি অভিযান পরিচালনা করা।
6. ৭. চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস দমন: সাধারণ পাহাড়ি ও বাঙালি নাগরিকসহ স্থানীয় ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আঞ্চলিক দলগুলোর জোরপূর্বক চাঁদাবাজি কঠোর হস্তে দমন করা।
7. ৮. ভূমির সম-অধিকার: দেশের সমতলের নাগরিকদের মতো পাহাড়ের অধিবাসীদের ক্ষেত্রেও জমির মালিকানা ও অবাধ কেনাবেচার অধিকারের বৈষম্য দূর করা।
8. ৯. সার্বভৌমত্ব ও টেকসই উন্নয়ন: ভূ-রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র রুখে দিয়ে পার্বত্য অঞ্চলে টেকসই শান্তি, নিরাপত্তা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং দেশের অখণ্ডতা রক্ষা করা।
দেশের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা রক্ষার স্বার্থে পার্বত্য চট্টগ্রামে নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি বজায় রাখা এবং এই ৯টি পদক্ষেপ দ্রুত বাস্তবায়ন করা এখন সময়ের দাবি বলে তারা মনে করেন।

আপনার মতামত লিখুন