শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ঢাকা
চ্যানেল সিএইচটি

সাজেকে ইউপিডিএফ-জেএসএস মুখোমুখি অবস্থান: যেকোনো মুহূর্তে রক্তক্ষয়ী সংঘাতের আশঙ্কায় উৎকণ্ঠায় পাহাড়ি জনপদ।



সাজেকে ইউপিডিএফ-জেএসএস মুখোমুখি অবস্থান: যেকোনো মুহূর্তে রক্তক্ষয়ী সংঘাতের আশঙ্কায় উৎকণ্ঠায় পাহাড়ি জনপদ।

পার্বত্য চট্টগ্রামের নৈসর্গিক সৌন্দর্যমণ্ডিত সাজেক উপত্যকায় দুই সশস্ত্র আঞ্চলিক সংগঠন ইউপিডিএফ (প্রসীত) এবং জেএসএস (সন্তু) এর বিপুলসংখ্যক সশস্ত্র ক্যাডারের উপস্থিতি ঘিরে এক অভূতপূর্ব উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। পাহাড়ি দুটি সন্ত্রাসী দলের এমন মুখোমুখি অবস্থানের খবর ছড়িয়ে পড়ায় সমগ্র এলাকা জুড়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের মনে তীব্র আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। যেকোনো মুহূর্তে দুই পক্ষের মধ্যে বড় ধরনের সশস্ত্র সংঘর্ষ ও রক্তক্ষয়ী গোলাগুলির আশঙ্কা প্রকাশ করছেন স্থানীয়রা।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, আজ ৬ সেপ্টেম্বর- ২০২৬ তারিখ সকাল আনুমানিক ৬ ঘটিকায় সাজেক ইউনিয়নের বিভিন্ন কৌশলগত পয়েন্টে ইউপিডিএফ (প্রসীত) দলের তিনটি শক্তিশালী সশস্ত্র দল অবস্থান গ্রহণ করে। এর মধ্যে নোয়াপাড়া উত্তর পাশ এলাকায় গ্রুপ কমান্ডার সুমন চাকমার নেতৃত্বে ৩০ থেকে ৩৫ জন, ৮নং পাড়া এলাকায় গ্রুপ কমান্ডার কহেন চাকমার নেতৃত্বে ২৫ থেকে ৩০ জন এবং কিচিংপাড়া এলাকায় গ্রুপ কমান্ডার পরান্টু চাকমার নেতৃত্বে আরও ৩০ থেকে ৩৫ জনের একটি ভারী সশস্ত্র দল অবস্থান নেয়।

একই সময়ে প্রতিপক্ষ জেএসএস (সন্তু) দলের সশস্ত্র ক্যাডাররাও সাজেক ইউনিয়নের আশপাশের অঞ্চলে নিজেদের শক্ত অবস্থান নিশ্চিত করেছে। উদয়পুর এলাকার পরিচালক বিক্রম চাকমার নেতৃত্বে ৪০ থেকে ৪৫ জনের একটি বিশাল সশস্ত্র গ্রুপ নোয়াপাড়া এলাকায় অবস্থান নিয়েছে। পাশাপাশি, ব্রীজপাড়া এলাকায় গ্রুপ কমান্ডার মুচং চাকমার নেতৃত্বে ৩০ থেকে ৩৫ জনের অপর একটি সশস্ত্র টিম সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

সাজেক ইউনিয়নের নোয়াপাড়া, ৮নং পাড়া, কিচিংপাড়া এবং ব্রীজপাড়ার মতো ঘনবসতিপূর্ণ ও পর্যটনসংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে উভয় পক্ষের শতাধিক সশস্ত্র সদস্যের এমন সমাবেশে চরম উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। দুই দলের ক্যাডাররা মুখোমুখি অবস্থানে থেকে আধিপত্য বিস্তারের জোর চেষ্টা চালাচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে মারাত্মক বিস্ফোরণোন্মুখ করে তুলেছে।

আঞ্চলিক ক্ষমতার দ্বন্দ্ব ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই বৈরী মনোভাব যেকোনো মুহূর্তে ভয়াবহ গোলাগুলিতে রূপ নিতে পারে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, উপত্যকায় যেকোনো সময় বড় ধরনের সহিংসতার ঘটনা ঘটা এখন শুধুই সময়ের ব্যাপার। ফলে সাধারণ মানুষ নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা ও ভয়ে দিন কাটাচ্ছেন।

পার্বত্য এলাকার এই অস্থিতিশীল ও থমথমে পরিস্থিতির কারণে সাজেকের পর্যটন শিল্প সহ সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যেন আরও অবনতি না ঘটে এবং জনমনে শান্তি ও নিরাপত্তা ফিরে আসে, সেজন্য পুরো এলাকাজুড়ে কড়া নজরদারি ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।

লেখক: জি. কে চাকমা।

আপনার মতামত লিখুন

চ্যানেল সিএইচটি

শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


সাজেকে ইউপিডিএফ-জেএসএস মুখোমুখি অবস্থান: যেকোনো মুহূর্তে রক্তক্ষয়ী সংঘাতের আশঙ্কায় উৎকণ্ঠায় পাহাড়ি জনপদ।

প্রকাশের তারিখ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

পার্বত্য চট্টগ্রামের নৈসর্গিক সৌন্দর্যমণ্ডিত সাজেক উপত্যকায় দুই সশস্ত্র আঞ্চলিক সংগঠন ইউপিডিএফ (প্রসীত) এবং জেএসএস (সন্তু) এর বিপুলসংখ্যক সশস্ত্র ক্যাডারের উপস্থিতি ঘিরে এক অভূতপূর্ব উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। পাহাড়ি দুটি সন্ত্রাসী দলের এমন মুখোমুখি অবস্থানের খবর ছড়িয়ে পড়ায় সমগ্র এলাকা জুড়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের মনে তীব্র আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। যেকোনো মুহূর্তে দুই পক্ষের মধ্যে বড় ধরনের সশস্ত্র সংঘর্ষ ও রক্তক্ষয়ী গোলাগুলির আশঙ্কা প্রকাশ করছেন স্থানীয়রা।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, আজ ৬ সেপ্টেম্বর- ২০২৬ তারিখ সকাল আনুমানিক ৬ ঘটিকায় সাজেক ইউনিয়নের বিভিন্ন কৌশলগত পয়েন্টে ইউপিডিএফ (প্রসীত) দলের তিনটি শক্তিশালী সশস্ত্র দল অবস্থান গ্রহণ করে। এর মধ্যে নোয়াপাড়া উত্তর পাশ এলাকায় গ্রুপ কমান্ডার সুমন চাকমার নেতৃত্বে ৩০ থেকে ৩৫ জন, ৮নং পাড়া এলাকায় গ্রুপ কমান্ডার কহেন চাকমার নেতৃত্বে ২৫ থেকে ৩০ জন এবং কিচিংপাড়া এলাকায় গ্রুপ কমান্ডার পরান্টু চাকমার নেতৃত্বে আরও ৩০ থেকে ৩৫ জনের একটি ভারী সশস্ত্র দল অবস্থান নেয়।

একই সময়ে প্রতিপক্ষ জেএসএস (সন্তু) দলের সশস্ত্র ক্যাডাররাও সাজেক ইউনিয়নের আশপাশের অঞ্চলে নিজেদের শক্ত অবস্থান নিশ্চিত করেছে। উদয়পুর এলাকার পরিচালক বিক্রম চাকমার নেতৃত্বে ৪০ থেকে ৪৫ জনের একটি বিশাল সশস্ত্র গ্রুপ নোয়াপাড়া এলাকায় অবস্থান নিয়েছে। পাশাপাশি, ব্রীজপাড়া এলাকায় গ্রুপ কমান্ডার মুচং চাকমার নেতৃত্বে ৩০ থেকে ৩৫ জনের অপর একটি সশস্ত্র টিম সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

সাজেক ইউনিয়নের নোয়াপাড়া, ৮নং পাড়া, কিচিংপাড়া এবং ব্রীজপাড়ার মতো ঘনবসতিপূর্ণ ও পর্যটনসংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে উভয় পক্ষের শতাধিক সশস্ত্র সদস্যের এমন সমাবেশে চরম উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। দুই দলের ক্যাডাররা মুখোমুখি অবস্থানে থেকে আধিপত্য বিস্তারের জোর চেষ্টা চালাচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে মারাত্মক বিস্ফোরণোন্মুখ করে তুলেছে।

আঞ্চলিক ক্ষমতার দ্বন্দ্ব ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই বৈরী মনোভাব যেকোনো মুহূর্তে ভয়াবহ গোলাগুলিতে রূপ নিতে পারে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, উপত্যকায় যেকোনো সময় বড় ধরনের সহিংসতার ঘটনা ঘটা এখন শুধুই সময়ের ব্যাপার। ফলে সাধারণ মানুষ নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা ও ভয়ে দিন কাটাচ্ছেন।

পার্বত্য এলাকার এই অস্থিতিশীল ও থমথমে পরিস্থিতির কারণে সাজেকের পর্যটন শিল্প সহ সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যেন আরও অবনতি না ঘটে এবং জনমনে শান্তি ও নিরাপত্তা ফিরে আসে, সেজন্য পুরো এলাকাজুড়ে কড়া নজরদারি ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।

লেখক: জি. কে চাকমা।


চ্যানেল সিএইচটি

সম্পাদক : এইচ এ আব্দুর রউফ, উপদেষ্টা : কামাল পারভেজ
কপিরাইট © ২০২৬ চ্যানেল সিএইচটি । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত