আমি বাংলাদেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ পার্বত্য চট্টগ্রামের একজন স্থায়ী বাসিন্দা। আমি বাংলাদেশ ও বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী। আমার প্রথম পরিচয় আমি একজন বাংলাদেশি নাগরিক, এরপর আমি একজন মুসলিম পরিবারের সদস্য।
পার্বত্য চট্টগ্রামকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের বিদ্বেষ, বিভাজন, অপপ্রচার ও ভুল ব্যাখ্যার রাজনীতি চলে আসছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের একজন স্থানীয় সচেতন নাগরিক হিসেবে আমি দীর্ঘদিন ধরে পার্বত্য চট্টগ্রামের ইতিহাস, সমাজ, সংস্কৃতি, নিরাপত্তা, উন্নয়ন ও সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গবেষণা এবং লেখালেখির চেষ্টা করে আসছি। আমার লেখার মূল উদ্দেশ্য হলো, পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত সকল জাতিগোষ্ঠীর মানুষের মধ্যে শান্তি, সম্প্রীতি, নিরাপত্তা, উন্নয়ন ও সহাবস্থানের পরিবেশ আরও সুদৃঢ় করা।
আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত সকল জাতিগোষ্ঠী বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী স্বীকৃত এবং সমান মর্যাদাসম্পন্ন নাগরিক। রাষ্ট্রের আইন, অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা ভোগের ক্ষেত্রে প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে। কথিত কোনো শিকলের দোহাই দিয়ে কোনো জনগোষ্ঠীকে বাদ দিয়ে, অস্বীকার করে বা বৈষম্যের মধ্যে রেখে এই অঞ্চলে টেকসই শান্তি ও সহাবস্থান প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। পাশাপাশি প্রয়োজন পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত সকল জাতিগোষ্ঠীর মানুষের মনোজগতের ইতিবাচক পরিবর্তন।
সেই বিশ্বাস থেকেই আমি পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল জনগোষ্ঠীর সুবিধা, অসুবিধা, নিরাপত্তা, সমস্যা, সম্ভাবনা ও বাস্তবতাগুলো সংশ্লিষ্ট মহলের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করি। আমার লেখালেখি ও বিশ্লেষণের কেন্দ্রবিন্দু সবসময়ই সাধারণ মানুষের কল্যাণ, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং একটি শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠন।
বর্তমানে লক্ষ্য করছি, আমার গবেষণামূলক ও বিশ্লেষণধর্মী কিছু লেখাকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে এবং বিভিন্ন ফেইক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট থেকে আমার বক্তব্যের অপব্যাখ্যা ছড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে আমি সকল জাতিগোষ্ঠীর সাধারণ মানুষকে সচেতন থাকার আহ্বান জানাই। কোনো বক্তব্য বা লেখা সম্পর্কে মতামত গঠনের আগে মূল উৎস থেকে বিষয়টি যাচাই করার অনুরোধ করছি।
আমার বিশ্লেষণ বা মতামত কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা স্বার্থান্বেষী মহলের মতের সঙ্গে অমিল হতে পারে। তবে আমার লেখার মূল উদ্দেশ্য কখনোই বিভাজন সৃষ্টি করা নয়, বরং সাধারণ মানুষের কথা তুলে ধরা, ভুল বোঝাবুঝি দূর করা এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পক্ষে জনমত গড়ে তোলা।
আমি বিশ্বাস করি, পার্বত্য চট্টগ্রাম আমাদের সকলের। এখানে বসবাসরত প্রতিটি জনগোষ্ঠীর মানুষের নিরাপত্তা, মর্যাদা, অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। সকল প্রকার গুজব, অপপ্রচার, বিদ্বেষ ও বিভাজন পরিহার করে আমরা যদি পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও আস্থার ভিত্তিতে এগিয়ে যেতে পারি, তবে একটি শান্তিপূর্ণ, সমৃদ্ধ ও সম্প্রীতিপূর্ণ পার্বত্য চট্টগ্রাম গড়ে তোলা সম্ভব।
পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত সকল জাতিগোষ্ঠীর মানুষের কল্যাণ, শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়ন সাধিত হোক, এই প্রত্যাশা রইল।
এম মহাসিন মিয়া,
লেখক ও আঞ্চলিক গবেষক, পার্বত্য চট্টগ্রাম।

শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ জুন ২০২৬
আমি বাংলাদেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ পার্বত্য চট্টগ্রামের একজন স্থায়ী বাসিন্দা। আমি বাংলাদেশ ও বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী। আমার প্রথম পরিচয় আমি একজন বাংলাদেশি নাগরিক, এরপর আমি একজন মুসলিম পরিবারের সদস্য।
পার্বত্য চট্টগ্রামকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের বিদ্বেষ, বিভাজন, অপপ্রচার ও ভুল ব্যাখ্যার রাজনীতি চলে আসছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের একজন স্থানীয় সচেতন নাগরিক হিসেবে আমি দীর্ঘদিন ধরে পার্বত্য চট্টগ্রামের ইতিহাস, সমাজ, সংস্কৃতি, নিরাপত্তা, উন্নয়ন ও সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গবেষণা এবং লেখালেখির চেষ্টা করে আসছি। আমার লেখার মূল উদ্দেশ্য হলো, পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত সকল জাতিগোষ্ঠীর মানুষের মধ্যে শান্তি, সম্প্রীতি, নিরাপত্তা, উন্নয়ন ও সহাবস্থানের পরিবেশ আরও সুদৃঢ় করা।
আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত সকল জাতিগোষ্ঠী বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী স্বীকৃত এবং সমান মর্যাদাসম্পন্ন নাগরিক। রাষ্ট্রের আইন, অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা ভোগের ক্ষেত্রে প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে। কথিত কোনো শিকলের দোহাই দিয়ে কোনো জনগোষ্ঠীকে বাদ দিয়ে, অস্বীকার করে বা বৈষম্যের মধ্যে রেখে এই অঞ্চলে টেকসই শান্তি ও সহাবস্থান প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। পাশাপাশি প্রয়োজন পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত সকল জাতিগোষ্ঠীর মানুষের মনোজগতের ইতিবাচক পরিবর্তন।
সেই বিশ্বাস থেকেই আমি পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল জনগোষ্ঠীর সুবিধা, অসুবিধা, নিরাপত্তা, সমস্যা, সম্ভাবনা ও বাস্তবতাগুলো সংশ্লিষ্ট মহলের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করি। আমার লেখালেখি ও বিশ্লেষণের কেন্দ্রবিন্দু সবসময়ই সাধারণ মানুষের কল্যাণ, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং একটি শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠন।
বর্তমানে লক্ষ্য করছি, আমার গবেষণামূলক ও বিশ্লেষণধর্মী কিছু লেখাকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে এবং বিভিন্ন ফেইক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট থেকে আমার বক্তব্যের অপব্যাখ্যা ছড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে আমি সকল জাতিগোষ্ঠীর সাধারণ মানুষকে সচেতন থাকার আহ্বান জানাই। কোনো বক্তব্য বা লেখা সম্পর্কে মতামত গঠনের আগে মূল উৎস থেকে বিষয়টি যাচাই করার অনুরোধ করছি।
আমার বিশ্লেষণ বা মতামত কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা স্বার্থান্বেষী মহলের মতের সঙ্গে অমিল হতে পারে। তবে আমার লেখার মূল উদ্দেশ্য কখনোই বিভাজন সৃষ্টি করা নয়, বরং সাধারণ মানুষের কথা তুলে ধরা, ভুল বোঝাবুঝি দূর করা এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পক্ষে জনমত গড়ে তোলা।
আমি বিশ্বাস করি, পার্বত্য চট্টগ্রাম আমাদের সকলের। এখানে বসবাসরত প্রতিটি জনগোষ্ঠীর মানুষের নিরাপত্তা, মর্যাদা, অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। সকল প্রকার গুজব, অপপ্রচার, বিদ্বেষ ও বিভাজন পরিহার করে আমরা যদি পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও আস্থার ভিত্তিতে এগিয়ে যেতে পারি, তবে একটি শান্তিপূর্ণ, সমৃদ্ধ ও সম্প্রীতিপূর্ণ পার্বত্য চট্টগ্রাম গড়ে তোলা সম্ভব।
পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত সকল জাতিগোষ্ঠীর মানুষের কল্যাণ, শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়ন সাধিত হোক, এই প্রত্যাশা রইল।
এম মহাসিন মিয়া,
লেখক ও আঞ্চলিক গবেষক, পার্বত্য চট্টগ্রাম।

আপনার মতামত লিখুন