শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
১৯ জুন, ২০২৬ ঢাকা
চ্যানেল সিএইচটি

শহীদ ওমর ফারুক ত্রিপুরার শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে পিসিসিপির আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল: খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি।



শহীদ ওমর ফারুক ত্রিপুরার শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে পিসিসিপির আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল: খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি।

বান্দরবানের উপজাতীয় নওমুসলিম শহীদ ওমর ফারুক ত্রিপুরা (রহ.)-এর ৫ম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ, বান্দরবান পার্বত্য জেলা শাখা। আজ (১৮ জুন ২০২৬) বৃহস্পতিবার বেলা ৪ ঘটিকায় বান্দরবান শহরস্থ শহীদ আবু সাঈদ স্মৃতি পাঠাগার মিলনায়তনে উক্ত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

উক্ত অনুষ্ঠানে ছাত্র পরিষদ, বান্দরবান জেলা শাখার সভাপতি জনাব আসিফ ইকবালের সভাপতিত্বে ও সাংগঠনিক সম্পাদক জনাব মিছবাহ উদ্দীনের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ, বান্দরবান পার্বত্য জেলা শাখার সভাপতি ও স্থায়ী কমিটির সদস্য জনাব মাও. আবুল কালাম আজাদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নাগরিক পরিষদ, বান্দরবান জেলার সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের সম্মানিত সদস্য জনাব নাছির উদ্দীন, কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক জনাব শাহজালাল রানা এবং ছাত্র পরিষদ, বান্দরবান জেলার সাধারণ সম্পাদক জনাব তানভীর হোসেন ইমন প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাও. আবুল কালাম আজাদ বলেন, "শহীদ ওমর ফারুক ত্রিপুরা পাহাড়ের একজন একনিষ্ঠ দ্বীনের দায়ী ছিলেন। শুধু ইসলাম ধর্ম গ্রহণ ও প্রচারের কারণে জনসংহতি সমিতি তথা জেএসএসের সন্ত্রাসী এবং কতিপয় খ্রিষ্টান মিশনারির সাথে জড়িত ব্যক্তিরা তাকে হত্যা করেছে। শহীদ ওমর ফারুককে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা ওনার অগ্রযাত্রাকে থামিয়ে দিতে পারেনি। শহীদ ওমর ফারুক ত্রিপুরার কাঙ্ক্ষিত স্বপ্ন তাঁর উত্তরসূরিরা বাস্তবায়ন করবেই।" সর্বশেষে তিনি তাঁর হত্যাকারী সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ও তাদের মদদদাতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি অবিলম্বে নিশ্চিত করার দাবি জানান।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বক্তারা বলেন, শহীদ ওমর ফারুক ত্রিপুরা পার্বত্য চট্টগ্রামে মুক্তিকামী ও শান্তিপ্রিয় মানুষের নিপীড়িত কণ্ঠস্বর ছিলেন। তাঁর শাহাদাতবরণ পাহাড়ে ইসলামের ভিত্তি আরও মজবুত করবে। বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের অসৎ উদ্দেশ্য কখনো সফল হবে না। ওমর ফারুককে আমাদের অনুপ্রেরণা হিসেবে গ্রহণ করতে হবে এবং তাঁর দেখা স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দিতে হবে; তবেই পাহাড়ে শান্তি ও মুক্তি মিলবে। এ সময় তাঁরা নতুন সরকারের কাছে শহীদের হত্যাকারী চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে সর্বোচ্চ শাস্তি (ফাঁসি) কার্যকর করার জোর দাবি জানান।

সভাপতির বক্তব্যে আসিফ ইকবাল উপস্থিত শিক্ষার্থীবৃন্দ এবং দেশবাসীর উদ্দেশে বলেন, "শহীদ ওমর ফারুক ত্রিপুরার ঐতিহাসিক জীবনী আমাদের জানতে হবে। ওনার লালিত স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দিতে আমাদের নিরলস কাজ করে যেতে হবে। যে সমস্ত সন্ত্রাসী শহীদ ওমর ফারুকদের মতো বীরদের হত্যা করে পাহাড়ে ইসলামের অগ্রযাত্রাকে থামিয়ে দিতে চায়, তাদের ধ্বংস অনিবার্য। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রাখতে প্রয়োজনে ওমর ফারুকের মতো আমাদেরও জীবন কোরবানি দিতে হবে; তবেই কাঙ্ক্ষিত পার্বত্য চট্টগ্রাম বিনির্মাণ করা সম্ভব।" অবিলম্বে চিহ্নিত খুনি ও নির্দেশদাতাদের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে বিচার নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান তিনি।

দোয়া মাহফিলে শহীদ ওমর ফারুক ত্রিপুরার ঈসালে সওয়াবের উদ্দেশ্যে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন নওমুসলিম তরুণ আলেম মাওলানা আবু জাফর। এ সময় তিনি শহীদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বলেন, "শহীদ ওমর ফারুককে শুধু ইসলাম গ্রহণ ও প্রচারের কারণে সন্ত্রাসীরা হত্যা করেছে। আমরা তাঁর হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার দাবি করছি।" তিনি আরও বলেন, "ওমর ফারুক পাহাড়ে বাঙালি-পাহাড়ি সকলের কাছে একটি আদর্শের নাম, যিনি পাহাড়ের আনাচে-কানাচে ইসলামের সুমহান আদর্শ নির্ভয়ে ছড়িয়ে দিয়েছেন। তাই সবাইকে ওমর ফারুক ত্রিপুরার রেখে যাওয়া অসমাপ্ত কাজ শেষ করতে তাকওয়া ও সাহসের সাথে চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।"

উল্লেখ্য, বান্দরবান পার্বত্য জেলার রোয়াংছড়ি উপজেলার সদর ইউনিয়নের দুর্গম তুলাছড়ি পাড়ায় ২০২১ সালের ১৮ জুন দিবাগত রাতে এশার নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে জনসংহতি সমিতি তথা কুখ্যাত শান্তিবাহিনীর সন্ত্রাসীরা তাদের প্রধান খুনি সন্তু লারমার নেতৃত্বে ওমর ফারুককে নির্মমভাবে হত্যা করে। আজ ৫ বছর পেরিয়ে গেলেও চিহ্নিত খুনিদের কোনো বিচার হয়নি; ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে খুনি ও নির্দেশদাতারা। অবিলম্বে এই খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করে পাহাড়ের সমস্ত সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করার এবং পাহাড়সহ সারা দেশে নওমুসলিমদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয় ছাত্র পরিষদের পক্ষ থেকে।

আপনার মতামত লিখুন

চ্যানেল সিএইচটি

শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬


শহীদ ওমর ফারুক ত্রিপুরার শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে পিসিসিপির আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল: খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি।

প্রকাশের তারিখ : ১৮ জুন ২০২৬

featured Image

বান্দরবানের উপজাতীয় নওমুসলিম শহীদ ওমর ফারুক ত্রিপুরা (রহ.)-এর ৫ম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ, বান্দরবান পার্বত্য জেলা শাখা। আজ (১৮ জুন ২০২৬) বৃহস্পতিবার বেলা ৪ ঘটিকায় বান্দরবান শহরস্থ শহীদ আবু সাঈদ স্মৃতি পাঠাগার মিলনায়তনে উক্ত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

উক্ত অনুষ্ঠানে ছাত্র পরিষদ, বান্দরবান জেলা শাখার সভাপতি জনাব আসিফ ইকবালের সভাপতিত্বে ও সাংগঠনিক সম্পাদক জনাব মিছবাহ উদ্দীনের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ, বান্দরবান পার্বত্য জেলা শাখার সভাপতি ও স্থায়ী কমিটির সদস্য জনাব মাও. আবুল কালাম আজাদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নাগরিক পরিষদ, বান্দরবান জেলার সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের সম্মানিত সদস্য জনাব নাছির উদ্দীন, কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক জনাব শাহজালাল রানা এবং ছাত্র পরিষদ, বান্দরবান জেলার সাধারণ সম্পাদক জনাব তানভীর হোসেন ইমন প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাও. আবুল কালাম আজাদ বলেন, "শহীদ ওমর ফারুক ত্রিপুরা পাহাড়ের একজন একনিষ্ঠ দ্বীনের দায়ী ছিলেন। শুধু ইসলাম ধর্ম গ্রহণ ও প্রচারের কারণে জনসংহতি সমিতি তথা জেএসএসের সন্ত্রাসী এবং কতিপয় খ্রিষ্টান মিশনারির সাথে জড়িত ব্যক্তিরা তাকে হত্যা করেছে। শহীদ ওমর ফারুককে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা ওনার অগ্রযাত্রাকে থামিয়ে দিতে পারেনি। শহীদ ওমর ফারুক ত্রিপুরার কাঙ্ক্ষিত স্বপ্ন তাঁর উত্তরসূরিরা বাস্তবায়ন করবেই।" সর্বশেষে তিনি তাঁর হত্যাকারী সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ও তাদের মদদদাতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি অবিলম্বে নিশ্চিত করার দাবি জানান।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বক্তারা বলেন, শহীদ ওমর ফারুক ত্রিপুরা পার্বত্য চট্টগ্রামে মুক্তিকামী ও শান্তিপ্রিয় মানুষের নিপীড়িত কণ্ঠস্বর ছিলেন। তাঁর শাহাদাতবরণ পাহাড়ে ইসলামের ভিত্তি আরও মজবুত করবে। বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের অসৎ উদ্দেশ্য কখনো সফল হবে না। ওমর ফারুককে আমাদের অনুপ্রেরণা হিসেবে গ্রহণ করতে হবে এবং তাঁর দেখা স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দিতে হবে; তবেই পাহাড়ে শান্তি ও মুক্তি মিলবে। এ সময় তাঁরা নতুন সরকারের কাছে শহীদের হত্যাকারী চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে সর্বোচ্চ শাস্তি (ফাঁসি) কার্যকর করার জোর দাবি জানান।

সভাপতির বক্তব্যে আসিফ ইকবাল উপস্থিত শিক্ষার্থীবৃন্দ এবং দেশবাসীর উদ্দেশে বলেন, "শহীদ ওমর ফারুক ত্রিপুরার ঐতিহাসিক জীবনী আমাদের জানতে হবে। ওনার লালিত স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দিতে আমাদের নিরলস কাজ করে যেতে হবে। যে সমস্ত সন্ত্রাসী শহীদ ওমর ফারুকদের মতো বীরদের হত্যা করে পাহাড়ে ইসলামের অগ্রযাত্রাকে থামিয়ে দিতে চায়, তাদের ধ্বংস অনিবার্য। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রাখতে প্রয়োজনে ওমর ফারুকের মতো আমাদেরও জীবন কোরবানি দিতে হবে; তবেই কাঙ্ক্ষিত পার্বত্য চট্টগ্রাম বিনির্মাণ করা সম্ভব।" অবিলম্বে চিহ্নিত খুনি ও নির্দেশদাতাদের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে বিচার নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান তিনি।

দোয়া মাহফিলে শহীদ ওমর ফারুক ত্রিপুরার ঈসালে সওয়াবের উদ্দেশ্যে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন নওমুসলিম তরুণ আলেম মাওলানা আবু জাফর। এ সময় তিনি শহীদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বলেন, "শহীদ ওমর ফারুককে শুধু ইসলাম গ্রহণ ও প্রচারের কারণে সন্ত্রাসীরা হত্যা করেছে। আমরা তাঁর হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার দাবি করছি।" তিনি আরও বলেন, "ওমর ফারুক পাহাড়ে বাঙালি-পাহাড়ি সকলের কাছে একটি আদর্শের নাম, যিনি পাহাড়ের আনাচে-কানাচে ইসলামের সুমহান আদর্শ নির্ভয়ে ছড়িয়ে দিয়েছেন। তাই সবাইকে ওমর ফারুক ত্রিপুরার রেখে যাওয়া অসমাপ্ত কাজ শেষ করতে তাকওয়া ও সাহসের সাথে চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।"

উল্লেখ্য, বান্দরবান পার্বত্য জেলার রোয়াংছড়ি উপজেলার সদর ইউনিয়নের দুর্গম তুলাছড়ি পাড়ায় ২০২১ সালের ১৮ জুন দিবাগত রাতে এশার নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে জনসংহতি সমিতি তথা কুখ্যাত শান্তিবাহিনীর সন্ত্রাসীরা তাদের প্রধান খুনি সন্তু লারমার নেতৃত্বে ওমর ফারুককে নির্মমভাবে হত্যা করে। আজ ৫ বছর পেরিয়ে গেলেও চিহ্নিত খুনিদের কোনো বিচার হয়নি; ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে খুনি ও নির্দেশদাতারা। অবিলম্বে এই খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করে পাহাড়ের সমস্ত সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করার এবং পাহাড়সহ সারা দেশে নওমুসলিমদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয় ছাত্র পরিষদের পক্ষ থেকে।


চ্যানেল সিএইচটি

সম্পাদক : উপদেষ্টা :কামাল পারভেজ
কপিরাইট © ২০২৬ চ্যানেল সিএইচটি । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত