রাঙ্গামাটি সদর উপজেলার বন্দুকভাঙ্গা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দানে ত্রিপুরাছড়া এলাকায় পাহাড়ি ছড়ার পানির স্রোতে ভেসে নিখোঁজ হওয়া বাসনা চাকমা (৩২) নামে এক নারীর মরদেহ তিন দিন পর উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়রা।
নিহত বাসনা চাকমা ওই এলাকার বাসিন্দা। তাঁর স্বামীর নাম অলঙ্গ পূণ্য চাকমা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার (২২ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে দানে ত্রিপুরাছড়া এলাকায় হঠাৎ প্রবল বৃষ্টিপাত শুরু হয়। প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী ভারী বর্ষণের ফলে পাহাড়ি ছড়া ও ঝরনাগুলোতে আকস্মিকভাবে পানির প্রবাহ বেড়ে যায়। এ সময় জুম থেকে ছড়া ধরে বাড়ি ফিরছিলেন বাসনা চাকমা ও তাঁর তিন বছর বয়সী ছেলে। পথিমধ্যে হঠাৎ পানির স্রোত বেড়ে গেলে মা ও ছেলে স্রোতের পানিতে ভেসে যান।পরদিন স্থানীয়রা ঘটনাস্থল থেকে প্রায় চার কিলোমিটার দূরে শিশুটিকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করেন। তবে বাসনা চাকমার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। এরপর নিখোঁজ নারীর সন্ধানে স্থানীয়রা টানা তিন দিন ধরে আশপাশের ছড়া, ঝিরি, ঝরনা ও পানির প্রবাহের বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালাতে থাকেন।
গত মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিকেলে গ্রাম থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে একটি পাহাড়ের গভীর খাদে ঝিরির মধ্যে বাসনা চাকমার মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। প্রায় ২০০ ফুট গভীর দুর্গম পাহাড়ি খাদে গাছের সঙ্গে মরদেহটি আটকে থাকায় স্থানীয়দের পক্ষে তা উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
পরে বুধবার (২৬ আগস্ট) সকালে রাঙ্গামাটি ফায়ার স্টেশনে খবর দেওয়া হলে একটি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়। সকাল ৬টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের রেসকিউ ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্টেশন অফিসার মো. রোকনুজ্জামানের নেতৃত্বে উদ্ধার অভিযান শুরু করে।
দীর্ঘ সময় ধরে ঝুঁকিপূর্ণ ও দুর্গম পাহাড়ি খাদে অভিযান চালানোর পর দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে গাছের সঙ্গে আটকে থাকা বাসনা চাকমার মরদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হন ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা।
উদ্ধার শেষে মরদেহটি রাঙ্গামাটি কোতোয়ালি থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পাহাড়ি এলাকায় আকস্মিক ভারী বৃষ্টিপাত ও ছড়ার পানির স্রোত বৃদ্ধির বিষয়ে স্থানীয়দের আরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ আগস্ট ২০২৬
রাঙ্গামাটি সদর উপজেলার বন্দুকভাঙ্গা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দানে ত্রিপুরাছড়া এলাকায় পাহাড়ি ছড়ার পানির স্রোতে ভেসে নিখোঁজ হওয়া বাসনা চাকমা (৩২) নামে এক নারীর মরদেহ তিন দিন পর উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়রা।
নিহত বাসনা চাকমা ওই এলাকার বাসিন্দা। তাঁর স্বামীর নাম অলঙ্গ পূণ্য চাকমা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার (২২ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে দানে ত্রিপুরাছড়া এলাকায় হঠাৎ প্রবল বৃষ্টিপাত শুরু হয়। প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী ভারী বর্ষণের ফলে পাহাড়ি ছড়া ও ঝরনাগুলোতে আকস্মিকভাবে পানির প্রবাহ বেড়ে যায়। এ সময় জুম থেকে ছড়া ধরে বাড়ি ফিরছিলেন বাসনা চাকমা ও তাঁর তিন বছর বয়সী ছেলে। পথিমধ্যে হঠাৎ পানির স্রোত বেড়ে গেলে মা ও ছেলে স্রোতের পানিতে ভেসে যান।পরদিন স্থানীয়রা ঘটনাস্থল থেকে প্রায় চার কিলোমিটার দূরে শিশুটিকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করেন। তবে বাসনা চাকমার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। এরপর নিখোঁজ নারীর সন্ধানে স্থানীয়রা টানা তিন দিন ধরে আশপাশের ছড়া, ঝিরি, ঝরনা ও পানির প্রবাহের বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালাতে থাকেন।
গত মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিকেলে গ্রাম থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে একটি পাহাড়ের গভীর খাদে ঝিরির মধ্যে বাসনা চাকমার মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। প্রায় ২০০ ফুট গভীর দুর্গম পাহাড়ি খাদে গাছের সঙ্গে মরদেহটি আটকে থাকায় স্থানীয়দের পক্ষে তা উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
পরে বুধবার (২৬ আগস্ট) সকালে রাঙ্গামাটি ফায়ার স্টেশনে খবর দেওয়া হলে একটি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়। সকাল ৬টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের রেসকিউ ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্টেশন অফিসার মো. রোকনুজ্জামানের নেতৃত্বে উদ্ধার অভিযান শুরু করে।
দীর্ঘ সময় ধরে ঝুঁকিপূর্ণ ও দুর্গম পাহাড়ি খাদে অভিযান চালানোর পর দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে গাছের সঙ্গে আটকে থাকা বাসনা চাকমার মরদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হন ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা।
উদ্ধার শেষে মরদেহটি রাঙ্গামাটি কোতোয়ালি থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পাহাড়ি এলাকায় আকস্মিক ভারী বৃষ্টিপাত ও ছড়ার পানির স্রোত বৃদ্ধির বিষয়ে স্থানীয়দের আরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

আপনার মতামত লিখুন