সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
২৬ অক্টোবর, ২০২৬ ঢাকা
চ্যানেল সিএইচটি

রাঙ্গামাটির সাজেকভ্যালি পর্যটন ছাড়ছেন অবস্থানরত পর্যটকরা।



রাঙ্গামাটির সাজেকভ্যালি পর্যটন ছাড়ছেন অবস্থানরত পর্যটকরা।

জেলা প্রশাসনের সাময়িক বন্ধ ঘোষণার পর এবং স্থানীয়দের অনির্দিষ্টকালের অবরোধ ৪৮ ঘণ্টার জন্য স্থগিত করায় পার্বত্য জেলা রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকভ্যালি পর্যটন ছাড়ছেন অবস্থানরত পর্যটকরা। রোববার বিকালে পরবর্তী দুই দিনের জন্য স্থানীয়রা সড়ক থেকে তাদের কর্মসূচির ব্যারিকেড তুলে নিলে প্রায় ১২০০ পর্যটক সাজেক থেকে ফিরে গেছেন এবং একই সময়ে আরও প্রায় হাজারের বেশি পর্যটক সাজেক ঢুকেছেন বলে জানান স্থানীয় পর্যটনসংশ্লিষ্টরা। 

পরে অনিবার্য কারণ উল্লেখ করে এদিন সন্ধ্যা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাময়িকভাবে সাজেকভ্যালি পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করে জেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে সেখানে অবস্থানরত পর্যটকদের মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকাল ৫টার মধ্যে সাজেক এলাকা ত্যাগ করতে বলা হয়। এর আগে চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের সাজেক থেকে সরিয়ে নেওয়ার দাবিতে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশনের ডাকে রোববার সকাল ছয়টা থেকে সাজেক পর্যটন সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ পালন করছিলেন স্থানীয়রা। পরে তাদের দাবির ব্যাপারে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে স্থানীয় প্রশাসন ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে ওই সময়ের জন্য সড়ক থেকে ব্যারিকেড তুলে নিয়ে কর্মসূচি স্থগিত ঘোষণা দেন আন্দোলনকারীরা।

সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা বলেন, স্থানীয় প্রশাসন আমাদের সুনির্দিষ্ট দাবির ব্যাপারে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। তাই আপাতত ওই সময়ের জন্য আমরা ব্যারিকেড তুলে নিয়েছি; কিন্তু বেঁধে দেওয়া নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আমাদের দাবি নিয়ে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া না হলে আমরা আবার লাগাতার কর্মসূচি চালিয়ে যেতে বাধ্য হবো। 

সাজেক রিসোর্ট-কটেজ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রাহুল চাকমা জানান, সড়ক থেকে ব্যারিকেড তুলে নেওয়ায় রোববার বিকালে প্রায় ১২০০ পর্যটক সাজেক থেকে ফিরে গেছেন। একই সময়ে আরও প্রায় হাজারের বেশি পর্যটক সাজেক পর্যটন কেন্দ্রে ঢুকেছেন। পরে জেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় সোমবার দুপুর ২টার পর অবস্থানরত পর্যটকদের প্রায় সবাই সাজেক থেকে ফিরে গেছেন। কেউ থেকে থাকলে মঙ্গলবার দুপুরের মধ্যেই চলে যেতে পারবেন। 

বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমেনা মারজান বলেন, সাজেকে উদ্ভূত পরিস্থিতির বিবেচনায় নিরাপত্তাজনিত কারণে প্রশাসন থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাময়িকভাবে সাজেকভ্যালি পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ ঘোষণার সিদ্ধান্ত আসে। একই সঙ্গে সেখানে অবস্থানরত পর্যটকদের ১৩ অক্টোবর বিকাল ৫টার মধ্যে নিরাপদে তাদের নিজ গন্তব্যে ফিরে যেতে বলা হয়েছে। তাই আশা করছি, এ সময়ের মধ্যে অবস্থানরত পর্যটক সবাই সাজেক এলাকা ত্যাগ করে নিরাপদে চলে যাবেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে এলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

আপনার মতামত লিখুন

চ্যানেল সিএইচটি

সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬


রাঙ্গামাটির সাজেকভ্যালি পর্যটন ছাড়ছেন অবস্থানরত পর্যটকরা।

প্রকাশের তারিখ : ১৩ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

জেলা প্রশাসনের সাময়িক বন্ধ ঘোষণার পর এবং স্থানীয়দের অনির্দিষ্টকালের অবরোধ ৪৮ ঘণ্টার জন্য স্থগিত করায় পার্বত্য জেলা রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকভ্যালি পর্যটন ছাড়ছেন অবস্থানরত পর্যটকরা। রোববার বিকালে পরবর্তী দুই দিনের জন্য স্থানীয়রা সড়ক থেকে তাদের কর্মসূচির ব্যারিকেড তুলে নিলে প্রায় ১২০০ পর্যটক সাজেক থেকে ফিরে গেছেন এবং একই সময়ে আরও প্রায় হাজারের বেশি পর্যটক সাজেক ঢুকেছেন বলে জানান স্থানীয় পর্যটনসংশ্লিষ্টরা। 

পরে অনিবার্য কারণ উল্লেখ করে এদিন সন্ধ্যা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাময়িকভাবে সাজেকভ্যালি পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করে জেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে সেখানে অবস্থানরত পর্যটকদের মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকাল ৫টার মধ্যে সাজেক এলাকা ত্যাগ করতে বলা হয়। এর আগে চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের সাজেক থেকে সরিয়ে নেওয়ার দাবিতে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশনের ডাকে রোববার সকাল ছয়টা থেকে সাজেক পর্যটন সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ পালন করছিলেন স্থানীয়রা। পরে তাদের দাবির ব্যাপারে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে স্থানীয় প্রশাসন ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে ওই সময়ের জন্য সড়ক থেকে ব্যারিকেড তুলে নিয়ে কর্মসূচি স্থগিত ঘোষণা দেন আন্দোলনকারীরা।

সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা বলেন, স্থানীয় প্রশাসন আমাদের সুনির্দিষ্ট দাবির ব্যাপারে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। তাই আপাতত ওই সময়ের জন্য আমরা ব্যারিকেড তুলে নিয়েছি; কিন্তু বেঁধে দেওয়া নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আমাদের দাবি নিয়ে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া না হলে আমরা আবার লাগাতার কর্মসূচি চালিয়ে যেতে বাধ্য হবো। 

সাজেক রিসোর্ট-কটেজ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রাহুল চাকমা জানান, সড়ক থেকে ব্যারিকেড তুলে নেওয়ায় রোববার বিকালে প্রায় ১২০০ পর্যটক সাজেক থেকে ফিরে গেছেন। একই সময়ে আরও প্রায় হাজারের বেশি পর্যটক সাজেক পর্যটন কেন্দ্রে ঢুকেছেন। পরে জেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় সোমবার দুপুর ২টার পর অবস্থানরত পর্যটকদের প্রায় সবাই সাজেক থেকে ফিরে গেছেন। কেউ থেকে থাকলে মঙ্গলবার দুপুরের মধ্যেই চলে যেতে পারবেন। 

বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমেনা মারজান বলেন, সাজেকে উদ্ভূত পরিস্থিতির বিবেচনায় নিরাপত্তাজনিত কারণে প্রশাসন থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাময়িকভাবে সাজেকভ্যালি পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ ঘোষণার সিদ্ধান্ত আসে। একই সঙ্গে সেখানে অবস্থানরত পর্যটকদের ১৩ অক্টোবর বিকাল ৫টার মধ্যে নিরাপদে তাদের নিজ গন্তব্যে ফিরে যেতে বলা হয়েছে। তাই আশা করছি, এ সময়ের মধ্যে অবস্থানরত পর্যটক সবাই সাজেক এলাকা ত্যাগ করে নিরাপদে চলে যাবেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে এলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানানো হবে।


চ্যানেল সিএইচটি

সম্পাদক : এইচ এ আব্দুর রউফ, উপদেষ্টা : কামাল পারভেজ
কপিরাইট © ২০২৬ চ্যানেল সিএইচটি । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত