সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
২৬ অক্টোবর, ২০২৬ ঢাকা
চ্যানেল সিএইচটি

নিরাপত্তার দাবির আড়ালে আধিপত্য পুনরুদ্ধার: সাজেকে পর্যটক ও স্থানীয়দের জিম্মি করার কৌশল।



নিরাপত্তার দাবির আড়ালে আধিপত্য পুনরুদ্ধার: সাজেকে পর্যটক ও স্থানীয়দের জিম্মি করার কৌশল।

পাহাড়ের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র সাজেকে সম্প্রতি নিরাপত্তার দাবির আড়ালে মূলত ইউপিডিএফ (প্রসীত)-এর একচ্ছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠার কৌশল উন্মোচিত হয়েছে । গত ২২ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে সাজেকে সড়ক অবরোধের মাধ্যমে প্রায় তিন হাজার পর্যটককে আটকে রাখা হয়। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) প্রাপ্ত অভিযোগ অনুযায়ী, ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যরা নিরাপত্তা বাহিনী ও পর্যটকদের লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করে এবং স্থানীয় পাহাড়ি জনগণকে 'মানবঢাল' হিসেবে ব্যবহার করে।

এই সড়ক অবরোধ ও সংকটের পেছনে তাদের প্রধান কৌশল ছিল পর্যটকদের জিম্মি করে তৈরি হওয়া চাপকে কাজে লাগানো এবং প্রতিপক্ষ সশস্ত্র সংগঠন জেএসএস (সন্তু লারমা)-কে এলাকা থেকে সরিয়ে দেওয়ার দাবিকে সামনে আনা। তবে বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার অজুহাত তুলে মূলত প্রতিপক্ষকে হটিয়ে এলাকাটিতে নিজেদের একচ্ছত্র প্রভাব ও সশস্ত্র আধিপত্য পুনঃপ্রতিষ্ঠাই ছিল তাদের মূল উদ্দেশ্য।

২০০৭ সালের পর থেকে সাজেক ও বাঘাইছড়িতে ইউপিডিএফ (প্রসীত)-এর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, অপহরণ, নির্যাতন ও জবরদস্তিমূলক শ্রম আদায়ের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। সম্প্রতি ২১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে ৭ জন গ্রামবাসীকে অপহরণ, ১০ জুন ২০২৬ তারিখে ত্রিপুরা কৃষকদের ৮০০ মণ শুকনো হলুদ পুড়িয়ে দেওয়া এবং ২০২৫ সালের অক্টোবরে অন্তত ২০টি গ্রামে চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা আরোপের মাধ্যমে পুরো এলাকাকে জিম্মি করার নজির রয়েছে।

একই সাথে নিজেদের আন্দোলনের পেছনে কৃত্রিম জনসমর্থন দেখাতে স্থানীয় চাকমা, ত্রিপুরা, মারমা ও লুসাই গ্রামবাসীদের বাধ্য করে মিছিলে নামানো হয় এবং অনুপস্থিত থাকলে ১,০০০ টাকা জরিমানা কিংবা অন্য দণ্ডের হুমকি দেওয়া হয় । অর্থাৎ, একদিকে স্থানীয় জনগণকে শাস্তির মুখে মিছিলে অংশ নিতে বাধ্য করা এবং অন্যদিকে হাজার হাজার পর্যটককে আটকে রেখে ও মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করে নিজেদের রাজনৈতিক ও সশস্ত্র অবস্থান শক্ত করাই ইউপিডিএফের আধিপত্য পুনরুদ্ধারের মূল কৌশল হিসেবে উঠে এসেছে ।

বস্তুত, পর্যটন খাত ও স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রাকে জিম্মি করে নিজেদের অবৈধ সশস্ত্র কার্যক্রম ও চাঁদাবাজির রাজত্ব বজায় রাখাই সাজেকের সাম্প্রতিক ঘটনাবলির মূল চিত্র। 

সড়ক অবরোধ করে হাজার হাজার পর্যটককে জিম্মি করা, সাধারণ মানুষের যাতায়াত ব্যাহত করা এবং নিরাপত্তা বাহিনীর মুখোমুখি পরিস্থিতিতে স্থানীয় মানুষকে 'মানবঢাল' হিসেবে ব্যবহার করার মতো অপকৌশল প্রতিরোধ করা জরুরি।

মূলকথা: সাজেকের মানুষ কোনো সশস্ত্র সংগঠনের ক্ষমতার লড়াইয়ে জিম্মি হয়ে থাকতে চান না। নিরপেক্ষ তদন্ত, সব পক্ষের জবাবদিহি এবং আইনের সমান শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই সাধারণ মানুষের প্রকৃত সুরক্ষা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করার জন্য সরকারের আশু পদক্ষেপ জরুরি।

আপনার মতামত লিখুন

চ্যানেল সিএইচটি

সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬


নিরাপত্তার দাবির আড়ালে আধিপত্য পুনরুদ্ধার: সাজেকে পর্যটক ও স্থানীয়দের জিম্মি করার কৌশল।

প্রকাশের তারিখ : ২৬ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

পাহাড়ের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র সাজেকে সম্প্রতি নিরাপত্তার দাবির আড়ালে মূলত ইউপিডিএফ (প্রসীত)-এর একচ্ছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠার কৌশল উন্মোচিত হয়েছে । গত ২২ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে সাজেকে সড়ক অবরোধের মাধ্যমে প্রায় তিন হাজার পর্যটককে আটকে রাখা হয়। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) প্রাপ্ত অভিযোগ অনুযায়ী, ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যরা নিরাপত্তা বাহিনী ও পর্যটকদের লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করে এবং স্থানীয় পাহাড়ি জনগণকে 'মানবঢাল' হিসেবে ব্যবহার করে।

এই সড়ক অবরোধ ও সংকটের পেছনে তাদের প্রধান কৌশল ছিল পর্যটকদের জিম্মি করে তৈরি হওয়া চাপকে কাজে লাগানো এবং প্রতিপক্ষ সশস্ত্র সংগঠন জেএসএস (সন্তু লারমা)-কে এলাকা থেকে সরিয়ে দেওয়ার দাবিকে সামনে আনা। তবে বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার অজুহাত তুলে মূলত প্রতিপক্ষকে হটিয়ে এলাকাটিতে নিজেদের একচ্ছত্র প্রভাব ও সশস্ত্র আধিপত্য পুনঃপ্রতিষ্ঠাই ছিল তাদের মূল উদ্দেশ্য।

২০০৭ সালের পর থেকে সাজেক ও বাঘাইছড়িতে ইউপিডিএফ (প্রসীত)-এর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, অপহরণ, নির্যাতন ও জবরদস্তিমূলক শ্রম আদায়ের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। সম্প্রতি ২১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে ৭ জন গ্রামবাসীকে অপহরণ, ১০ জুন ২০২৬ তারিখে ত্রিপুরা কৃষকদের ৮০০ মণ শুকনো হলুদ পুড়িয়ে দেওয়া এবং ২০২৫ সালের অক্টোবরে অন্তত ২০টি গ্রামে চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা আরোপের মাধ্যমে পুরো এলাকাকে জিম্মি করার নজির রয়েছে।

একই সাথে নিজেদের আন্দোলনের পেছনে কৃত্রিম জনসমর্থন দেখাতে স্থানীয় চাকমা, ত্রিপুরা, মারমা ও লুসাই গ্রামবাসীদের বাধ্য করে মিছিলে নামানো হয় এবং অনুপস্থিত থাকলে ১,০০০ টাকা জরিমানা কিংবা অন্য দণ্ডের হুমকি দেওয়া হয় । অর্থাৎ, একদিকে স্থানীয় জনগণকে শাস্তির মুখে মিছিলে অংশ নিতে বাধ্য করা এবং অন্যদিকে হাজার হাজার পর্যটককে আটকে রেখে ও মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করে নিজেদের রাজনৈতিক ও সশস্ত্র অবস্থান শক্ত করাই ইউপিডিএফের আধিপত্য পুনরুদ্ধারের মূল কৌশল হিসেবে উঠে এসেছে ।

বস্তুত, পর্যটন খাত ও স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রাকে জিম্মি করে নিজেদের অবৈধ সশস্ত্র কার্যক্রম ও চাঁদাবাজির রাজত্ব বজায় রাখাই সাজেকের সাম্প্রতিক ঘটনাবলির মূল চিত্র। 

সড়ক অবরোধ করে হাজার হাজার পর্যটককে জিম্মি করা, সাধারণ মানুষের যাতায়াত ব্যাহত করা এবং নিরাপত্তা বাহিনীর মুখোমুখি পরিস্থিতিতে স্থানীয় মানুষকে 'মানবঢাল' হিসেবে ব্যবহার করার মতো অপকৌশল প্রতিরোধ করা জরুরি।

মূলকথা: সাজেকের মানুষ কোনো সশস্ত্র সংগঠনের ক্ষমতার লড়াইয়ে জিম্মি হয়ে থাকতে চান না। নিরপেক্ষ তদন্ত, সব পক্ষের জবাবদিহি এবং আইনের সমান শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই সাধারণ মানুষের প্রকৃত সুরক্ষা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করার জন্য সরকারের আশু পদক্ষেপ জরুরি।


চ্যানেল সিএইচটি

সম্পাদক : এইচ এ আব্দুর রউফ, উপদেষ্টা : কামাল পারভেজ
কপিরাইট © ২০২৬ চ্যানেল সিএইচটি । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত