সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
২৬ অক্টোবর, ২০২৬ ঢাকা
চ্যানেল সিএইচটি

সাজেকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ইউপিডিএফের পরিকল্পিত সহিংসতা: সন্ত্রাসীদের চিরতরে নির্মূলই অদ্বিতীয় সমাধান।



সাজেকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ইউপিডিএফের পরিকল্পিত সহিংসতা: সন্ত্রাসীদের চিরতরে নির্মূলই অদ্বিতীয় সমাধান।

পার্বত্য চট্টগ্রামের নৈসর্গিক সৌন্দর্য ও জাতীয় অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির অন্যতম চাবিকাঠি সাজেক ভ্যালিকে কেন্দ্র করে সশস্ত্র সন্ত্রাসী সংগঠন ইউপিডিএফ (ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট) যে পরিকল্পিত অস্থিতিশীলতা ও রাষ্ট্রবিরোধী সশস্ত্র ষড়যন্ত্র সৃষ্টি করেছে, তা বর্তমানে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য এক চরম হুমকি হয়ে দেখা দিয়েছে। গতকাল রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নের উজো বাজার ও গঙ্গারাম বাজার এলাকায় তথাকথিত 'অবরোধের' নামে যে তাণ্ডব চালানো হয়েছে, তা সাধারণ কোনো রাজনৈতিক প্রতিবাদ নয়, বরং নিরীহ পর্যটক এবং দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর এক সুপরিকল্পিত সশস্ত্র হামলা।

পার্বত্য অঞ্চলে দীর্ঘদিনের এলাকা ভিত্তিক আধিপত্য বিস্তার ও চাঁদাবাজির রুট দখলের লড়াইয়ে ইউপিডিএফ এবং সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জেএসএস (জনসংহতি সমিতি)-এর সশস্ত্র ক্যাডারদের সংঘাত নিত্যদিনের ঘটনা। মূলত সাজেক এলাকায় জেএসএস সন্ত্রাসীদের উপস্থিতির অজুহাত তুলে তাদের উচ্ছেদের দাবিতে ভূঁইফোড় সংগঠনের সাইনবোর্ডে সাজেক-বাঘাইহাট প্রধান সড়কে অবরোধের ডাক দেওয়া হয়। কিন্তু বাস্তবক্ষেত্রে দেখা যায়, পাহাড়ের অর্থনীতিকে ধসিয়ে দিতে এবং ভ্রমণরত শত শত নিরীহ পর্যটককে আতঙ্কের মুখে জিম্মি করাই ছিল তাদের মূল উদ্দেশ্য।

এই পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনী ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনী এলাকা ঘিরে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে অভিযান পরিচালনা করে সাজেকের আশপাশের দুর্গম পাহাড়ে অবস্থানরত সন্ত্রাসীদের বিতাড়িত করতে সক্ষম হয়। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এই সফলতা সত্ত্বেও ইউপিডিএফ তাদের কথিত অবরোধ অব্যাহত রাখে এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সাধারণ যানবাহন চলাচলে বাধার সৃষ্টি করে। তারা কাঠ ও গাছের গুঁড়ি ফেলে এবং টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি অচল করে দেয়।

বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ইউপিডিএফ সরাসরি নিজেদের দলীয় প্রাতিষ্ঠানিক ব্যানারে এসব নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে না। কৌশলগত কারণে এবং আইনি দায় এড়াতে তারা নিত্যনতুন মুখরোচক নামে বিভিন্ন সাময়িক সংগঠন গঠন করে সেগুলোর আড়ালে সহিংসতা পরিচালনা করছে। তবে এসব তথাকথিত ব্যানারের নেপথ্যে মূল নিয়ন্ত্রক হিসেবে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে সশস্ত্র সন্ত্রাসী সংগঠন ইউপিডিএফ এবং তার শীর্ষস্থানীয় সন্ত্রাসী কমান্ডাররা।

এই ভয়াবহ নাশকতার প্রধান অনুঘটক ও মাস্টারমাইন্ড হিসেবে কাজ করছেন ইউপিডিএফের শীর্ষ সশস্ত্র কমান্ডার বাবু ধন চাকমা। সে প্রকাশ্যে নিজেকে 'সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি'র আহ্বায়ক হিসেবে পরিচয় দিলেও বস্তুত সে ইউপিডিএফের স্ট্রাইকিং উইংয়ের প্রধান কমান্ডার হিসেবে পার্বত্য এলাকায় পরিচিত। সাম্প্রতিক শারদীয় দুর্গাপূজার পূর্ববর্তী সময় থেকে শুরু করে পরবর্তী পুরো সময়জুড়ে সাজেক এলাকায় রাষ্ট্রবিরোধী নাশকতা, সড়ক অবরোধ ও পর্যটকদের ওপর আতঙ্ক সৃষ্টির মূল দিকনির্দেশনা তার নিকট থেকেই এসেছে। 

কমান্ডার বাবু ধন চাকমা সাধারণ ও নিরীহ পাহাড়ি জনগণকে ভয়ভীতি দেখানোর পাশাপাশি জনপ্রতি ৫০০ টাকা করে আর্থিক প্রলোভন ও ভাতা দেওয়ার কথা বলে কথিত অবরোধ কর্মসূচিতে টেনে এনেছে। পর্যটকরা পার্বত্য অঞ্চলের স্থানীয় জটিলতার সাথে কোনোভাবেই সম্পৃক্ত না থাকা সত্ত্বেও তার সরাসরি আদেশে পর্যটকবাহী যানবাহনের ওপর গুলিবর্ষণ ও হামলা চালানো হয়েছে। অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো জীবনহানি বা প্রাণহানির ঘটনা ঘটলে তার দায় সম্পূর্ণভাবে এই সন্ত্রাসী কমান্ডারের ওপরই বর্তায়। 

এই ষড়যন্ত্রমূলক সহিংসতার দ্বিতীয় শীর্ষ মদদদাতা হলো নতুন জয় চাকমা, যে সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতির পদে সমাসীন। প্রথাগত সামাজিকভাবে কার্বারি পদটি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ হলেও, এই পদের অশুভ অপব্যবহার করে নতুন জয় চাকমা মূলত ছদ্মবেশে ইউপিডিএফের শীর্ষ সশস্ত্র সংগঠক হিসেবে সক্রিয় রয়েছে। সে নিজের সামাজিক ও প্রশাসনিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে দুর্গমন পাহাড়ি পল্লীর নিরীহ পরিবারগুলোকে বিভ্রান্ত করেছে। 

নতুন জয় চাকমার প্রত্যক্ষ প্ররোচনা ও সহযোগিতায় অসচ্ছল ও অসহায় পাহাড়ি নারী, শিশু ও অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরদের জোরপূর্বক বাড়িঘর থেকে তুলে এনে রাষ্ট্র ও দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রথাগত প্রধানদের রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির হাতিয়ার বানিয়ে সাধারণ পাহাড়িদের নিরাপত্তা বাহিনীর মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে বলির পাঠা বানানোর মাধ্যমে সে এক জঘন্য দেশদ্রোহী অপরাধে লিপ্ত হয়েছে। 

মাঠপর্যায়ে এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের চরম বহিপ্রকাশ ঘটানোর উদ্দেশ্যে রাতারাতি গড়ে তোলা ভূঁইফোড় সংগঠন 'ছাত্র জনতা সংগ্রাম পরিষদ'-এর কথিত সভাপতি উষাতন চাকমা এই ষড়যন্ত্রের তৃতীয় প্রধান নিয়ন্ত্রক। কোনো নির্দিষ্ট সামাজিক দায়বদ্ধতা বা ছাত্রকল্যাণ মূলক পটভূমি ছাড়াই হুট করে গজিয়ে ওঠা এই সংগঠনটি আসলে ইউপিডিএফের সশস্ত্র তাণ্ডবকে রাজনৈতিক ছদ্মবেশ দেওয়ার একটি কৌশলগত সাইনবোর্ড মাত্র। 

উষাতন চাকমা সাজেকের মতো আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত পর্যটন অঞ্চলে কৃত্রিম অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির লক্ষ্যে পাহাড়ি নারী, শিশু ও কিশোরদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে। সে পাহাড়ি তরুণের হাতে লগি-বৈঠা ও লাঠিসোটা তুলে দিয়ে সাজেক সড়কে সহিংস পিকেটিংয়ে অংশ নিতে বাধ্য করেছে। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এদের সামনে রেখে পেছনে মুখ ঢেকে স্লোগান দেওয়ানো ও চিত্রগ্রহণ করার পেছনে তাদের উদ্দেশ্য হলো আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর কাছে নিরাপত্তা বাহিনীর স্বাভাবিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষা কার্যক্রমকে বিতর্কিত হিসেবে উপস্থাপন করা। 

এই অশুভ নেটওয়ার্কের সবচেয়ে ভয়ংকর ও ছায়া নিয়ন্ত্রক হলো ইউপিডিএফের গোপন আন্ডারগ্রাউন্ড শীর্ষ সশস্ত্র কমান্ডার আদিবাবু (চাকমা)। আদিবাবু (চাকমা) নিজের আসল নাম ও চেহারা জনসমক্ষে সম্পূর্ণ গোপন রেখে দুর্গম পার্বত্য এলাকা ও সীমান্ত পারের সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে অস্ত্র সরবরাহ ও লজিস্টিক সহায়তার তদারকি করে থাকে। 

আদিবাবু (চাকমা)-এর প্রত্যক্ষ নির্দেশে সন্ত্রাসীরা অর্থ ও ক্ষমতার লোভ দেখিয়ে সাধারণ পাহাড়িদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে খেপিয়ে তুলছে। সাজেকগামী মূল সড়কে নিরাপত্তা বাহিনী ও নিরীহ পর্যটকদের বহর লক্ষ্য করে যে নির্বিচার গুলিবর্ষণ ও হামলা চালানো হয়েছিল, তার পেছনের স্ট্রাইকিং স্কোয়াড পুনর্গঠন ও সশস্ত্র পরিকল্পনার মূল রূপকার এই আদিবাবু (চাকমা)। 

দৈনিক 'আমার দেশ' সহ অন্যান্য দেশের শীর্ষস্থানীয় সংবাদ মাধ্যম ও টিভি চ্যানেলে প্রকাশিত তথ্য ও অনুসন্ধানী প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ইউপিডিএফের এই বহুমুখী সহিংস কর্মকাণ্ডের পেছনে সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় শত্রুভাবাপন্ন উদ্দেশ্য রয়েছে। তাদের প্রথম লক্ষ্য হলো পার্বত্য অঞ্চলের উদীয়মান অর্থনৈতিক খাত, বিশেষ করে বিশাল পর্যটন শিল্পকে স্তব্ধ করে দেওয়া, যাতে এই অঞ্চল অর্থনৈতিকভাবে পুরোপুরি কেন্দ্রবিচ্ছিন্ন ও নির্ভরশীল থাকে।

তাদের দ্বিতীয় কৌশল হলো বহুজাতিক ও আঞ্চলিক সম্প্রীতি নষ্ট করে পাহাড়ে একটি কৃত্রিম সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বা গৃহযুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি করা। সন্ত্রাসীরা নিজেরা পর্যটক ও টহলরত সেনাসদস্যদের ওপর নৃশংসভাবে হামলা চালিয়ে এবং গুলিবর্ষণ করে ৩০-৪০ রাউন্ড বুলেট বর্ষণ করে বহু সৈন্য ও পর্যটককে রক্তাক্ত করেছে। কিন্তু ঘটনা ঘটার পরপরই তারা বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে দাবি করতে থাকে যে, এটি নাকি সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে চালানো হামলা। তবে গণমাধ্যমের বাস্তব চিত্র ও প্রত্যক্ষদর্শী পর্যটকদের সাক্ষ্য তাদের এই মিথ্যা অপপ্রচার পুরো দেশের মানুষের কাছে প্রকাশ করে দিয়েছে।

গতকাল নিরাপত্তা বাহিনী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাজেকে আটকে পড়া তিন হাজারের বেশি পর্যটককে সেনা পাহারায় নিরাপদে সরিয়ে নিয়ে এলেও সন্ত্রাসীদের তাণ্ডব থামেনি। আজ আবার ইউপিডিএফ তাদের আন্ডারগ্রাউন্ড টিমের মাধ্যমে সেই তথাকথিত 'ছাত্র জনতা সংগ্রাম পরিষদ'-এর ব্যানারে নতুন করে বিক্ষোভের নামে সড়ক অবরোধ ও সশস্ত্র তাণ্ডব চালিয়ে যাওয়ার হুমকি প্রদান করেছে। তারা সরাসরি ঘোষণা দিয়েছে যে সাজেকগামী যেকোনো যানবাহন রাস্তায় পাওয়া গেলে তাতে হামলা করা হবে এবং আগুন জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হবে, যা দেশের আইনকানুন ও সার্বভৌমত্বের প্রতি প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ।

এ ধরনের সহিংস বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন এবং তাদের শীর্ষ সন্ত্রাসীরা কোনোভাবেই রাজনৈতিক আন্দোলনের অংশ হতে পারে না। যারা ভীতি প্রদর্শন, নিরীহ মানুষকে জিম্মি করা, শিশুদের মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করা এবং বিদেশি মদদে দেশকে দ্বিখণ্ডিত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত, তারা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য সরাসরি প্রকাশ্য হুমকি। ফলে এ ধরনের সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সাথে সরকারের কোনো প্রকার সমঝোতা বা টেবিলে আলোচনায় বসার অবকাশ নেই।

পাহাড়ের সমস্যার প্রকৃত ও স্থায়ী সমাধানের জন্য রাষ্ট্রকে দ্বিমুখী নীতি গ্রহণ করতে হবে। প্রথমত, শান্তিকামী, নিরস্ত্র ও নিরীহ উপজাতি জনগোষ্ঠীর সাথে খোলামেলা আলোচনা করে তাদের প্রকৃত নাগরিক অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। দ্বিতীয়ত, ইউপিডিএফের মতো সশস্ত্র জঙ্গি ও বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা (Zero Tolerance) নীতি গ্রহণ করে সর্বাত্মক সামরিক অভিযান চালিয়ে তাদের অবকাঠামো পুরোপুরি নির্মূল করতে হবে।

একই সাথে, অতীতে পার্বত্য চুক্তির পরবর্তী সময়ে যেসব সামরিক ও নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সেনাক্যাম্প প্রত্যাহার করা হয়েছিল, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক সংকট ও সীমান্ত নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে সাজেকসহ সমগ্র পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে সেসব সেনাক্যাম্প অবিলম্বে পুনঃস্থাপন করতে হবে। প্রয়োজনে কৌশলগত পয়েন্টগুলোতে নতুন সেনানিবাস স্থাপন করে কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা জরুরি।

সর্বোপরি, পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের পেছনে থাকা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মদদদাতা, অর্থের জোগানদার এবং অস্ত্র সরবরাহকারীদের বিরুদ্ধে জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে কঠোর কূটনৈতিক ও আইনি পদক্ষেপে যেতে হবে। তা না হলে দেশের স্বাধীনতা, ভৌগোলিক অখণ্ডতা এবং পাহাড়ি-বাঙালি সম্প্রীতি চরম ঝুঁকিতে পড়বে এবং সাজেক সহ পুরো পার্বত্য অঞ্চল অশান্তির দাবানলে পুড়ে শেষ হবে।

মিছবাহ উদ্দীন

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক লেখক ও সংগঠক

আপনার মতামত লিখুন

চ্যানেল সিএইচটি

সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬


সাজেকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ইউপিডিএফের পরিকল্পিত সহিংসতা: সন্ত্রাসীদের চিরতরে নির্মূলই অদ্বিতীয় সমাধান।

প্রকাশের তারিখ : ২৫ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

পার্বত্য চট্টগ্রামের নৈসর্গিক সৌন্দর্য ও জাতীয় অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির অন্যতম চাবিকাঠি সাজেক ভ্যালিকে কেন্দ্র করে সশস্ত্র সন্ত্রাসী সংগঠন ইউপিডিএফ (ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট) যে পরিকল্পিত অস্থিতিশীলতা ও রাষ্ট্রবিরোধী সশস্ত্র ষড়যন্ত্র সৃষ্টি করেছে, তা বর্তমানে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য এক চরম হুমকি হয়ে দেখা দিয়েছে। গতকাল রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নের উজো বাজার ও গঙ্গারাম বাজার এলাকায় তথাকথিত 'অবরোধের' নামে যে তাণ্ডব চালানো হয়েছে, তা সাধারণ কোনো রাজনৈতিক প্রতিবাদ নয়, বরং নিরীহ পর্যটক এবং দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর এক সুপরিকল্পিত সশস্ত্র হামলা।

পার্বত্য অঞ্চলে দীর্ঘদিনের এলাকা ভিত্তিক আধিপত্য বিস্তার ও চাঁদাবাজির রুট দখলের লড়াইয়ে ইউপিডিএফ এবং সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জেএসএস (জনসংহতি সমিতি)-এর সশস্ত্র ক্যাডারদের সংঘাত নিত্যদিনের ঘটনা। মূলত সাজেক এলাকায় জেএসএস সন্ত্রাসীদের উপস্থিতির অজুহাত তুলে তাদের উচ্ছেদের দাবিতে ভূঁইফোড় সংগঠনের সাইনবোর্ডে সাজেক-বাঘাইহাট প্রধান সড়কে অবরোধের ডাক দেওয়া হয়। কিন্তু বাস্তবক্ষেত্রে দেখা যায়, পাহাড়ের অর্থনীতিকে ধসিয়ে দিতে এবং ভ্রমণরত শত শত নিরীহ পর্যটককে আতঙ্কের মুখে জিম্মি করাই ছিল তাদের মূল উদ্দেশ্য।

এই পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনী ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনী এলাকা ঘিরে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে অভিযান পরিচালনা করে সাজেকের আশপাশের দুর্গম পাহাড়ে অবস্থানরত সন্ত্রাসীদের বিতাড়িত করতে সক্ষম হয়। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এই সফলতা সত্ত্বেও ইউপিডিএফ তাদের কথিত অবরোধ অব্যাহত রাখে এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সাধারণ যানবাহন চলাচলে বাধার সৃষ্টি করে। তারা কাঠ ও গাছের গুঁড়ি ফেলে এবং টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি অচল করে দেয়।

বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ইউপিডিএফ সরাসরি নিজেদের দলীয় প্রাতিষ্ঠানিক ব্যানারে এসব নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে না। কৌশলগত কারণে এবং আইনি দায় এড়াতে তারা নিত্যনতুন মুখরোচক নামে বিভিন্ন সাময়িক সংগঠন গঠন করে সেগুলোর আড়ালে সহিংসতা পরিচালনা করছে। তবে এসব তথাকথিত ব্যানারের নেপথ্যে মূল নিয়ন্ত্রক হিসেবে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে সশস্ত্র সন্ত্রাসী সংগঠন ইউপিডিএফ এবং তার শীর্ষস্থানীয় সন্ত্রাসী কমান্ডাররা।

এই ভয়াবহ নাশকতার প্রধান অনুঘটক ও মাস্টারমাইন্ড হিসেবে কাজ করছেন ইউপিডিএফের শীর্ষ সশস্ত্র কমান্ডার বাবু ধন চাকমা। সে প্রকাশ্যে নিজেকে 'সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি'র আহ্বায়ক হিসেবে পরিচয় দিলেও বস্তুত সে ইউপিডিএফের স্ট্রাইকিং উইংয়ের প্রধান কমান্ডার হিসেবে পার্বত্য এলাকায় পরিচিত। সাম্প্রতিক শারদীয় দুর্গাপূজার পূর্ববর্তী সময় থেকে শুরু করে পরবর্তী পুরো সময়জুড়ে সাজেক এলাকায় রাষ্ট্রবিরোধী নাশকতা, সড়ক অবরোধ ও পর্যটকদের ওপর আতঙ্ক সৃষ্টির মূল দিকনির্দেশনা তার নিকট থেকেই এসেছে। 

কমান্ডার বাবু ধন চাকমা সাধারণ ও নিরীহ পাহাড়ি জনগণকে ভয়ভীতি দেখানোর পাশাপাশি জনপ্রতি ৫০০ টাকা করে আর্থিক প্রলোভন ও ভাতা দেওয়ার কথা বলে কথিত অবরোধ কর্মসূচিতে টেনে এনেছে। পর্যটকরা পার্বত্য অঞ্চলের স্থানীয় জটিলতার সাথে কোনোভাবেই সম্পৃক্ত না থাকা সত্ত্বেও তার সরাসরি আদেশে পর্যটকবাহী যানবাহনের ওপর গুলিবর্ষণ ও হামলা চালানো হয়েছে। অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো জীবনহানি বা প্রাণহানির ঘটনা ঘটলে তার দায় সম্পূর্ণভাবে এই সন্ত্রাসী কমান্ডারের ওপরই বর্তায়। 

এই ষড়যন্ত্রমূলক সহিংসতার দ্বিতীয় শীর্ষ মদদদাতা হলো নতুন জয় চাকমা, যে সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতির পদে সমাসীন। প্রথাগত সামাজিকভাবে কার্বারি পদটি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ হলেও, এই পদের অশুভ অপব্যবহার করে নতুন জয় চাকমা মূলত ছদ্মবেশে ইউপিডিএফের শীর্ষ সশস্ত্র সংগঠক হিসেবে সক্রিয় রয়েছে। সে নিজের সামাজিক ও প্রশাসনিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে দুর্গমন পাহাড়ি পল্লীর নিরীহ পরিবারগুলোকে বিভ্রান্ত করেছে। 

নতুন জয় চাকমার প্রত্যক্ষ প্ররোচনা ও সহযোগিতায় অসচ্ছল ও অসহায় পাহাড়ি নারী, শিশু ও অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরদের জোরপূর্বক বাড়িঘর থেকে তুলে এনে রাষ্ট্র ও দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রথাগত প্রধানদের রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির হাতিয়ার বানিয়ে সাধারণ পাহাড়িদের নিরাপত্তা বাহিনীর মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে বলির পাঠা বানানোর মাধ্যমে সে এক জঘন্য দেশদ্রোহী অপরাধে লিপ্ত হয়েছে। 

মাঠপর্যায়ে এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের চরম বহিপ্রকাশ ঘটানোর উদ্দেশ্যে রাতারাতি গড়ে তোলা ভূঁইফোড় সংগঠন 'ছাত্র জনতা সংগ্রাম পরিষদ'-এর কথিত সভাপতি উষাতন চাকমা এই ষড়যন্ত্রের তৃতীয় প্রধান নিয়ন্ত্রক। কোনো নির্দিষ্ট সামাজিক দায়বদ্ধতা বা ছাত্রকল্যাণ মূলক পটভূমি ছাড়াই হুট করে গজিয়ে ওঠা এই সংগঠনটি আসলে ইউপিডিএফের সশস্ত্র তাণ্ডবকে রাজনৈতিক ছদ্মবেশ দেওয়ার একটি কৌশলগত সাইনবোর্ড মাত্র। 

উষাতন চাকমা সাজেকের মতো আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত পর্যটন অঞ্চলে কৃত্রিম অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির লক্ষ্যে পাহাড়ি নারী, শিশু ও কিশোরদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে। সে পাহাড়ি তরুণের হাতে লগি-বৈঠা ও লাঠিসোটা তুলে দিয়ে সাজেক সড়কে সহিংস পিকেটিংয়ে অংশ নিতে বাধ্য করেছে। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এদের সামনে রেখে পেছনে মুখ ঢেকে স্লোগান দেওয়ানো ও চিত্রগ্রহণ করার পেছনে তাদের উদ্দেশ্য হলো আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর কাছে নিরাপত্তা বাহিনীর স্বাভাবিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষা কার্যক্রমকে বিতর্কিত হিসেবে উপস্থাপন করা। 

এই অশুভ নেটওয়ার্কের সবচেয়ে ভয়ংকর ও ছায়া নিয়ন্ত্রক হলো ইউপিডিএফের গোপন আন্ডারগ্রাউন্ড শীর্ষ সশস্ত্র কমান্ডার আদিবাবু (চাকমা)। আদিবাবু (চাকমা) নিজের আসল নাম ও চেহারা জনসমক্ষে সম্পূর্ণ গোপন রেখে দুর্গম পার্বত্য এলাকা ও সীমান্ত পারের সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে অস্ত্র সরবরাহ ও লজিস্টিক সহায়তার তদারকি করে থাকে। 

আদিবাবু (চাকমা)-এর প্রত্যক্ষ নির্দেশে সন্ত্রাসীরা অর্থ ও ক্ষমতার লোভ দেখিয়ে সাধারণ পাহাড়িদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে খেপিয়ে তুলছে। সাজেকগামী মূল সড়কে নিরাপত্তা বাহিনী ও নিরীহ পর্যটকদের বহর লক্ষ্য করে যে নির্বিচার গুলিবর্ষণ ও হামলা চালানো হয়েছিল, তার পেছনের স্ট্রাইকিং স্কোয়াড পুনর্গঠন ও সশস্ত্র পরিকল্পনার মূল রূপকার এই আদিবাবু (চাকমা)। 

দৈনিক 'আমার দেশ' সহ অন্যান্য দেশের শীর্ষস্থানীয় সংবাদ মাধ্যম ও টিভি চ্যানেলে প্রকাশিত তথ্য ও অনুসন্ধানী প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ইউপিডিএফের এই বহুমুখী সহিংস কর্মকাণ্ডের পেছনে সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় শত্রুভাবাপন্ন উদ্দেশ্য রয়েছে। তাদের প্রথম লক্ষ্য হলো পার্বত্য অঞ্চলের উদীয়মান অর্থনৈতিক খাত, বিশেষ করে বিশাল পর্যটন শিল্পকে স্তব্ধ করে দেওয়া, যাতে এই অঞ্চল অর্থনৈতিকভাবে পুরোপুরি কেন্দ্রবিচ্ছিন্ন ও নির্ভরশীল থাকে।

তাদের দ্বিতীয় কৌশল হলো বহুজাতিক ও আঞ্চলিক সম্প্রীতি নষ্ট করে পাহাড়ে একটি কৃত্রিম সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বা গৃহযুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি করা। সন্ত্রাসীরা নিজেরা পর্যটক ও টহলরত সেনাসদস্যদের ওপর নৃশংসভাবে হামলা চালিয়ে এবং গুলিবর্ষণ করে ৩০-৪০ রাউন্ড বুলেট বর্ষণ করে বহু সৈন্য ও পর্যটককে রক্তাক্ত করেছে। কিন্তু ঘটনা ঘটার পরপরই তারা বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে দাবি করতে থাকে যে, এটি নাকি সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে চালানো হামলা। তবে গণমাধ্যমের বাস্তব চিত্র ও প্রত্যক্ষদর্শী পর্যটকদের সাক্ষ্য তাদের এই মিথ্যা অপপ্রচার পুরো দেশের মানুষের কাছে প্রকাশ করে দিয়েছে।

গতকাল নিরাপত্তা বাহিনী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাজেকে আটকে পড়া তিন হাজারের বেশি পর্যটককে সেনা পাহারায় নিরাপদে সরিয়ে নিয়ে এলেও সন্ত্রাসীদের তাণ্ডব থামেনি। আজ আবার ইউপিডিএফ তাদের আন্ডারগ্রাউন্ড টিমের মাধ্যমে সেই তথাকথিত 'ছাত্র জনতা সংগ্রাম পরিষদ'-এর ব্যানারে নতুন করে বিক্ষোভের নামে সড়ক অবরোধ ও সশস্ত্র তাণ্ডব চালিয়ে যাওয়ার হুমকি প্রদান করেছে। তারা সরাসরি ঘোষণা দিয়েছে যে সাজেকগামী যেকোনো যানবাহন রাস্তায় পাওয়া গেলে তাতে হামলা করা হবে এবং আগুন জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হবে, যা দেশের আইনকানুন ও সার্বভৌমত্বের প্রতি প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ।

এ ধরনের সহিংস বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন এবং তাদের শীর্ষ সন্ত্রাসীরা কোনোভাবেই রাজনৈতিক আন্দোলনের অংশ হতে পারে না। যারা ভীতি প্রদর্শন, নিরীহ মানুষকে জিম্মি করা, শিশুদের মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করা এবং বিদেশি মদদে দেশকে দ্বিখণ্ডিত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত, তারা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য সরাসরি প্রকাশ্য হুমকি। ফলে এ ধরনের সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সাথে সরকারের কোনো প্রকার সমঝোতা বা টেবিলে আলোচনায় বসার অবকাশ নেই।

পাহাড়ের সমস্যার প্রকৃত ও স্থায়ী সমাধানের জন্য রাষ্ট্রকে দ্বিমুখী নীতি গ্রহণ করতে হবে। প্রথমত, শান্তিকামী, নিরস্ত্র ও নিরীহ উপজাতি জনগোষ্ঠীর সাথে খোলামেলা আলোচনা করে তাদের প্রকৃত নাগরিক অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। দ্বিতীয়ত, ইউপিডিএফের মতো সশস্ত্র জঙ্গি ও বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা (Zero Tolerance) নীতি গ্রহণ করে সর্বাত্মক সামরিক অভিযান চালিয়ে তাদের অবকাঠামো পুরোপুরি নির্মূল করতে হবে।

একই সাথে, অতীতে পার্বত্য চুক্তির পরবর্তী সময়ে যেসব সামরিক ও নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সেনাক্যাম্প প্রত্যাহার করা হয়েছিল, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক সংকট ও সীমান্ত নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে সাজেকসহ সমগ্র পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে সেসব সেনাক্যাম্প অবিলম্বে পুনঃস্থাপন করতে হবে। প্রয়োজনে কৌশলগত পয়েন্টগুলোতে নতুন সেনানিবাস স্থাপন করে কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা জরুরি।

সর্বোপরি, পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের পেছনে থাকা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মদদদাতা, অর্থের জোগানদার এবং অস্ত্র সরবরাহকারীদের বিরুদ্ধে জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে কঠোর কূটনৈতিক ও আইনি পদক্ষেপে যেতে হবে। তা না হলে দেশের স্বাধীনতা, ভৌগোলিক অখণ্ডতা এবং পাহাড়ি-বাঙালি সম্প্রীতি চরম ঝুঁকিতে পড়বে এবং সাজেক সহ পুরো পার্বত্য অঞ্চল অশান্তির দাবানলে পুড়ে শেষ হবে।

মিছবাহ উদ্দীন

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক লেখক ও সংগঠক


চ্যানেল সিএইচটি

সম্পাদক : এইচ এ আব্দুর রউফ, উপদেষ্টা : কামাল পারভেজ
কপিরাইট © ২০২৬ চ্যানেল সিএইচটি । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত