শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
১৩ জুন, ২০২৬ ঢাকা
চ্যানেল সিএইচটি

কল্পনা চাকমা রহস্য: অপহরণ নাকি সুপরিকল্পিত অন্তর্ধানের গল্প..?



কল্পনা চাকমা রহস্য: অপহরণ নাকি সুপরিকল্পিত অন্তর্ধানের গল্প..?

পার্বত্য চট্টগ্রামের ইতিহাসে সবচেয়ে আলোচিত এবং রাজনৈতিকভাবে ব্যবহৃত একটি নাম ‘কল্পনা চাকমা’। ১৯৯৬ সালের ১১ জুন মধ্যরাতে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার লাইল্যাঘোনা গ্রাম থেকে হিল উইমেন ফেডারেশনের তৎকালীন সাংগঠনিক সম্পাদিকা কল্পনা চাকমা নিখোঁজ হন। দীর্ঘ তিন দশক ধরে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং রাষ্ট্রীয় সংস্থাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর একটি একমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। তবে ঘটনার সমসাময়িক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠনগুলোর অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং পরবর্তী সময়ের তদন্তের তথ্যাদি বিশ্লেষণ করলে এই নিখোঁজ বা তথাকথিত অপহরণের পেছনে এক ভিন্ন সত্য উন্মোচিত হয়। পার্বত্য অঞ্চলের বাস্তবতায় এটি স্পষ্ট যে, কল্পনা চাকমার ঘটনাটি যতটা না মানবাধিকারের, তার চেয়ে অনেক বেশি ছিল তৎকালীন আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতি ও উপদলীয় কোন্দলের হাতিয়ার।

১৯৯৬ সালের জুনে অনুষ্ঠিত সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তৎকালীন পার্বত্য জেলা রাঙামাটিতে এক চরম রাজনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করছিল। শান্তিবাহিনীর প্রকাশ্য রাজনৈতিক উইং ‘পাহাড়ী গণপরিষদ’ (পিজিপি) তাদের কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য বিজয় কেতন চাকমাকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দাঁড় করায়। অপরদিকে, আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে শক্ত অবস্থানে ছিলেন দীপংকর তালুকদার, যাকে তৎকালীন সাধারণ পাহাড়ি এবং বাঙালি জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ সমর্থন জানিয়েছিল। নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে শান্তিবাহিনী ও তাদের সহযোগী সংগঠনগুলো (পিসিপি, পিজিপি, এইচডব্লিউএফ) সাধারণ ভোটার ও প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক কর্মীদের ওপর চরম দমনপীড়ন শুরু করে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সেই নির্বাচনের আগে ও পরে পার্বত্য অঞ্চল থেকে প্রায় ৩৫ জন আওয়ামী লীগ সমর্থককে অপহরণ ও হয়রানি করা হয়।

কল্পনা চাকমা হিল উইমেন ফেডারেশনের নেত্রী হওয়া সত্ত্বেও তৎকালীন সময়ে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পক্ষে গোপনে বা প্রকাশ্যে প্রচারণায় অংশ নিচ্ছিলেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়। শান্তিবাহিনীর কট্টর লাইনের বাইরে গিয়ে ভিন্ন রাজনৈতিক মেরুকরণে অংশ নেওয়াটা তাদের নিজস্ব কোন্দলকে উস্কে দিয়েছিল। ফলশ্রুতিতে, তাকে এই প্রচারণা থেকে বিরত থাকার জন্য তৎকালীন পাহাড়ি সন্ত্রাসীরা একাধিকবার হুমকিও প্রদান করে। ফলে কল্পনা চাকমার নিখোঁজ হওয়ার পেছনে এই অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও প্রতিশোধপরায়ণতার তত্ত্বটি সবচেয়ে জোরালো ভিত্তি পায়।

কল্পনা চাকমা অপহরণ নাটকের ঠিক দুই মাস পর, ১৯৯৬ সালের ৮ আগস্ট বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন একটি চাঞ্চল্যকর সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে। ৯ আগস্ট ১৯৯৬ তারিখে তৎকালীন শীর্ষস্থানীয় তিনটি প্রধান সারির পত্রিকায় এই সংবাদটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে লিড নিউজ হিসেবে প্রকাশিত হয়। 

দৈনিক পূর্বকোণের ঢাকা ব্যুরো প্রেরিত এই প্রতিবেদনে বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের সংবাদ সম্মেলনকে সরাসরি উদ্ধৃত করা হয়েছে। কমিশনের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন অ্যাডভোকেট কে এম হক কায়সার। এই প্রতিবেদনে কল্পনা চাকমার নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাটিকে একটি ‘পূর্বপরিকল্পিত এবং সাজানো নাটক’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এতে কল্পনা চাকমার সুনির্দিষ্ট ভৌগোলিক অবস্থান উল্লেখ করা হয়েছে। কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, কল্পনা চাকমা সীমান্ত পার হয়ে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের গণ্ডাছড়া মহকুমার ‘গন্ড্রে’ (গণ্ডাছড়া) নামক স্থানে অবস্থান করছিলেন। এই সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহসহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

"কল্পনা চাকমা ভারতের ত্রিপুরায়" এমনই হেডলাইনে নিউজ ছাপায় দৈনিক আজাদী। প্রতিবেদনটি এই ঘটনার প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি দায়মুক্তির দিকটিকে সবচেয়ে বেশি ফোকাস করেছিল। মানবাধিকার কমিশনের অনৈর্বেত্তিক ও নিরপেক্ষ অনুসন্ধানের বরাত দিয়ে এতে স্পষ্ট বলা হয় এই তথাকথিত অপহরণের সাথে বাংলাদেশের কোনো সামরিক বা নিরাপত্তা বাহিনী জড়িত নয়। প্রতিবেদনে স্থানীয় প্রতিবেশী এবং কল্পনা চাকমার মায়ের পূর্ববর্তী কিছু বক্তব্যের অসঙ্গতি তুলে ধরা হয়। ঘটনার রাতে প্রতিবেশীরা কোনো ধস্তাধস্তি বা গুলির শব্দ শোনেননি বলে আজাদীর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, যা প্রমাণ করে যে বলপ্রয়োগের মাধ্যমে তাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার যে দাবি করা হয়েছিল, তার কোনো বাস্তব ভিত্তি ছিল না।

"মায়ের স্বীকারোক্তিঃ কল্পনা চাকমা এখন ত্রিপুরায়” এই হেডলাইনে অনুসন্ধানি প্রতিবেদন ছাপায় 'দৈনিক মিল্লাত'। দৈনিক মিল্লাতের প্রতিবেদনটি এই ঘটনার সবচেয়ে অকাট্য এবং মনস্তাত্ত্বিক প্রমাণটি সামনে নিয়ে এসেছে, যা হলো ‘পারিবারিক যোগাযোগ’। প্রতিবেদনটিতে প্রকাশ করা হয় যে, কল্পনা চাকমার মা (বা পরিবারের সদস্যরা) মানবাধিকার কমিশনের নিকট স্বীকার করেছেন যে,নিখোঁজ বা তথাকথিত অপহরণের নাটকের বেশ কিছুদিন পর, বিশেষ করে ৩ আগস্ট ১৯৯৬ তারিখেও কল্পনা চাকমা তাঁর পরিবারের সাথে গোপন সূত্রে যোগাযোগ করেছিলেন। এই যোগাযোগের মাধ্যমেই পরিবার সম্পূর্ণ নিশ্চিত হয় যে তিনি জীবিত ও সুস্থ আছেন এবং ভারতের ত্রিপুরায় অবস্থান করছেন।

তিনটি পত্রিকাই একযোগে নিশ্চিত করেছে যে এটি কোনো জোরপূর্বক গুমের ঘটনা ছিল না, বরং রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য এটি ছিল একটি ‘পূর্বপরিকল্পিত’ আত্মগোপন। প্রতিটি পত্রিকাতেই কোনো প্রকার দ্বিধা ছাড়াই সুনির্দিষ্টভাবে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের গণ্ডাছড়া এলাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তৎকালীন সময়ে আঞ্চলিক সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে যে 'ভিকটিম কার্ড' খেলার চেষ্টা করেছিল, মানবাধিকার কমিশনের এই মাঠপর্যায়ের তদন্ত ও সংবাদ সম্মেলন তা সম্পূর্ণরূপে নস্যাৎ করে দেয়

পার্বত্য অঞ্চলে অপহরণের দীর্ঘ ইতিহাস আছে। কল্পনা চাকমার নিখোঁজ হওয়াকে একক ঘটনা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হলেও, পার্বত্য চট্টগ্রামের ইতিহাসে অপহরণ এবং গুমের সংস্কৃতি মূলত পাহাড়ি সশস্ত্র সংগঠনগুলোর একটি নিয়মিত রণকৌশল। সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ১৯৭৬ সাল থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত পাহাড়ে বাঙালি ও পাহাড়ি মিলিয়ে মোট ২,৩৮৯ জন মানুষ অপহৃত ও গুম হয়েছেন। ১৯৯৭ সালের ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তির পরবর্তী দুই দশকেও এই ধারা অব্যাহত থাকে, যার শিকার হন আরও প্রায় দেড় হাজার মানুষ।

এখন পর্যন্ত পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রায় চার হাজার মানুষ অপহরণের শিকার হয়েছেন এবং এই ঘটনার প্রায় শতভাগেরই নেপথ্যে ছিল পাহাড়ি সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো। ১৯৯৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে খাগড়াছড়ির পোছেড়া গ্রামের বিভা বসু চাকমার পুত্র কালোমানি চাকমাকে পিসিপি কর্মীরা ধরে নিয়ে হত্যা করে। একই বছরের ডিসেম্বরে পানছড়ি থেকে ধীমান দেওয়ানের মা শেফালীকা দেওয়ান ও মামা নবকুমার দেওয়ানকে অপহরণ করা হয়। এমনকি শান্তিবাহিনীর নিজস্ব জোনাল কমান্ডারদের সিদ্ধান্তের বাইরে কথা বলায় ‘সন্ত্রাস প্রতিরোধ কমিটি’র সক্রিয় কর্মী সুকুমার চাকমা, রুইথুই মারমা এবং বোধিমিত্র চাকমাকেও অপহরণ করা হয়েছিল।

স্বয়ং সন্তু লারমা ১৯৯৮ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি খাগড়াছড়ি স্টেডিয়ামে অস্ত্র সমর্পণের পর সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে কল্পনা অপহরণ এবং লোগাঙ গণহত্যার বিষয়গুলোকে ‘বিতর্কিত ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত বিষয়’ বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। এতেই প্রমাণিত হয় যে, এই নিখোঁজের ঘটনাটি রাজনৈতিক ফায়দা লুটার একটি কৌশল মাত্র ছিল।

যেকোনো অপহরণের ঘটনায় ভুক্তভোগীর ঘরবাড়ি বা ঘটনাস্থলে ধস্তাধস্তি বা ব্যবহারের জিনিসপত্র ফেলে যাওয়ার প্রমাণ থাকে। কিন্তু ঘটনার পর তদন্তকারী দল যখন কল্পনা চাকমার বাড়িতে যায়, তখন তার ঘরের কোনো আসবাবপত্র বা ব্যবহার্য জিনিসপত্রের কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা বিশৃঙ্খলা দেখতে পায়নি। এমনকি তার ব্যক্তিগত ব্যবহারের বেশ কিছু প্রয়োজনীয় সামগ্রীও ঘরে ছিল না। এটি ইঙ্গিত করে যে, ঘটনাটি আকস্মিক কোনো বলপ্রয়োগের মাধ্যমে ঘটেনি, বরং পূর্বপরিকল্পিতভাবে স্থানান্তরের অংশ ছিল।

সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে পরবর্তী সময়ে গঠিত তদন্ত কমিটির অনুসন্ধানে। তদন্তের এক পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও তদন্ত কমিটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানতে পারে যে, কল্পনা চাকমা সীমান্ত পার হয়ে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে অবস্থান করছেন। তৎকালীন তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাকে দেশে ফিরে আসার এবং নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিয়ে চিঠি পাঠানো হলে, তিনি ফিরতি চিঠিতে দেশে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। তবে একই সাথে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, তিনি যদি বাংলাদেশে ফিরে আসেন তবে শান্তিবাহিনী তাকে রাষ্ট্রীয় বাহিনীর ওপর দোষ চাপানোর এই সাজানো নাটক ফাঁস করার অপরাধে হত্যা করবে। এই জীবননাশের ভয় থেকেই তিনি আর কখনো প্রকাশ্যে বাংলাদেশে ফিরে আসেননি।

সার্বিক তথ্য-উপাত্ত এবং পারিপার্শ্বিক অবস্থা পর্যালোচনা করলে কল্পনা চাকমার নিখোঁজ রহস্যের পেছনে দুটি প্রধান কারণ দৃশ্যমান হয়: প্রথমত, এটি ছিল সম্পূর্ণ একটি ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সংকটের বহিঃপ্রকাশ। তৎকালীন সময়ে তার একটি ব্যক্তিগত প্রেমের সম্পর্ককে তার পরিবার ও সমাজ মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানায়, যা তাকে পারিবারিক গণ্ডি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করে।

দ্বিতীয়ত, শান্তিবাহিনী এবং তার অঙ্গ সংগঠনগুলোর তীব্র রাজনৈতিক চাপ ও কৌশল। তারা কল্পনা চাকমার এই ব্যক্তিগত নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাটিকে তৎকালীন নির্বাচনের বৈতরণী পার হতে এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি আন্তর্জাতিক মহলে ক্ষুণ্ন করতে ‘রাষ্ট্রীয় অপহরণ’ হিসেবে চালিয়ে দেয়। বর্তমানে কল্পনা চাকমার ফিরে না আসার প্রধান কারণ হলো, তিনি প্রকাশ্যে এলে শান্তিবাহিনীর তিন দশকের সাজানো মিথ্যা প্রোপাগান্ডা এবং বানোয়াট রাজনৈতিক ন্যারেটিভ সম্পূর্ণরূপে ধূলিসাৎ হয়ে যাবে।

পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূ-রাজনীতিতে ‘ভিকটিম কার্ড’ খেলার যে দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে, কল্পনা চাকমার ঘটনাটি তার অন্যতম শ্রেষ্ঠ উদাহরণ। বিভিন্ন সূত্র এবং নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রমাণ করে যে, কল্পনা চাকমা অপহৃত হননি, বরং রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত কারণে তিনি নিজেই আত্মগোপন করেছিলেন এবং বর্তমানেও তিনি সুস্থ অবস্থায় জীবনযাপন করছেন। তিন দশক ধরে চলা এই মিথ্যা প্রচারণাকে অন্ধভাবে বিশ্বাস না করে, ঘটনার পেছনের আঞ্চলিক সন্ত্রাসবাদ ও উপদলীয় হিংস্রতার সত্যকে উন্মোচন করাই এখন সময়ের দাবি।

আপনার মতামত লিখুন

চ্যানেল সিএইচটি

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬


কল্পনা চাকমা রহস্য: অপহরণ নাকি সুপরিকল্পিত অন্তর্ধানের গল্প..?

প্রকাশের তারিখ : ১১ জুন ২০২৬

featured Image

পার্বত্য চট্টগ্রামের ইতিহাসে সবচেয়ে আলোচিত এবং রাজনৈতিকভাবে ব্যবহৃত একটি নাম ‘কল্পনা চাকমা’। ১৯৯৬ সালের ১১ জুন মধ্যরাতে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার লাইল্যাঘোনা গ্রাম থেকে হিল উইমেন ফেডারেশনের তৎকালীন সাংগঠনিক সম্পাদিকা কল্পনা চাকমা নিখোঁজ হন। দীর্ঘ তিন দশক ধরে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং রাষ্ট্রীয় সংস্থাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর একটি একমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। তবে ঘটনার সমসাময়িক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠনগুলোর অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং পরবর্তী সময়ের তদন্তের তথ্যাদি বিশ্লেষণ করলে এই নিখোঁজ বা তথাকথিত অপহরণের পেছনে এক ভিন্ন সত্য উন্মোচিত হয়। পার্বত্য অঞ্চলের বাস্তবতায় এটি স্পষ্ট যে, কল্পনা চাকমার ঘটনাটি যতটা না মানবাধিকারের, তার চেয়ে অনেক বেশি ছিল তৎকালীন আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতি ও উপদলীয় কোন্দলের হাতিয়ার।

১৯৯৬ সালের জুনে অনুষ্ঠিত সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তৎকালীন পার্বত্য জেলা রাঙামাটিতে এক চরম রাজনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করছিল। শান্তিবাহিনীর প্রকাশ্য রাজনৈতিক উইং ‘পাহাড়ী গণপরিষদ’ (পিজিপি) তাদের কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য বিজয় কেতন চাকমাকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দাঁড় করায়। অপরদিকে, আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে শক্ত অবস্থানে ছিলেন দীপংকর তালুকদার, যাকে তৎকালীন সাধারণ পাহাড়ি এবং বাঙালি জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ সমর্থন জানিয়েছিল। নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে শান্তিবাহিনী ও তাদের সহযোগী সংগঠনগুলো (পিসিপি, পিজিপি, এইচডব্লিউএফ) সাধারণ ভোটার ও প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক কর্মীদের ওপর চরম দমনপীড়ন শুরু করে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সেই নির্বাচনের আগে ও পরে পার্বত্য অঞ্চল থেকে প্রায় ৩৫ জন আওয়ামী লীগ সমর্থককে অপহরণ ও হয়রানি করা হয়।

কল্পনা চাকমা হিল উইমেন ফেডারেশনের নেত্রী হওয়া সত্ত্বেও তৎকালীন সময়ে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পক্ষে গোপনে বা প্রকাশ্যে প্রচারণায় অংশ নিচ্ছিলেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়। শান্তিবাহিনীর কট্টর লাইনের বাইরে গিয়ে ভিন্ন রাজনৈতিক মেরুকরণে অংশ নেওয়াটা তাদের নিজস্ব কোন্দলকে উস্কে দিয়েছিল। ফলশ্রুতিতে, তাকে এই প্রচারণা থেকে বিরত থাকার জন্য তৎকালীন পাহাড়ি সন্ত্রাসীরা একাধিকবার হুমকিও প্রদান করে। ফলে কল্পনা চাকমার নিখোঁজ হওয়ার পেছনে এই অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও প্রতিশোধপরায়ণতার তত্ত্বটি সবচেয়ে জোরালো ভিত্তি পায়।

কল্পনা চাকমা অপহরণ নাটকের ঠিক দুই মাস পর, ১৯৯৬ সালের ৮ আগস্ট বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন একটি চাঞ্চল্যকর সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে। ৯ আগস্ট ১৯৯৬ তারিখে তৎকালীন শীর্ষস্থানীয় তিনটি প্রধান সারির পত্রিকায় এই সংবাদটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে লিড নিউজ হিসেবে প্রকাশিত হয়। 

দৈনিক পূর্বকোণের ঢাকা ব্যুরো প্রেরিত এই প্রতিবেদনে বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের সংবাদ সম্মেলনকে সরাসরি উদ্ধৃত করা হয়েছে। কমিশনের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন অ্যাডভোকেট কে এম হক কায়সার। এই প্রতিবেদনে কল্পনা চাকমার নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাটিকে একটি ‘পূর্বপরিকল্পিত এবং সাজানো নাটক’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এতে কল্পনা চাকমার সুনির্দিষ্ট ভৌগোলিক অবস্থান উল্লেখ করা হয়েছে। কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, কল্পনা চাকমা সীমান্ত পার হয়ে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের গণ্ডাছড়া মহকুমার ‘গন্ড্রে’ (গণ্ডাছড়া) নামক স্থানে অবস্থান করছিলেন। এই সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহসহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

"কল্পনা চাকমা ভারতের ত্রিপুরায়" এমনই হেডলাইনে নিউজ ছাপায় দৈনিক আজাদী। প্রতিবেদনটি এই ঘটনার প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি দায়মুক্তির দিকটিকে সবচেয়ে বেশি ফোকাস করেছিল। মানবাধিকার কমিশনের অনৈর্বেত্তিক ও নিরপেক্ষ অনুসন্ধানের বরাত দিয়ে এতে স্পষ্ট বলা হয় এই তথাকথিত অপহরণের সাথে বাংলাদেশের কোনো সামরিক বা নিরাপত্তা বাহিনী জড়িত নয়। প্রতিবেদনে স্থানীয় প্রতিবেশী এবং কল্পনা চাকমার মায়ের পূর্ববর্তী কিছু বক্তব্যের অসঙ্গতি তুলে ধরা হয়। ঘটনার রাতে প্রতিবেশীরা কোনো ধস্তাধস্তি বা গুলির শব্দ শোনেননি বলে আজাদীর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, যা প্রমাণ করে যে বলপ্রয়োগের মাধ্যমে তাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার যে দাবি করা হয়েছিল, তার কোনো বাস্তব ভিত্তি ছিল না।

"মায়ের স্বীকারোক্তিঃ কল্পনা চাকমা এখন ত্রিপুরায়” এই হেডলাইনে অনুসন্ধানি প্রতিবেদন ছাপায় 'দৈনিক মিল্লাত'। দৈনিক মিল্লাতের প্রতিবেদনটি এই ঘটনার সবচেয়ে অকাট্য এবং মনস্তাত্ত্বিক প্রমাণটি সামনে নিয়ে এসেছে, যা হলো ‘পারিবারিক যোগাযোগ’। প্রতিবেদনটিতে প্রকাশ করা হয় যে, কল্পনা চাকমার মা (বা পরিবারের সদস্যরা) মানবাধিকার কমিশনের নিকট স্বীকার করেছেন যে,নিখোঁজ বা তথাকথিত অপহরণের নাটকের বেশ কিছুদিন পর, বিশেষ করে ৩ আগস্ট ১৯৯৬ তারিখেও কল্পনা চাকমা তাঁর পরিবারের সাথে গোপন সূত্রে যোগাযোগ করেছিলেন। এই যোগাযোগের মাধ্যমেই পরিবার সম্পূর্ণ নিশ্চিত হয় যে তিনি জীবিত ও সুস্থ আছেন এবং ভারতের ত্রিপুরায় অবস্থান করছেন।

তিনটি পত্রিকাই একযোগে নিশ্চিত করেছে যে এটি কোনো জোরপূর্বক গুমের ঘটনা ছিল না, বরং রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য এটি ছিল একটি ‘পূর্বপরিকল্পিত’ আত্মগোপন। প্রতিটি পত্রিকাতেই কোনো প্রকার দ্বিধা ছাড়াই সুনির্দিষ্টভাবে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের গণ্ডাছড়া এলাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তৎকালীন সময়ে আঞ্চলিক সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে যে 'ভিকটিম কার্ড' খেলার চেষ্টা করেছিল, মানবাধিকার কমিশনের এই মাঠপর্যায়ের তদন্ত ও সংবাদ সম্মেলন তা সম্পূর্ণরূপে নস্যাৎ করে দেয়

পার্বত্য অঞ্চলে অপহরণের দীর্ঘ ইতিহাস আছে। কল্পনা চাকমার নিখোঁজ হওয়াকে একক ঘটনা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হলেও, পার্বত্য চট্টগ্রামের ইতিহাসে অপহরণ এবং গুমের সংস্কৃতি মূলত পাহাড়ি সশস্ত্র সংগঠনগুলোর একটি নিয়মিত রণকৌশল। সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ১৯৭৬ সাল থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত পাহাড়ে বাঙালি ও পাহাড়ি মিলিয়ে মোট ২,৩৮৯ জন মানুষ অপহৃত ও গুম হয়েছেন। ১৯৯৭ সালের ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তির পরবর্তী দুই দশকেও এই ধারা অব্যাহত থাকে, যার শিকার হন আরও প্রায় দেড় হাজার মানুষ।

এখন পর্যন্ত পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রায় চার হাজার মানুষ অপহরণের শিকার হয়েছেন এবং এই ঘটনার প্রায় শতভাগেরই নেপথ্যে ছিল পাহাড়ি সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো। ১৯৯৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে খাগড়াছড়ির পোছেড়া গ্রামের বিভা বসু চাকমার পুত্র কালোমানি চাকমাকে পিসিপি কর্মীরা ধরে নিয়ে হত্যা করে। একই বছরের ডিসেম্বরে পানছড়ি থেকে ধীমান দেওয়ানের মা শেফালীকা দেওয়ান ও মামা নবকুমার দেওয়ানকে অপহরণ করা হয়। এমনকি শান্তিবাহিনীর নিজস্ব জোনাল কমান্ডারদের সিদ্ধান্তের বাইরে কথা বলায় ‘সন্ত্রাস প্রতিরোধ কমিটি’র সক্রিয় কর্মী সুকুমার চাকমা, রুইথুই মারমা এবং বোধিমিত্র চাকমাকেও অপহরণ করা হয়েছিল।

স্বয়ং সন্তু লারমা ১৯৯৮ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি খাগড়াছড়ি স্টেডিয়ামে অস্ত্র সমর্পণের পর সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে কল্পনা অপহরণ এবং লোগাঙ গণহত্যার বিষয়গুলোকে ‘বিতর্কিত ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত বিষয়’ বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। এতেই প্রমাণিত হয় যে, এই নিখোঁজের ঘটনাটি রাজনৈতিক ফায়দা লুটার একটি কৌশল মাত্র ছিল।

যেকোনো অপহরণের ঘটনায় ভুক্তভোগীর ঘরবাড়ি বা ঘটনাস্থলে ধস্তাধস্তি বা ব্যবহারের জিনিসপত্র ফেলে যাওয়ার প্রমাণ থাকে। কিন্তু ঘটনার পর তদন্তকারী দল যখন কল্পনা চাকমার বাড়িতে যায়, তখন তার ঘরের কোনো আসবাবপত্র বা ব্যবহার্য জিনিসপত্রের কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা বিশৃঙ্খলা দেখতে পায়নি। এমনকি তার ব্যক্তিগত ব্যবহারের বেশ কিছু প্রয়োজনীয় সামগ্রীও ঘরে ছিল না। এটি ইঙ্গিত করে যে, ঘটনাটি আকস্মিক কোনো বলপ্রয়োগের মাধ্যমে ঘটেনি, বরং পূর্বপরিকল্পিতভাবে স্থানান্তরের অংশ ছিল।

সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে পরবর্তী সময়ে গঠিত তদন্ত কমিটির অনুসন্ধানে। তদন্তের এক পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও তদন্ত কমিটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানতে পারে যে, কল্পনা চাকমা সীমান্ত পার হয়ে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে অবস্থান করছেন। তৎকালীন তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাকে দেশে ফিরে আসার এবং নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিয়ে চিঠি পাঠানো হলে, তিনি ফিরতি চিঠিতে দেশে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। তবে একই সাথে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, তিনি যদি বাংলাদেশে ফিরে আসেন তবে শান্তিবাহিনী তাকে রাষ্ট্রীয় বাহিনীর ওপর দোষ চাপানোর এই সাজানো নাটক ফাঁস করার অপরাধে হত্যা করবে। এই জীবননাশের ভয় থেকেই তিনি আর কখনো প্রকাশ্যে বাংলাদেশে ফিরে আসেননি।

সার্বিক তথ্য-উপাত্ত এবং পারিপার্শ্বিক অবস্থা পর্যালোচনা করলে কল্পনা চাকমার নিখোঁজ রহস্যের পেছনে দুটি প্রধান কারণ দৃশ্যমান হয়: প্রথমত, এটি ছিল সম্পূর্ণ একটি ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সংকটের বহিঃপ্রকাশ। তৎকালীন সময়ে তার একটি ব্যক্তিগত প্রেমের সম্পর্ককে তার পরিবার ও সমাজ মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানায়, যা তাকে পারিবারিক গণ্ডি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করে।

দ্বিতীয়ত, শান্তিবাহিনী এবং তার অঙ্গ সংগঠনগুলোর তীব্র রাজনৈতিক চাপ ও কৌশল। তারা কল্পনা চাকমার এই ব্যক্তিগত নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাটিকে তৎকালীন নির্বাচনের বৈতরণী পার হতে এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি আন্তর্জাতিক মহলে ক্ষুণ্ন করতে ‘রাষ্ট্রীয় অপহরণ’ হিসেবে চালিয়ে দেয়। বর্তমানে কল্পনা চাকমার ফিরে না আসার প্রধান কারণ হলো, তিনি প্রকাশ্যে এলে শান্তিবাহিনীর তিন দশকের সাজানো মিথ্যা প্রোপাগান্ডা এবং বানোয়াট রাজনৈতিক ন্যারেটিভ সম্পূর্ণরূপে ধূলিসাৎ হয়ে যাবে।

পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূ-রাজনীতিতে ‘ভিকটিম কার্ড’ খেলার যে দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে, কল্পনা চাকমার ঘটনাটি তার অন্যতম শ্রেষ্ঠ উদাহরণ। বিভিন্ন সূত্র এবং নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রমাণ করে যে, কল্পনা চাকমা অপহৃত হননি, বরং রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত কারণে তিনি নিজেই আত্মগোপন করেছিলেন এবং বর্তমানেও তিনি সুস্থ অবস্থায় জীবনযাপন করছেন। তিন দশক ধরে চলা এই মিথ্যা প্রচারণাকে অন্ধভাবে বিশ্বাস না করে, ঘটনার পেছনের আঞ্চলিক সন্ত্রাসবাদ ও উপদলীয় হিংস্রতার সত্যকে উন্মোচন করাই এখন সময়ের দাবি।


চ্যানেল সিএইচটি

সম্পাদক : উপদেষ্টা :কামাল পারভেজ
কপিরাইট © ২০২৬ চ্যানেল সিএইচটি । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত