মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
২৮ জুলাই, ২০২৬ ঢাকা
চ্যানেল সিএইচটি

মায়ের শূন্যতা অপূরণীয়, তবু ছোট্ট প্রাপ্তির পাশে বিজিবি।



মায়ের শূন্যতা অপূরণীয়, তবু ছোট্ট প্রাপ্তির পাশে বিজিবি।

​একটি মুহূর্ত, একটি বিকট শব্দ,আর তাতেই থমকে গেল একটি পরিবারের সমস্ত স্বপ্ন। রাঙামাটির বাঘাইছড়ির সাজেক,মাচলং সড়কে গত শনিবার এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান স্থানীয় স্কুলের নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষিকা সুমতি চাকমা। এই দুর্ঘটনা কেড়ে নেয় একজন মায়ের জীবন, একজন স্ত্রীর ভালোবাসা এবং শিক্ষার্থীদের প্রিয় শিক্ষিকার স্নেহময় উপস্থিতি। মাত্র আট বছর বয়সী ছোট্ট প্রাপ্তি চাকমা মুহূর্তেই হারিয়ে ফেলে তার পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়,তার মা।

​মায়ের হাত ধরে স্কুল থেকে ফেরার অভ্যাস যার, সেই প্রাপ্তি আজ দিশেহারা। এই বেদনাবিধুর মুহূর্তে অসহায় পরিবারটির পাশে মানবিকতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

​সোমবার সকালে নিহত শিক্ষিকার স্বামী ও কন্যা প্রাপ্তি চাকমাকে মারিশ্যা ২৭ বিজিবি জোন কার্যালয়ে আমন্ত্রণ জানান জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল জাহিদুল ইসলাম জাহিদ, পিএসসি। ছোট্ট প্রাপ্তিকে স্নেহভরে বুকে জড়িয়ে নিয়ে তিনি আশ্বস্ত করেন, তুমি একা নও।

​জোন কমান্ডার আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, "একটি দুর্ঘটনা প্রাপ্তির কাছ থেকে তার মাকে কেড়ে নিয়েছে। কিন্তু আমরা চাই না এই পরিবারটি নিজেদের একা ভাবুক। বিজিবি সবসময় তাদের পাশে থাকবে। প্রাপ্তির লেখাপড়া, উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ এবং যেকোনো প্রয়োজনে আমরা সর্বাত্মক সহায়তা করব।"

​কেবল সান্ত্বনাই নয়, শোকাহত পরিবারটির আর্থিক চাপ কমাতে বিজিবি জোনের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জোন কমান্ডার নিশ্চিত করেন যে, নিহত শিক্ষিকার যাবতীয় ঋণসংক্রান্ত বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে তা মোকাবিলায় বিজিবি সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে, যাতে পরিবারটিকে কোনো আর্থিক সংকটে পড়তে না হয়।

​এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সাজেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অতুলাল চাকমা, ইউপি সদস্য বনবিহারী চাকমা, নিহত শিক্ষিকার স্বজন এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

​বিজিবির এই মানবিক উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েও স্থানীয়দের কণ্ঠে এখন একটিই সুর—সড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। সাজেক–মাচলং সড়কের ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকগুলোতে দীর্ঘদিনের অনিরাপদ অবস্থার কথা উল্লেখ করে এলাকাবাসী দাবি জানান:

​স্পিডব্রেকার নির্মাণ: ঝুঁকিপূর্ণ মোড়গুলোতে জরুরি ভিত্তিতে স্পিডব্রেকার স্থাপন।

​সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড: পর্যটকবাহী ও স্থানীয় যানবাহনের জন্য পর্যাপ্ত সতর্কতামূলক চিহ্ন স্থাপন।

​গতিসীমা নিয়ন্ত্রণ: সকল ধরনের যানবাহনের জন্য কঠোর গতিসীমা নির্ধারণ ও কার্যকর করা।

​সাজেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অতুলাল চাকমা বলেন, "সুমতি চাকমাকে আমরা আর ফিরিয়ে আনতে পারব না। তবে বিজিবি যেভাবে এই শোকাহত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে, তা মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। আমরা চাই, কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মাধ্যমে এমন হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা যেন ভবিষ্যতে আর না ঘটে।"

​পাহাড়ে সীমান্ত রক্ষা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের দুঃসময়ে বিজিবির এই অংশগ্রহণ স্থানীয়দের মাঝে গভীর শ্রদ্ধার জন্ম দিয়েছে। সবার এখন একটাই প্রত্যাশা নিরাপদ সড়ক হোক প্রতিটি মানুষের প্রাপ্য।

আপনার মতামত লিখুন

চ্যানেল সিএইচটি

মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬


মায়ের শূন্যতা অপূরণীয়, তবু ছোট্ট প্রাপ্তির পাশে বিজিবি।

প্রকাশের তারিখ : ২০ জুলাই ২০২৬

featured Image

​একটি মুহূর্ত, একটি বিকট শব্দ,আর তাতেই থমকে গেল একটি পরিবারের সমস্ত স্বপ্ন। রাঙামাটির বাঘাইছড়ির সাজেক,মাচলং সড়কে গত শনিবার এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান স্থানীয় স্কুলের নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষিকা সুমতি চাকমা। এই দুর্ঘটনা কেড়ে নেয় একজন মায়ের জীবন, একজন স্ত্রীর ভালোবাসা এবং শিক্ষার্থীদের প্রিয় শিক্ষিকার স্নেহময় উপস্থিতি। মাত্র আট বছর বয়সী ছোট্ট প্রাপ্তি চাকমা মুহূর্তেই হারিয়ে ফেলে তার পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়,তার মা।

​মায়ের হাত ধরে স্কুল থেকে ফেরার অভ্যাস যার, সেই প্রাপ্তি আজ দিশেহারা। এই বেদনাবিধুর মুহূর্তে অসহায় পরিবারটির পাশে মানবিকতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

​সোমবার সকালে নিহত শিক্ষিকার স্বামী ও কন্যা প্রাপ্তি চাকমাকে মারিশ্যা ২৭ বিজিবি জোন কার্যালয়ে আমন্ত্রণ জানান জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল জাহিদুল ইসলাম জাহিদ, পিএসসি। ছোট্ট প্রাপ্তিকে স্নেহভরে বুকে জড়িয়ে নিয়ে তিনি আশ্বস্ত করেন, তুমি একা নও।

​জোন কমান্ডার আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, "একটি দুর্ঘটনা প্রাপ্তির কাছ থেকে তার মাকে কেড়ে নিয়েছে। কিন্তু আমরা চাই না এই পরিবারটি নিজেদের একা ভাবুক। বিজিবি সবসময় তাদের পাশে থাকবে। প্রাপ্তির লেখাপড়া, উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ এবং যেকোনো প্রয়োজনে আমরা সর্বাত্মক সহায়তা করব।"

​কেবল সান্ত্বনাই নয়, শোকাহত পরিবারটির আর্থিক চাপ কমাতে বিজিবি জোনের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জোন কমান্ডার নিশ্চিত করেন যে, নিহত শিক্ষিকার যাবতীয় ঋণসংক্রান্ত বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে তা মোকাবিলায় বিজিবি সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে, যাতে পরিবারটিকে কোনো আর্থিক সংকটে পড়তে না হয়।

​এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সাজেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অতুলাল চাকমা, ইউপি সদস্য বনবিহারী চাকমা, নিহত শিক্ষিকার স্বজন এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

​বিজিবির এই মানবিক উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েও স্থানীয়দের কণ্ঠে এখন একটিই সুর—সড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। সাজেক–মাচলং সড়কের ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকগুলোতে দীর্ঘদিনের অনিরাপদ অবস্থার কথা উল্লেখ করে এলাকাবাসী দাবি জানান:

​স্পিডব্রেকার নির্মাণ: ঝুঁকিপূর্ণ মোড়গুলোতে জরুরি ভিত্তিতে স্পিডব্রেকার স্থাপন।

​সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড: পর্যটকবাহী ও স্থানীয় যানবাহনের জন্য পর্যাপ্ত সতর্কতামূলক চিহ্ন স্থাপন।

​গতিসীমা নিয়ন্ত্রণ: সকল ধরনের যানবাহনের জন্য কঠোর গতিসীমা নির্ধারণ ও কার্যকর করা।

​সাজেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অতুলাল চাকমা বলেন, "সুমতি চাকমাকে আমরা আর ফিরিয়ে আনতে পারব না। তবে বিজিবি যেভাবে এই শোকাহত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে, তা মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। আমরা চাই, কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মাধ্যমে এমন হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা যেন ভবিষ্যতে আর না ঘটে।"

​পাহাড়ে সীমান্ত রক্ষা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের দুঃসময়ে বিজিবির এই অংশগ্রহণ স্থানীয়দের মাঝে গভীর শ্রদ্ধার জন্ম দিয়েছে। সবার এখন একটাই প্রত্যাশা নিরাপদ সড়ক হোক প্রতিটি মানুষের প্রাপ্য।


চ্যানেল সিএইচটি

সম্পাদক : এইচ এ আব্দুর রউফ, উপদেষ্টা : কামাল পারভেজ
কপিরাইট © ২০২৬ চ্যানেল সিএইচটি । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত