রাঙ্গামাটি শহরের হোটেল সোনার বাংলা সম্মুখ সড়কে সিএনজি চালিত অটোরিকশার ধাক্কায় মো. হান্নান মোল্লা (৬৫) নামে এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত মো. হান্নান মোল্লা রাঙ্গামাটি জেলার বরকল উপজেলার এরাবুনিয়া এলাকার বাসিন্দা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সন্ধ্যার দিকে মো. হান্নান মোল্লা হোটেল সোনার বাংলা সম্মুখ সড়ক দিয়ে রাস্তা পার হচ্ছিলেন। এ সময় রিজার্ভ বাজার থেকে ছেড়ে আসা রাঙ্গামাটি-থ-১১-০৫৩৩ নম্বরের একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশা তাঁকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি মাথা ও পায়ে গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হন।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে মো. হান্নান মোল্লাকে মৃত ঘোষণা করেন।
দুর্ঘটনায় জড়িত সিএনজি চালিত অটোরিকশাটির চালক হলেন শহিদুল ইসলাম (২৪)। তিনি গোলাপ মাঝির ছেলে। তাঁর ঠিকানা রাঙ্গামাটি শহরের এসপি অফিস সংলগ্ন এলাকা, থানা-কোতোয়ালি, জেলা-রাঙ্গামাটি।
এদিকে দুর্ঘটনার পর সিএনজি অটোরিকশার চালক শহিদুল ইসলামকে আটক করেছে রাঙ্গামাটি কোতোয়ালি থানা পুলিশ।
কোতোয়ালি থানা পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তদন্ত করা হয়নি। তদন্ত শেষে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হবে।
সড়কে গতি নিয়ন্ত্রণে স্পিড ব্রেকারের দাবি
এদিকে দুর্ঘটনার পর হোটেল সোনার বাংলা সম্মুখ সড়কের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা জানান, গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন সিএনজি অটোরিকশা, মোটরসাইকেল, ব্যক্তিগত গাড়িসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করে। অনেক সময় যানবাহনগুলো দ্রুতগতিতে চলাচল করায় পথচারীদের রাস্তা পারাপারে ঝুঁকির সৃষ্টি হয়।
সড়কটির আশপাশে রয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড, রাঙ্গামাটি পুলিশ সুপারের কার্যালয়, রাঙ্গামাটি সরকারি মহিলা কলেজ, অগ্রণী ব্যাংক, চেম্বার অব কমার্সসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। এছাড়া সড়কের পাশে রয়েছে একাধিক হোটেল-মোটেল, দোকানপাট, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, আবাসিক ভবন ও অন্যান্য স্থাপনা।
ফলে প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে বিপুলসংখ্যক পথচারী ও শিক্ষার্থী চলাচল করেন। বিশেষ করে শিশু, শিক্ষার্থী ও বয়স্ক ব্যক্তিদের সড়ক পারাপারের সময় বেশি সমস্যায় পড়তে হয় বলে স্থানীয়রা জানান।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কটির আশপাশে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান থাকায় এখানে সবসময় মানুষের চলাচল থাকে। কিন্তু যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় প্রায়ই দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়। এর আগেও এ সড়কে ছোট-বড় বিভিন্ন দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি তাদের।
স্থানীয়রা বলেন, শুধু দুর্ঘটনা ঘটার পর ব্যবস্থা নেওয়া নয়, দুর্ঘটনা প্রতিরোধে আগে থেকেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে ব্যস্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ অংশে স্পিড ব্রেকার স্থাপন, সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন, পর্যাপ্ত পরিমাণে সড়ক বাতি ব্যবস্থা এবং যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন।
তাদের দাবি, হোটেল সোনার বাংলা সম্মুখ সড়কসহ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করলে পথচারী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
সড়কটিতে ভবিষ্যতে আরও প্রাণহানি রোধে দ্রুত গতি নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা ও প্রয়োজনীয় সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রাঙ্গামাটি শহরের হোটেল সোনার বাংলা সম্মুখ সড়কে সিএনজি চালিত অটোরিকশার ধাক্কায় মো. হান্নান মোল্লা (৬৫) নামে এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত মো. হান্নান মোল্লা রাঙ্গামাটি জেলার বরকল উপজেলার এরাবুনিয়া এলাকার বাসিন্দা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সন্ধ্যার দিকে মো. হান্নান মোল্লা হোটেল সোনার বাংলা সম্মুখ সড়ক দিয়ে রাস্তা পার হচ্ছিলেন। এ সময় রিজার্ভ বাজার থেকে ছেড়ে আসা রাঙ্গামাটি-থ-১১-০৫৩৩ নম্বরের একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশা তাঁকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি মাথা ও পায়ে গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হন।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে মো. হান্নান মোল্লাকে মৃত ঘোষণা করেন।
দুর্ঘটনায় জড়িত সিএনজি চালিত অটোরিকশাটির চালক হলেন শহিদুল ইসলাম (২৪)। তিনি গোলাপ মাঝির ছেলে। তাঁর ঠিকানা রাঙ্গামাটি শহরের এসপি অফিস সংলগ্ন এলাকা, থানা-কোতোয়ালি, জেলা-রাঙ্গামাটি।
এদিকে দুর্ঘটনার পর সিএনজি অটোরিকশার চালক শহিদুল ইসলামকে আটক করেছে রাঙ্গামাটি কোতোয়ালি থানা পুলিশ।
কোতোয়ালি থানা পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তদন্ত করা হয়নি। তদন্ত শেষে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হবে।
সড়কে গতি নিয়ন্ত্রণে স্পিড ব্রেকারের দাবি
এদিকে দুর্ঘটনার পর হোটেল সোনার বাংলা সম্মুখ সড়কের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা জানান, গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন সিএনজি অটোরিকশা, মোটরসাইকেল, ব্যক্তিগত গাড়িসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করে। অনেক সময় যানবাহনগুলো দ্রুতগতিতে চলাচল করায় পথচারীদের রাস্তা পারাপারে ঝুঁকির সৃষ্টি হয়।
সড়কটির আশপাশে রয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড, রাঙ্গামাটি পুলিশ সুপারের কার্যালয়, রাঙ্গামাটি সরকারি মহিলা কলেজ, অগ্রণী ব্যাংক, চেম্বার অব কমার্সসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। এছাড়া সড়কের পাশে রয়েছে একাধিক হোটেল-মোটেল, দোকানপাট, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, আবাসিক ভবন ও অন্যান্য স্থাপনা।
ফলে প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে বিপুলসংখ্যক পথচারী ও শিক্ষার্থী চলাচল করেন। বিশেষ করে শিশু, শিক্ষার্থী ও বয়স্ক ব্যক্তিদের সড়ক পারাপারের সময় বেশি সমস্যায় পড়তে হয় বলে স্থানীয়রা জানান।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কটির আশপাশে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান থাকায় এখানে সবসময় মানুষের চলাচল থাকে। কিন্তু যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় প্রায়ই দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়। এর আগেও এ সড়কে ছোট-বড় বিভিন্ন দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি তাদের।
স্থানীয়রা বলেন, শুধু দুর্ঘটনা ঘটার পর ব্যবস্থা নেওয়া নয়, দুর্ঘটনা প্রতিরোধে আগে থেকেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে ব্যস্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ অংশে স্পিড ব্রেকার স্থাপন, সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন, পর্যাপ্ত পরিমাণে সড়ক বাতি ব্যবস্থা এবং যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন।
তাদের দাবি, হোটেল সোনার বাংলা সম্মুখ সড়কসহ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করলে পথচারী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
সড়কটিতে ভবিষ্যতে আরও প্রাণহানি রোধে দ্রুত গতি নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা ও প্রয়োজনীয় সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

আপনার মতামত লিখুন