বান্দরবানের থানচি সদর থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরে মিয়ানমার সীমান্তসংলগ্ন দুর্গম জনপদ বড় মদক। বর্তমানে গোটা এলাকা জুড়ে ডায়রিয়ার মারাত্মক প্রকোপ দেখা দিলেও থামছে না মানুষের দুর্ভোগ। ঘরে ঘরে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন শিশু থেকে শুরু করে বয়স্করা। পাহাড়ি এই জনপদের মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় কষ্টের বিষয় হলো, পুরো এলাকায় চিকিৎসার জন্য ন্যূনতম একটিও স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা কমিউনিটি ক্লিনিক নেই।
সামান্য চিকিৎসা বা একটু ঔষুধের জন্য এখানকার মানুষজনকে পাড়ি দিতে হয় দুর্গম ৭০ কিলোমিটার পথ। পাহাড়ি অঞ্চলের এই সাধারণ মানুষগুলো কি এভাবেই চিকিৎসাবঞ্চিত ও অবহেলায় দিন কাটাবেন? এই প্রশ্ন তুলে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বড় মদকের অসুস্থ মানুষগুলোর পাশে দাঁড়ানোর আকুতি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
নিয়ম অনুযায়ী পার্বত্য জেলা পরিষদগুলোর হাতে স্বাস্থ্য বিভাগসহ গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু সেবামূলক খাত ন্যস্ত রয়েছে। এছাড়া কার্যকর রয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ এবং আলাদা একটি মন্ত্রণালয় হিসেবে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড। বাংলাদেশের কোনো জেলার জন্য আলাদা কোনো মন্ত্রণালয় নেই। শুধু পাহাড়ের মানুষের কথা বিবেচনা করে পাহাড়ে উন্নয়নের জন্য তৈরি করা হয়েছে এই মন্ত্রণালয়। এছাড়া বিভিন্ন এনজিও জেলা পরিষদের মাধ্যমে সেবা প্রদান করছে পাহাড়ে স্বাস্থ্য ও জনকল্যাণ খাতের এত বিশাল বরাদ্দ ও সংস্থা থাকার পরও সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সেবা কেন পৌঁছায় না, সেই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে পাহাড়বাসীর মনে। এই দায় কোনোভাবেই স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংসদ সদস্যরা এড়াতে পারেন না।
এদিকে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জন্য মোট ১ হাজার ৪৫৭ কোটি ৮২ হাজার টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে পরিচালন খাতে ৪৯২ কোটি ৩৬ লাখ ৮২ হাজার টাকা এবং উন্নয়ন খাতে ৯৬৪ কোটি ৬৪ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। প্রতিবছর পাহাড়ের সার্বিক উন্নয়ন ও জনকল্যাণে হাজার কোটি টাকার ওপরে বরাদ্দ দেওয়া হলেও বড় মদকের মতো প্রান্তিক জনপদের মানুষ কেন ডায়রিয়ার মতো সাধারণ রোগে চিকিৎসাহীনতায় ধুঁকবে সেই সুনির্দিষ্ট হিসেব ও জবাবদিহি জানতে চায় পাহাড়ের অবহেলিত মানুষ।

সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ অক্টোবর ২০২৬
বান্দরবানের থানচি সদর থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরে মিয়ানমার সীমান্তসংলগ্ন দুর্গম জনপদ বড় মদক। বর্তমানে গোটা এলাকা জুড়ে ডায়রিয়ার মারাত্মক প্রকোপ দেখা দিলেও থামছে না মানুষের দুর্ভোগ। ঘরে ঘরে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন শিশু থেকে শুরু করে বয়স্করা। পাহাড়ি এই জনপদের মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় কষ্টের বিষয় হলো, পুরো এলাকায় চিকিৎসার জন্য ন্যূনতম একটিও স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা কমিউনিটি ক্লিনিক নেই।
সামান্য চিকিৎসা বা একটু ঔষুধের জন্য এখানকার মানুষজনকে পাড়ি দিতে হয় দুর্গম ৭০ কিলোমিটার পথ। পাহাড়ি অঞ্চলের এই সাধারণ মানুষগুলো কি এভাবেই চিকিৎসাবঞ্চিত ও অবহেলায় দিন কাটাবেন? এই প্রশ্ন তুলে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বড় মদকের অসুস্থ মানুষগুলোর পাশে দাঁড়ানোর আকুতি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
নিয়ম অনুযায়ী পার্বত্য জেলা পরিষদগুলোর হাতে স্বাস্থ্য বিভাগসহ গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু সেবামূলক খাত ন্যস্ত রয়েছে। এছাড়া কার্যকর রয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ এবং আলাদা একটি মন্ত্রণালয় হিসেবে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড। বাংলাদেশের কোনো জেলার জন্য আলাদা কোনো মন্ত্রণালয় নেই। শুধু পাহাড়ের মানুষের কথা বিবেচনা করে পাহাড়ে উন্নয়নের জন্য তৈরি করা হয়েছে এই মন্ত্রণালয়। এছাড়া বিভিন্ন এনজিও জেলা পরিষদের মাধ্যমে সেবা প্রদান করছে পাহাড়ে স্বাস্থ্য ও জনকল্যাণ খাতের এত বিশাল বরাদ্দ ও সংস্থা থাকার পরও সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সেবা কেন পৌঁছায় না, সেই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে পাহাড়বাসীর মনে। এই দায় কোনোভাবেই স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংসদ সদস্যরা এড়াতে পারেন না।
এদিকে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জন্য মোট ১ হাজার ৪৫৭ কোটি ৮২ হাজার টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে পরিচালন খাতে ৪৯২ কোটি ৩৬ লাখ ৮২ হাজার টাকা এবং উন্নয়ন খাতে ৯৬৪ কোটি ৬৪ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। প্রতিবছর পাহাড়ের সার্বিক উন্নয়ন ও জনকল্যাণে হাজার কোটি টাকার ওপরে বরাদ্দ দেওয়া হলেও বড় মদকের মতো প্রান্তিক জনপদের মানুষ কেন ডায়রিয়ার মতো সাধারণ রোগে চিকিৎসাহীনতায় ধুঁকবে সেই সুনির্দিষ্ট হিসেব ও জবাবদিহি জানতে চায় পাহাড়ের অবহেলিত মানুষ।

আপনার মতামত লিখুন